মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন

কিশোরগঞ্জে প্রতারকের ভূমিকায় সঃপ্রাঃ স্কুল শিক্ষক রশিদুল মাস্টার

ইন্দোবাংলা ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: ১৮ নভেম্বর, ২০২০
  • ৬৪ বার পঠিত

কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি ঃঃনীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার “উত্তর বড়ভিটা চন্দনপাঠ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়”-এর সহকারী শিক্ষক মোঃ রশিদুল ইসলাম পারিবারিক কারণে জলঢাকা পৌরসভায় বাড়ী, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ ও মেয়ের বিয়ে দেয়ার জন্য জরুরী টাকার দরকারহেতু বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাওলাদ গ্রহণ করেন। হাওলাদ গ্রহণের স্বপক্ষে হাওলাদী টাকা পরিশোধের জন্য রশিদুল ইসলাম তাহার নামে পরিচালিত বিভিন্ন ব্যাংকের চেকের পাতায় টাকার পরিমান লিখে স্বাক্ষর করে দেন। হাওলাদ প্রদানকারীর যাতে সমস্যা না হয় সে জন্য চেকের স্বপক্ষে নন জুডিসিয়াল স্টাম্পে চুক্তিপত্র ও অঙ্গিকার নামা লিখে স্বাক্ষর ও টিপসহি করে দেন।

জানা যায়, পরবর্তীতে উক্ত হাওলাদী টাকা পরিশোধের জন্য টালবাহানা শুরু করে। আজ দেবো, কাল দেবো, জমি বিক্রি হলে দেবো। আমার জলঢাকা পৌরসভার বাড়ী বিক্রি হলে দেবো। আমার সরকারী চাকুরী বিলের লোন ৯% সুদে ২০ লক্ষ টাকা ঋণ পাচ্ছি । ঋণটা পেলেই টাকা পরিশোধ করে দিবো। শেষে বলে আমি ব্যাংক চেক দিয়েছি আপনি টাকা তুলে নেন ইত্যাদি ইত্যাদি। রশিদুল ইসলামের কথামতো অগ্যতা হাওলাদ প্রদানকারীরা নিরুপায় হইয়া ব্যাংক চেকের পাতাটি নগদায়নের জন্য ব্যাংকে জমা প্রদান করিলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যাচাই করে ডিসওনার স্লীপ প্রদান করেন। অত:পর হাওলাদ প্রদানকারীরা স্ব-স্ব আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করেন। যথাসময়ে এন.আই.এক্টের ১৩৮ ধারা মোতাবেক বিজ্ঞ আমলী আদালতে মোকদ্দমা অনায়ন করেন।

প্রথম পাওনাদার মোঃ শহিদুল ইসলাম টাকার পরিমান ১২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। মামলা নং- সি.আর ২২৫/১৯ জলঢাকা এস.সি-৫১/২০, মামলার তারিখ- ২৭/১০/২০১৯ইং। উক্ত মামলার (কাউন্টার মামলা) প্রটেক্ট হিসেবে রশিদুল ইসলাম তার ছেলে-মেয়ে ও ভাইকে স্বাক্ষী করে স্ত্রী রনজিনা আফরোজাকে দিয়ে ২ হাজার সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- পি: ৩২৫/১৯ তাং- ১৮/১১/১৯ইং।

দ্বিতীয় পাওনাদার মোছাঃ কাজুলী বেগম টাকার পরিমান ৮ লক্ষ। মামলা নং- সি.আর ১৭/২০, তাং- ২৭/১২/১৯ ইং।

তৃতীয় পাওনাদার মোঃ জয়নাল আবেদীন টাকার পরিমান ১২ লক্ষ। মামলা নং- সি.আর ৯২/২০, তাং- ০৫/১০/২০ইং।

চতুর্থ পাওনাদার শরিফুল ইসলাম মোকদ্দমা অনায়ন করার পূর্বেই রশিদুল ইসলাম ৪২০/৪০৬/৫০৬ ধারায় মিথ্যা মামলা অনায়ন করেন। মামলা নং- ০৫, তাং- ২৫/০৭/২০ইং।

 

পঞ্চম পাওনাদার ঢাকায় চাকুরীরত মোঃ আব্দুল হাকিম টাকার পরিমান ৫ লক্ষ। ঢাকা জর্জ কোর্ট মামলা নং- ২৭/২০, তাং- ১১/১০/২০ইং।

 

ষষ্ঠ পাওনাদার মোঃ মিজানুর রহমান টাকার পরিমান ৮ লক্ষ। মামলা ং- সি.আর ৮৯/২০, তাং- ২০/১০/২০ইং। আরো আছে।

জানা যায়, রশিদুুুল মাস্টারের কাজ থেকে পাওনা টাকা উদ্ধারের জন্য ৬ টি মোকদ্দমা আদালতে বিচারাধীন। আরো কয়েকজন তাদের পাওনা টাকা উদ্ধারের জন্য আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

 

এ ব্যাপারে রশিদুল ইসলাম মাস্টার জানান, আমি টাকা নিয়েছি সত্য। ব্যাংক চেক ও স্টাম্প লিখিত দিয়েছি পরিশোধ করে দেবার জন্য। কিন্তু তারা আমার বিরুদ্ধে আদালতের আশ্রয় নেয়ায় মামলার প্রটেক্ট হিসেবে আইনজীবীর পরামর্শে মিথ্যা মামলা দিয়েছি। যা পুলিশ প্রশাসন সত্য হিসেবে একশনে আছে। আইন এখন আমার পক্ষে।

এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ থানা এস.আই আনোয়ার হোসেনের সাথে কথা হলে জানান, রশিদুল ইসলাম আদালতে পিটিশন মামলা করেছেন। মামলার তদন্ত চলছে। মামলার বিষয় জানতে চাইলে জানান, ফাঁকা চেক ও স্টাম্পে স্বাক্ষর ও টিপসহি নিয়ে ৮০ হাজার টাকা নিয়েছেন। যথাসময়ে পরিশোধ করে দেবার পর ও রশিদুলকে চেক ও স্টাম্প ফেরত দেন নাই চেক ও স্টাম্প উদ্ধারের জন্য। তার কাছে পিটিশন মামলার ফটোকপি চাইলে জানান, আদালতের কাগজপাতি দেয়া যাবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ