মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৯:০১ পূর্বাহ্ন

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম: ২১ অক্টোবর, ২০২০
  • ৮৫ বার পঠিত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় নিরাপদ সড়ক-২০২০ উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন :

‘‘দেশে চতুর্থ বারের মতো ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস’ উদ্‌যাপন করা হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এ উপলক্ষ্যে দেশবাসীকে আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য-মুজিববর্ষের শপথ, সড়ক করবো নিরাপদ’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে মনে করি।

মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দ্বারা দেশের অধিকাংশ সড়ক অবকাঠামোসহ সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রের পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। ধ্বংসপ্রাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থাকে স্বল্প সময়ের মধ্যে সংস্কার ও পুনঃনির্মাণ করে তিনি একটি শক্তিশালী যোগাযোগ ব্যবস্থার সূচনা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় সড়ক-মহাসড়ক অবকাঠামো নির্মাণ ও বাস্তবায়ন করে সড়ক পরিবহনের ক্ষেত্রে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়েছে। আমাদের সরকারের আমলে মহাসড়কের নেটওয়ার্ক ২১,৩০২.০৮ কিলোমিটারে উন্নীত হয়েছে। ৪৫৩.০৭ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক ৪ লেনে ও তদূর্ধ্ব লেনে উন্নীত করা হয়েছে। ১২০৯টি সেতু ও ৫৫৮১টি কালভার্ট নির্মাণ/পুনঃনির্মাণ, ১৮টি ফ্লাইওভার/ওভারপাস ও ২৭টি আন্ডারপাস নির্মাণ করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকার রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে পরিবহনখাতকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও অগ্রাধিকার নিরূপণ ব্যবস্থা জোরদার, বিভিন্ন পরিবহন ব্যবস্থার মধ্যে আন্তঃভারসাম্য রক্ষা, সময় সাশ্রয়ী বিদ্যুৎচালিত আরবান মাস ট্রানজিট/মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক চালু, পরিবহন সেবার মান নিশ্চিতকরণ, আধুনিক পরিবহন সুবিধাদির বাস্তবায়ন ইত্যাদি কৌশলকে এই রূপকল্পে প্রাধান্য দিয়েছি। সড়ক দুর্ঘটনাজনিত জীবন ও সম্পদের ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে সড়ক নিরাপত্তামূলক কর্মকাণ্ড জোরদার করা অপরিহার্য। এজন্য আমরা মহাসড়ক ৪ লেন বা তদূর্ধ্ব লেনে উন্নীতকরণ, ফ্লাইওভার এবং ওভারপাস নির্মাণ, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান, দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করে এর প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, করিডোর উন্নয়নসহ ট্রাফিক সাইন ও রোড মার্কিং স্থাপন, মহাসড়কের পাশে বিশ্রামাগার নির্মাণ, চালকদের প্রশিক্ষণসহ নানামুখী উদ্যোগ ও কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঢাকা-আরিচা জাতীয় মহাসড়কের বিভিন্ন ঝুকিপূর্ণ বাঁক সরলীকরণ করা হয়েছে। এছাড়া সারা দেশের মহাসড়কে ১৪৪টি ব্ল্যাকস্পট চিহ্নিত করে ১২১টি নিরসন করা হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধ তথা সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সরকারের পাশাপাশি পরিবহন মালিক, শ্রমিক, যাত্রী, পথচারী ও সংশ্লিষ্ট সকলকে স্ব-স্ব অবস্থান থেকে একযোগে কাজ করতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা রোধ করতে পারব অনাকাঙ্খিত সড়ক দুর্ঘটনা। সড়ক নিরাপত্তাকল্পে সংশ্লিষ্ট সকলে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাবেন-এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।

আমি ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২০’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।

 

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু

বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।’’

 

ইন্দোবাংলা/সিকে

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ