শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৩৩ অপরাহ্ন

বীরাঙ্গনা স্বীকৃতি নিতে জালিয়াতির দায়ে মহিলা আ’লীগ নেত্রী বহিস্কার

মিলন রায়হান, জয়পুরহাট
  • আপডেট টাইম: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৫১ বার পঠিত

জয়পুরহাটে সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, সদর উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান আছমা বিবি বয়স, জন্ম নিবন্ধন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, জেলা-উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও ইউপি চেয়ারম্যান সহ বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র জালিয়াতি করে বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হওয়ার জন্য জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে আবেদন করায় তাকে মহিলা আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে জয়পুরহাট প্রেসক্লাবে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেবেকা সুলতানা ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবা বেগম নায়লা উপস্থিত হয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের এ বিষয় নিশ্চিত করেছেন।

লিখিত বক্তব্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আছমা বিবি জাতীয় পরিচয়পত্র হিসেবে ১৯৭১ সালে তার বয়স ৮ বছর ৩ মাস থাকলেও তিনি নিজেকে সে সময় ২১ বছরের একজন তরুণী দাবি করে বীরাঙ্গনা স্বীকৃতি চেয়ে ২০১৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) মহা-পরিচালক বরাবর আবেদন করেন। আবেদনের পর সদর উপজেলায় কর্মরত ৫ সদস্যের সরকারি নারী কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহবায়ক উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাহনাজ সিগমা নির্ধারিত ফরম পূরণ করে ২৪ জুন প্রতিবেদন জমা দেন এবং আছমা বিবিকে বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করার জন্য সুপারিশ করেন।

পরে বিষয়টি জানাজানি হলে মুক্তিযোদ্ধাসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া ও প্রবাদের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে জয়পুরহাট পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজম আলী এসব অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জয়পুরহাট জেলা প্রশাসকের নিকট একটি অভিযোগ করেন।

অভিযোগকারী আওয়ামী লীগ নেতা আজম আলী বলেন, আবেদন পত্রের সঙ্গে আছমা বিবির যে বয়স, জন্ম নিবন্ধন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, জেলা-উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও ইউপি চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র সংযুক্ত করেছেন, সেগুলোতে জাল জালিয়াতি দেখা যায়। এজন্য তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ডিসি বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আছমা বিবি বলেন, আমি ঢাকায় আছি। আমার সকল কাগজপত্র সঠিক থাকায় আমি হাইকোর্টে রিট করেছি। আমাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে তা আমি জানি না। আমাকে না জানিয়ে কেন তারা বাদ দিল? আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য নয়, মিথ্যা, যা হচ্ছে তা ষড়যন্ত্রমূলক।

জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস.এম সোলায়মান আলী বলেন, আছমার জাল জালিয়াতির তথ্য ফাঁস হওয়ার পর বিষয়টি আওয়ামীলীগের সহযোগি সংগঠন মহিলা আওয়ামী লীগ আমাদেরকে অবগত করে এবং তারা গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রাথমিক সদস্যপদ ও তাকে তার পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে।

জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক মোঃ শরীফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলছেন তার জন্ম নিবন্ধন নথিতে নেই এবং যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও বলছেন তাদের রেজিস্টারে নেই। এজন্য উপজেলা নিবার্হী অফিসারকে পূর্ণ তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ