বুধবার, ২৭ মে ২০২০, ০১:২৪ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট :

শার্শা উপজেলা প্রশাসনের সৎ ও কর্মদক্ষ কর্মকর্তা খোরশেদ আলম চৌধুরী তরুণদের আইকন

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ২৫১ বার পঠিত

আরিফুজ্জামান আরিফ : সাধারণত জাতির মেধাবী সন্তানেরাই ক্যাডার সার্ভিসের অধীনে কর্মকর্তা হয়। এই মেধাবী মানুষগুলোর হাতে থাকে অনেক ক্ষমতা ও সুযোগ, যার সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে জাতির কল্যাণ সাধিত হয়।

সমাজের কল্যাণ বয়ে আনতে বা গড়তে তাদের আছে অনেক কিছু করার সুযোগ তবে দু-একজন ব্যতিক্রমীও হয়ে থাকে।

আমাদের সমাজে এমন কিছু মানুষ উদ্ভাসিত হয়, যারা কর্মে, মেধায় ও মানসিকতায় সমাজকে এমনভাবে আলোকিত করেন যা মানুষ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। সমাজকে আলোকিত করতে গিয়ে নিজেরাও হয়ে ওঠেন আলোকিত মানুষ। তেমনি একজন কর্মকর্তা শার্শা উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খোরশেদ আলম চৌধুরী।

দক্ষ ও সাহসী কর্মকর্তা খোরশেদ আলম চৌধুরী কর্মক্ষেত্রে সমাজ পরিবর্তনে নিরলসভাবে কাজ করছেন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে। কখনো তিনি শিক্ষক আবার কখনো তিনি বিচারক হয়ে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে যাচ্ছেন সমাজে চলা অনিয়ম, দুর্নীতি রুখতে বা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তার পথচলায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতার গল্প কথা শোনাতে।

যাতে তারা সু-শিক্ষিত ও প্রকৃত মানুষ হয়ে সমাজ সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারে।

উপজেলা প্রশাসনের চৌকস এ কর্মকর্তা ১৯৮৭ সনের ৮ই ডিসেম্বর কুমিল্লা জেলার বাশরা গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মোজ্জাফার হোসেন চৌধুরী ও মাতা মুর্শিদা বেগম। চার ভাই-বোনের মধ্যে তৃতীয় সন্তান খোরশেদ আলম চৌধুরী বাশরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে শিক্ষা জীবন শুরু করেন। হাটখোলা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় হতে ২০০৩ সালে এস.এস.সি পরীক্ষায় সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হন। ২০০৫ সালে ঢাকা ধানমণ্ডী আইডিয়াল কলেজ থেকে এইচ.এস.সি এবং ২০১০ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ঢাকা কলেজ হতে গণিত বিষয়ের উপর অনার্স কোর্স করেন।

পরবর্তীতে একই কলেজ হতে ২০১১ সালে মাস্টার্স শেষ করে চাকুরী জীবনে প্রবেশ করেন। কর্মজীবনের শুরুতে ২০১৪ সালের মে মাস পর্যন্ত চাঁদপুর জেলা হাজীগঞ্জ শাখায় রুপালী ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

২০১৬ সালের ১লা জুনে ৩৪ তম বিসিএসের অধীনে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে খুলনা বিভাগের মাগুরা জেলায় যোগদান করেন।

চাকুরীর সুবাদে কক্সবাজারে দায়িত্ব পালন শেষে ২৩.০৯.২০১৯ সালে শার্শা উপজেলা প্রশাসনের সহকারী (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করেন।

শখ হিসেবে বই পড়তে তিনি অনেক ভালোবাসেন ও নিজেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ছোয়ায় গড়তে চান। ভবিষ্যৎ স্বপ্ন সমাজের নিপীড়িত অসহায় মানুষের জন্য উল্লেখযোগ্য কিছু করা যা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে সহায়ক হবে।

শার্শা উপজেলা ভূমি প্রশাসনে দালাল মুক্ত, ঘুষ, দুর্নীতি ও হয়রানীমুক্ত ভূমি সেবা প্রদানসহ নিজ কাজের বাইরে গিয়েও অনেক সামাজিক কাজ করেছেন বা করার চেষ্টা এখনো অব্যাহত রেখেছেন।

বাল্যবিবাহ রোধ, ভেজাল প্রতিরোধ, ক্লিনিক ও ঔষধের দোকান মনিটরিং, মাদক নির্মূলে অভিযান, অবৈধ বালু উত্তোলণ বন্ধ, লবণের মূল্য বৃদ্ধির গুঁজব রোধ, পেঁয়াজের উর্ধ্ব মূল্য নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ ইট ভাটা বন্ধকরণ। বেকারী, হোটেল, মুদি দোকান, স্টেশনারী দোকানোর নানা ধরণের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে সরকারী রাজস্ব আহরণে সহায়ক ভূমিকা রেখেছেন।

সমাজ গঠনে এ সমস্ত কাজ করতে গিয়ে তিনি অনেক বাঁধা-বিপত্তিসহ রাজনৈতিক তদবিরের সম্মুখীন হয়েছেন। অনেক অনিয়ম রুখতে গিয়ে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা পাননি তিনি, তার মতে সমাজের মানুষ এখনো আইন সম্পর্কে সচেতন নন। প্রাতিষ্ঠানিক কোন সম্মাননা না পেলেও সততা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করার কারণে সর্বস্তরে তিনি সমাদৃত হয়েছেন।

এই কর্মকর্তার কর্মকাণ্ড শুণে তিনি ইতোমধ্যে তরুণদের কাছে জনপ্রিয় এবং অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেছেন। তাইতো শার্শার কিশোর, তরুণদের মুখে শোনা যায় লেখা-পড়া শিখে খোরশেদ আলম চৌধুরী স্যারের মত বড় অফিসার হবো।

তিনি সাধারণ প্রশাসনের পাশাপাশি মানবিকতার টানে প্রায়ই ছুটে যান উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান কার্যক্রম পরিদর্শনে।

শিক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের মেধা যাচাইয়ে কখনো গণিত, ইংরেজি, ভূগোল আবার কখনো সাধারণ জ্ঞানের ক্লাস নিয়ে থাকেন। এ ধরণের কর্মকাণ্ডে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের সাথে তার সহজ সুলভ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

শিশুরা সহজেই যেন পাঠদান আয়ত্ত্ব করতে পারেন তার কৌশল শেখানোসহ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের পাঠ্য পুস্তকে সহজে বোধগম্য করতে বেশী-বেশী বই পড়তে বলেন। তাদেরকে উৎসাহিত করতে বঙ্গবন্ধুর জীবনী, বিখ্যাত মনীষীদের জীবনী ও ইংরেজি বেশী-বেশী পড়ার পরামর্শ দেন। তার মতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারলে অচিরেই সমাজ হতে দুর্নীতি বিদায় নিয়ে উন্নয়নশীল দেশে পরিনত হবে ও সোনার বাংলা গড়ে উঠবে।

আজ বিশ্ব দরবারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচিতি পাওয়া বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতা রাখতে সু-শিক্ষিত, মেধাবী ব্যক্তিত্বের প্রয়োজন।

ডিজিটাল বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তির সাথে বিশ্ব প্রযুক্তির তাল মিলিয়ে মেল বন্ধন তৈরীতে উচ্চ শিক্ষিত দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষার্থীর কোন বিকল্প নেই। বর্তমান সরকার শিক্ষায় নিরলস কাজ করছেন, শিক্ষার্থীর লেখাপড়া খরচ কমাতে বিভিন্ন প্রকার শিক্ষা বৃত্তি, উপবৃত্তি চালু করেছে যাতে করে সকল শিক্ষার্থী উপকৃত ও উৎসাহিত হন।

অনেকটাই রুটিন কাজের বাইরে গিয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সরকারের এ বার্তা সকল শিক্ষার্থীদের মাঝে পৌঁছানোসহ নিজ জীবনের অর্জিত অভিজ্ঞতা থেকে উৎসাহমূলক ঘটনা তুলে ধরে তাদের মাঝে অনুপ্রেরণা যোগানোই তার স্কুল পরিদর্শনের মূল লক্ষ্য।

সামাজিক অবক্ষয় রোধে সময়ের এ সাহসী সন্তানকে অনেক চাপ মোকাবিলা করতে হয়। কখনো কুৎসা রটনার শিকার, কখনো বা হামলার হুমকি তারপরও তিনি আপন মহিমায় ভাস্বর, স্বাতন্ত্র্য দীপ্যমান।

বহু মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত তিনি। মানুষের অধিকার রক্ষায় তার অভিযাত্রার বিরাম নেই। ক্ষমতার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবহারের সুবর্ণ সব সুযোগ অগ্রাহ্য করে, সব প্রলোভনের হাতছানি উপেক্ষা করে, বাঁধা-বিঘ্ন দু পায়ে দলে তার অভিযাত্রা তার একারই সমগ্রাম।

আমরা কেবল জানাতে পারি শুভকামনা সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই সন্তানের জন্য। কবির ভাষায় বলতে হয়……

মোমবাতি হওয়া সহজ কোন কাজ নয়

আলো দেওয়ার জন্য প্রথম নিজেকেই পুড়তে হয়’।

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মুজিব শতবর্ষ