রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১, ০৩:১২ পূর্বাহ্ন

কিশোরগঞ্জ-বড়ভিটা সড়কে অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচলে পথচারীদের যেন মৃত্যু ফাঁদ হয়েছে!

রউফুল আলম
  • আপডেট টাইম: ৭ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৭৪ বার পঠিত

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার (কিশোরগঞ্জ-বড়ভিটা) সড়কে প্রতিনিয়তই অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচলে পথচারীরা দূর্ঘটনার কবলে পড়ছে।

এ সড়কটিতে প্রতিদিন বড় ট্রলি,ভটভটি,মাহিন্দ্রা, ইজিবাইক,মটর চালিত ভ্যান দ্রুত গতিতে চালায়। রাস্তাটি একদম গ্রামের মধ্য দিয়ে গেলেও জনগুরুত্বপূর্ণ হলেও রাস্তার চওড়া কম থাকা সত্বেও দ্রুত গতিতে বিশেষ করে বড় ট্রলিগুলো ইট বোঝাই গাড়ি নিয়ে চলাচল করছে। রাস্তা ছোট হওয়ায় একটি বড় ট্রলি আরেকটি বড় ট্রলিকে ক্রোস করা কিংবা ওভারটেক করা অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। এসব ট্রলির নেই দ্রুত ব্রেক ধরার ব্যবস্থা। ফলে দ্রুত চলাচলে বিপদের আসঙ্কা সবচেয়ে বেশি। যেন বিপদ ঘাঁড়ে নিয়েই পথ চলছে পথচারীরা।

জানা যায়,সম্প্রতিককালে অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যার দিকে যান চলাচলের গতিবিধি অনিয়ন্ত্রনের ফলে উপজেলার বাজেডুমুরিয়া নয়াবাড়ির বাসিন্দা মোঃ আব্দুল বারিক মিয়া সড়ক দূর্ঘটনায় মারা গিয়াছে। এমন অনেক লোক প্রতিনিয়তই এই ভয়ঙ্কর আতঙ্কিত রোডটিতে দূর্ঘটনায় আহত হচ্ছে।

উপজেলার গদা উত্তর জুম্মাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আফিজার রহমান ওরফে অফিসার এই রোডটিতে মটর চালিত ভ্যান-ইজিবাইকের মধ্যে সংঘর্ষে মারাত্বকভাবে আহত হয়ে রংপুরের একটি বেসরকারী মেডিকেলে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে একদম কোন রকমে হাটা চলাচল করছে। এমন ছোট-বড় দূর্ঘটনা প্রতিদিনের চিত্র এই সড়কের এটা এলাকাবাসীর দাবী।

অনুসন্ধানে জানা যায়,এই সড়কটির ধারে কাছে গাঁ ঘেঁসে অনেক দোকানপাট আছে। যার ফলে পাড়া মহল্লার লোকজন ওই সব দোকানে চা আড্ডায় মেতে ওঠে। অনেক দোকানে ক্রেতা মনোঃরঞ্জনের জন্য রয়েছে রঙ্গিন টিভি দেখার সু-ব্যবস্থা সহ সাউন্ড বক্সে গান শোনার ব্যবস্থা। সম্প্রতিক থার্টি ফাস্ট নাইটের নামে ডিসেম্বরের শেষের দিকে সকাল-সন্ধা এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত বাজানা হয় লাউড স্পিকারে শালিন-অশালিন গান। তাতে এলাকাবাসির রাতের ঘুম,সময় মত নামাজ আদায় করা সহ নানান অসুবিধা হচ্ছে।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায় যে,ইজিবাইকগুলোর নেই ডানপাশে লোহার পাত দ্বারা বেষ্টিত। যাত্রীরা অনায়াসেই ডান-বাম সাইড দিয়ে উঠা-নামা করছে। যত্রতত্র ইজিবাইকে উভয় পাশ দিয়ে যাত্রীদের উঠা-নামার ফলে যাত্রীরা প্রতিনিয়তই দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এ সড়কটি দিয়ে কিশোরগঞ্জে আসতে সদর ইউনিয়নের গদা,মধ্যরাজীব, মধ্যরাজীব চেংমারী,
বাজেডুমুরিয়া গ্রামের লোকজন বেশি চলাচল করে। অত্র এলাকার অধিকাংশ স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলে-মেয়েদের এই সড়কেই যাতায়াতের মাধ্যম। ফলে বাচ্চাদের অবিভাবকরাও বিষয়টি নিয়ে শঙ্কিত।

গদা ও বাজেডুমুরিয়ার কিছু অংশে সড়কটির পাশে ধাইজান নদী থাকাতে সড়কের ভাঙ্গন বা ফাটল অবস্থার আসঙ্কা থাকা সত্বেও বড় ট্রলিগুলো দিন-রাত অবধি চলাচল করছে ভারী জিনিসপত্র বা মালামাল নিয়ে।

বড় ট্রলি গুলোতে রংপুরের তারাগঞ্জ,নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে ইটভাটা হতে ইট নিয়ে আসে। যত তারাতারি ইট পৌছাতে পারবে ক্রেতার বাসায় তত বেশি খ্যাপ হবে ফলে অটোমেটিকভাবে গাড়ির গতি থাকে বেশি। এসব ট্রলি রাস্তায় যে গতিতে চলে তাতে ছোট ছোট যানবাহন যেমন,বাইসাইকেল,ভ্যান,ইজিবাইক, মোটরসাইকেল,রিক্সা দ্রুত ভয়ে এদের সাইড দেয় আর মনে করে এই বুঝি এক্সিডেন্ট হলো। সড়কটি একদম গ্রামের মধ্য দিয়ে গেলেও এসব যান চলাচলে ড্রাইভারদের নেই কোন সতর্কতা। যেন কোন তোয়াক্কা বা নিয়ম মানছেই না।

জেলা বা উপজেলা প্রসাশনের কাছে এলাকাবাসীর দাবী,সড়কটিতে দূর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত অনিয়মতান্ত্রিক যান চলাচল সহ সামগ্রিক সমস্যার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহনে আইন অমান্যকারী গাড়ির ড্রাইভারদের অনতিবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ