রবিবার, ৩১ মে ২০২০, ১১:১১ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট :
কাজিপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু বরণ কারী কালামের করোনা নেগেটিভ করোনাকে ভয় না করে জনসচেতনতামুলক প্রচারে ব্যাস্ত তারেক মাষ্টার পুঠিয়া গৃহবধু গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা রতনকান্দিতে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত মনিরের করোনা পজিটিভ বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় সরকারী চাকুরিজীবী এক ব্যক্তির উপর সন্ত্রাসী হামলা সীমিত পরিসরে গণপরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত তারাগঞ্জে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ ভুট্টা ক্ষেতে কয়েক লক্ষ টাকা ক্ষতির আশঙ্কা কিশোরগঞ্জে সাংবাদিকের বাড়ি চুরি, চোরকে ধরতে সাংবাদিকের পুরুষ্কার ঘোষণা কাজিপুরের শুভগাছায় করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু বরণ করলেন কালাম অতিবৃষ্টির কারণে ধান মাড়াই নিয়ে বিপাকে কিশোরগঞ্জের কৃষকরা

প্রধানমন্ত্রীর কাছে পর্যটন শিল্পকে বাঁচানোর আহ্বান

জাহিদ হাসান, ঢাকা
  • আপডেট টাইম: ৩০ মার্চ, ২০২০
  • ৩০৫ বার পঠিত

করোনাভাইরাসের কারণে থমকে গেছে পুরো বিশ্ব। অচল হয়ে পড়েছে সারা বিশ্বের সমস্ত অর্থনৈতিক কার্যক্রম। করোনা আরও বেশ কিছুদিন আগেই হানা দিয়েছে বাংলাদেশে। যার কারণে সারা বিশ্বের মত থমকে আছে বাংলাদেশও। ৪ এপ্রিল পর্যন্ত অঘোষিত লকডাউনে দেশ। করোনাভাইরাস যাতে খুব বেশি সংক্রমিত হতে না পারে, সে জন্য সরকারী নির্দেশে সাধারণ ছুটির মোড়কে চলছে এই লকডাউন অবস্থা।

স্থবির এই পরিস্থিতিতে অন্য অনেক কিছুর মতই অনেক বড় আঘাত এসেছে পর্যটন শিল্পেও। দ্য ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের হিসাবমতে বিশ্বব্যাপি করোনা মহামারী ছড়িয়ে পড়ার কারণে ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্পে বিশ্বব্যাপি ৫ কোটি লোক তাদের চাকরি হারাবে।

এমন বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অন্যতম উদীয়মান খাত পর্যটনের কি অবস্থা? বাংলাদেশ ট্যুরিজম এক্সপ্লোরার্স অ্যাসোসিয়েশনের হিসাব মতে বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ জড়িত। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এখন এই ৪০ লাখ মানুষ পুরোপুরি বেকার হওয়ার পথে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জীবন জীবিকা আজ হুমকির মুখে।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রথমেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বিমান চলাচল ও দেশের সকল পর্যটন কেন্দ্র। শুধুমাত্র রিসোর্ট মালিকগনেরই এই শিল্পে বিনিয়োগ প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এছাড়াও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ও পর্যটন নির্ভর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিনিয়োগের যোগফল হবে আরো বেশি। শুধুমাত্র রিসোর্ট সমূহেই প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ লোক প্রত্যক্ষভাবে কর্মরত।

সুতরাং, করোনা যুদ্ধ প্রথম যে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে আঘাত হেনেছে তাহলো পর্যটন। করোনার কারণে সারা বিশ্বে প্রথমত বন্ধ করা হয়েছে- এয়ারলাইন্স। এর প্রভাবে বন্ধ হয়ে পড়েছে হোটেল, রিসোর্ট, ক্রুজলাইন, রেস্টুরেন্ট ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ট্যুর অপারেটর ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলো। সুতরাং, বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাচ্ছে পর্যটন শিল্প।

ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শেষ হয়ে গেলেও, শিল্পটি পুনরুদ্ধারে ১০ মাস পর্যন্ত সময় নিতে পারে। দ্য ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম ফোরাম ইন্সটিউটের প্রধান বুলেট বাগসি বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিশ্বব্যাপী পর্যটন শিল্প এক ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হতে যাচ্ছে। জিডিপিতে পর্যটনের অবদান ১০ ভাগ। বিশ্বব্যাপী পর্যটন বাজার বছরে গড়ে ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলার আয় করে এবং ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক ক্ষতি ৬০০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। যা বছর শেষ হতে হতে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।’

এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদশের অন্যতম উদীয়মান অর্থনৈতিক খাত পর্যটন শিল্পকে বাঁচানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম এক্সপ্লোরার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিইএ)। সংগঠনটির চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সাগর সাক্ষরিত প্রধানমন্ত্রীর কাছে লেখা একটি খোলা চিঠিতে এই আহ্বান জানানো হয়।

ওই খোলা চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘(করোনাভাইরাসের কারণে) এই মহা দুর্যোগের দিনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সংকট মোকাবেলার জন্য যে অসীম ধৈর্য্য, সাহস ও দৃঢ়তার সাথে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। জাতির উদ্দেশে তার দেয়া ভাষণে শুনিয়েছেন- আশার বাণী, দিয়েছেন দিকনির্দেশনা ও আমাদের করণীয় । ঘোষণা করেছেন দুর্যোগ মোকাবেলায় সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ীদের জন্য সুবিধা প্যাকেজ। পোষাক শিল্পের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে ৫ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু করোনা যুদ্ধ প্রথম যে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে আঘাত হেনেছে তাহলো পর্যটন।’

খোলা চিঠিতে পর্যটন শিল্পকে বাঁচানোর জন্য আবেদন জানিয়ে লেখা হয়, ‘করোনা পরবর্তী সময়ে অন্যান্য শিল্প দুর্যোগ কেটে যাওয়ার পরপরই উৎপাদন শুরু করতে অথবা গতিশীলতায় আসতে পারলেও তেমনটির সম্ভাবনা নেই পর্যটন শিল্পে। পুনরায় পর্যটন শিল্পের গতি ফিরতে সময় লাগবে বছরখানেকেরও বেশি। এখনই পরিকল্পনা না করলে, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এই আপৎকালীন সময় সরকারি প্রণোদনা না পেলে, বন্ধ হবে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, চাকরি হারাবে অনেক কর্মচারী। দেশে বেকারত্বও বেড়ে যাবে। সুতরাং, এই খাতটিকে টিকিয়ে রাখতে হলে এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি প্রয়োজন এবং এ খাতে প্রণোদনা দেয়ার ব্যবস্থা করা জরুরি বলে মনে করছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম এক্সপ্লোরার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিইএ)। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ, প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে প্রণোদনা বরাদ্দ দিয়ে এ সেক্টরের শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বেতনভাতাদি প্রদান করে এ খাতকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করবেন।’

চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নির্দিষ্ট কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয় –
১। ট্যুর অপারেটরদের তিন মাসের অফিস ভাড়া ও কর্মচারীর বেতনের ব্যবস্থা করা।
২। পর্যটন স্পট নির্ভর প্রান্তিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের এককালীন আর্থিক সহায়তা প্রদান।
৩। পর্যটন শিল্পে যেসব লোন আছে, ছয় মাসের কিস্তি মওকুফ।
৪। স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে নতুন লোন প্রদান করা
৫। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে অনলাইন ট্যুর অপারেটরদের বিনা সুদে লোন প্রদান ও প্রশিক্ষণের সুবিধা প্রাদান।
৬। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ইভেন্ট ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট ট্রেনিং করানো।

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মুজিব শতবর্ষ