মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন

প্রধানমন্ত্রীর মাছ ধরা ও সেলাই করার ছবি ভাইরাল

ইন্দোবাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট টাইম: ২১ নভেম্বর, ২০২০
  • ৩৮ বার পঠিত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাদাসিধে জীবনের দুটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। যার একটিতে প্রধানমন্ত্রীকে মাছ শিকারের পর বড়শি হাতে এবং অন্যটিতে সেলাই মেশিনে কাপড় সেলাই করতে দেখা যাচ্ছে।

শেয়ার করা প্রথম ছবিতে দেখা যায়, টানা তিনবারের সরকার প্রধানের দায়িত্ব পালন করা শেখ হাসিনা নানা রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততার মধ্যেও চিরায়ত বাঙালি নারীর মতো গণভবনের বারান্দায় বসে সেলাই মেশিনে কাপড় সেলাই করছেন। আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী মাথায় হ্যাট পরে গণভবনের পুকুরে বড়শি দিয়ে মাছ শিকার করেছেন। সেখানে বড়শিতে ঝুলছে একটি তেলাপিয়া মাছ। প্রধানমন্ত্রী মাছটির দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।

এমন দৃশ্যের ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষকে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে মন্তব্য করতে দেখা গেছে।

আজ শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান তাঁর ফেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে দুটি ছবি শেয়ার করেন।

সেখানে সালমান ফজলুর রহমান লেখেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন পরিপূর্ণ মানুষ। প্রধানমন্ত্রী সফলভাবে ১৭ কোটি বাংলাদেশির ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন। ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমকে আশ্রয় দিয়েছেন। এত কিছুর মধ্যেও তিনি তাঁর অবসর সময়টা রান্না, মাছ ধরা আর সেলাই করে উপভোগ করেন।’

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ছবি দুটি তাঁর ফেসবুকে শেয়ার করে লেখেন, ‘আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। নানা গুণে গুণান্বিত একজন ষোল আনা বাঙালি।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তাঁর ফেসবুকে লেখেন, ‘ক্যাপশন দেবার মতো বিদ্যা আমার নাই!’

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক তাঁর ফেসবুকে লেখেন, ‘সাধারণ বাঙালি নারী আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা। নানা ব্যস্ততার মাঝে তিনি অবসর পেলেই সেলাই করেন কাপড় আর মাছ ধরতে যান গণভবনের পুকুরে। সব হারিয়ে দেশের জন্য সারাদিন কাজ করে যাওয়া এই অনন্য সাধারণ মানুষটির জন্য অনেক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা।’

একই কথা ফেসবুকে লেখেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ড. আবদুস সোবহান গোলাপ ও প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব আশরাফ সিদ্দিকী বিটু।

প্রধানমন্ত্রী উপপ্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন তাঁর ফেসবুকে লেখেন, ‘একটি সেফটি পিন। এর পাশেই টেবিলের ওপর রাখা সুতা কাটার যন্ত্র। টেবিলটা দেখেও বোঝার উপায় নেই যে এটা দেশের প্রধানমন্ত্রীর নিত্য কাজ করার একটি টেবিল। সাধারণ মানের কাঠের তৈরি এই টেবিলটির কোনো টেবিল ক্লথও নেই। চেয়ারের পিছনের কাঠগুলো খুব সাধারণ, কোনো চাকচিক্য নেই। কাঠের জোড়াগুলোতেও ছোপ ছোপ দাগ। ফার্নিশ করাও নেই। পেছনের দেয়াল, ইলেকট্রিক সুইচ কিংবা জানালার কাঠগুলোতেও কোনো চাকচিক্য নেই। আর সেলাই মেশিনের সামনে বসে যিনি কাজ করছেন, তিনিও সাধারণের মধ্যেও খুবই অসাধারণ। আমাদের মা, চাচি, খালাদের প্রতিকৃতি, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যেখানে অনেকেরই বাসার প্রতিটি আসবাবপত্র হতে হয় নামি দামি ব্র্যান্ডের কোটি টাকা খরচ করা হয় ইন্টেরিয়র ডিজাইনে। বঙ্গবন্ধু কন্যার এইসবের ব্র্যান্ডের প্রয়োজন হয় না, কারণ তিনি নিজেই একটি ব্র্যান্ড। যে ব্র্যান্ড কোনো দাম দিয়ে কেনা যায় না।

সত্যিই একটি ছবি হাজার শব্দের চেয়েও বেশি শক্তিশালী। আমাদের সাবেক একজন প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়ার বাসার ভেতরের কিছু ছবিও পত্রিকার কল্যাণে দেখেছিলাম। ওই ছবিগুলোও দিয়ে দিলাম। এটা কোনো তুলনা নয়। বিলাসী জীবন আর সাধারণ জীবনযাপনের পার্থক্য বোঝানোর জন্য দিলাম।’

ছবি দুটি শেয়ার করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ সাকীব বাদশাও। তিনি লিখেন, ‘হাজার ব্যস্ততার মাঝেও আপা।’

এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা তাঁর মাছ ধরার কথা জানান। ফখরুল ইমাম তাঁর প্রশ্নে বলেছিলেন, ‘ঘুম থেকে ওঠার পর আমরা অনেক কিছু দেখি বা অনেক কিছুই জানি। ঘুম থেকে ওঠার পর শিশুরা মা খোঁজে, যুবকেরা বউ খোঁজে, আমি মোবাইল খুঁজি, আর তা দেখে আমার মা ঝাড়ু ঝাড়ে, ঝাড়ু খোঁজে। আমার প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী ঘুম থেকে উঠে কী খুঁজেন?’

এর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সকালে ঘুম ভাঙার পর আগে জায়নামাজ খুঁজি। নামাজ পড়ি। তারপর কোরআন তিলাওয়াত করি। তারপর সকালের নিজের চা-টা নিজে বানিয়ে খাই। আমার ছোট বোন রেহানা আছে। যে আগে উঠে, সে চা বানায়। এখন আমার মেয়ে পুতুলও রয়েছে। সেও যদি ঘুম থেকে আগে ওঠে, তাহলে সেও চা বানায়। তার আগে নিজের বিছানাটা গুছিয়ে রাখি নিজের হাতে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘এখন তো করোনাকালে নামাজ পড়ে, চা খেয়ে বই-টই পড়ার থাকলে পড়ি। আর একটু হাঁটাহাঁটি করি। গণভবনে একটা লেক আছে। সেই লেকের পাশে বসে ছিপ দিয়ে মাছ ধরি।’ সুত্র: এনটিভি।

ইন্দোবাংলা/সি. কে

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ