বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২০, ০৭:২০ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট :

”করোনা দূর্যোগে শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা অসহায় ও অবিভাবকত্বহীন হয়ে পরেছে”

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • আপডেট টাইম: ২২ এপ্রিল, ২০২০
  • ২৬৩ বার পঠিত

”করোনা দূর্যোগে শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা অসহায় ও অবিভাবকত্বহীন হয়ে পরেছে”

রউফুল আলম, ইন্দো-বাংলা নিউজ ডেক্সঃ
দেশে চলমান করোনা ( কোভিড-১৯) এর প্রাদূর্ভাব দিন দিন বেড়েই চলছে। সরকারের নানামুখী ত্রান ও প্রণোদনা প্রদানের সিদ্ধান্তে সাধারণ জনগণসহ দেশের বিজ্ঞ আইনজীবীরাও এ সুবিধা পাচ্ছে। দেশের প্রতিটা জেলা আইনজীবী সমিতিতে বিপুল শিক্ষানবিশ আইনজীবী আদালত বন্ধ থাকার কারণে যেন করোনা দূর্যোগে জীবন-জীবিকা চালাতে দিশেহারা।
উল্লেখ্য গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২ বছর ৮ মাস অর্থাৎ প্রায় ৩ বছর পর আইনজীবী তালিকাভুক্ত পরীক্ষার প্রথম ধাপ এম সি কিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়!
প্রায় ৫০,০০০ পরীক্ষার্থীর ভিতর কৃতকার্য হয় ৮,৭০০ জন এবং অকৃতকার্য হয় ৪০০০০+ শিক্ষানবিশ আইনজীবী! অনেকেই শিক্ষানবিশ ৬ মাস সময় পূর্ন না হওয়ার দরুণ গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। সব সংখ্যায় হিসেব করলে নুন্যতম ৭০০০০ শিক্ষানবিশ আইনজীবী বর্তমানে বিদ্যমান রয়েছে।এই ৭০০০০ শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা দেশের সমস্ত জেলা জজ কোর্টে শিক্ষানবিশ হিসেবে আইন চর্চা করে যাচ্ছেন। এত সংখ্যক শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা সবাই অনার্স, মাস্টার্স অনেকে ডাবল মাস্টার্স কিংবা অনেক ব্যরিস্টার বিদ্যমান আছেন।
এত পয়সা খরচ করে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে আইনের ডিগ্রি অর্জন করে সমস্ত শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা আজ দিশেহারা! দেশের সমস্ত জেলা বারেই শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের পারিশ্রমিক হিসেবে দেয়া হয় সামান্য টাকা এবং সিনিয়র খুব উদার হলে সাথে জোটে দুপুরের খাবার। মাস্টার্স পাশ করা একজন শিক্ষানবিশ না পারে পরিবারের কাছে বলতে না পারে তৃতীয় শ্রেণীর চাকুরি করতে!কি করণীয় তাদের? তার উপর পরীক্ষার ভয়াবহ জট! একটি পরীক্ষার সমস্ত কার্যক্রম শেষ হতে প্রায় ৪ বছর লেগে যায়। এই ৭০০০০ শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের প্রায় ৭০ ভাগ শিক্ষানবিশ আছেন যাদের প্রতিদিন কোর্ট না করলে তাদের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন এসে যায়। করোনার মহামারীর কারণে আজকে দেশের সমস্ত আদালত বন্ধ, কবে দেশের এই পরিস্থিতি ঠিক হবে তা একমাত্র মহান সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানেন!
এখন শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা কোথায় যাবে?
তাদেরকে দেখার জন্য কি দেশের আইন অংগনে কোন অভিভাবক নাই? এরা কি শুধুই অবজ্ঞার শিকার?
শিক্ষানবিশদের জন্য না আছে কোন ভাতা না আছে কোন সুযোগ সুবিধা! শুধুই আছে অবজ্ঞা এবং উপহার হিসেবে পরীক্ষার ভয়াবহ জট!
এমতাবস্থায়, শিক্ষানবিশদের  আকুল আবেদন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নিকট এবং দেশের সমস্ত জেলা আইনজীবী সমিতির নিকট তারা অন্তত এই মহামারীর সময় এই শিক্ষানবিশদের দিকে একটু দয়ার দৃষ্টিতে তাকান। তারা আপনাদেরই পরিবারের সদস্য। সারা দিন মামলার নথি টানা, আদালতে মামলার আবেদন লেখা ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর সঙ্গে থেকে দিনভর সহযোগিতা করার বিনিময়ে দিন শেষে যাতায়াত খরচ হিসেবে কিছু পারিশ্রমিক পান যে লোকগুলো, তাঁরা শিক্ষানবীশ আইনজীবী।বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে পরীক্ষা দিতে হয়। তার আগে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। বাধ্যতামূলকভাবে জ্যেষ্ঠ কোনো আইনজীবীর সঙ্গে শিক্ষানবীশ হিসেবে কাজ করতে হয়। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর এই শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা পড়েছেন দুর্ভোগে। আদালত বন্ধ। কাজ নেই, তো পয়সাও নেই। দেশে এমন শিক্ষানবিশ আইনজীবীর সংখ্যা এখন ৩৫ হাজারেরও বেশি।
শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খুবই আর্থিক সমস্যার মধ্যে আছেন তাঁরা। বিশেষ করে ঢাকায় যাঁদের বাড়ি নেই, ভাড়া বাড়িতে থাকেন, তাঁরাই বেশি সমস্যায় রয়েছেন। বিশেষ করে ঢাকা , চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রাজশাহীর মতো বিভাগীয় শহরের অনেক শিক্ষানবিশ আইনজীবী বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। তাঁরা যেহেতু  কোনো আইনজীবী সমিতির সদস্য নন, এ কারণে সেখান থেকেও কোনো সহযোগিতা পাবেন না। খুবই চিন্তায় আছেন তাঁরা।
সম্প্রতি ঢাকা আইনজীবী সমিতিসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলার আইনজীবীদের সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে তালিকাভুক্ত আইনজীবীরা আপাতত কিছু আর্থিক সহযোগিতা পেলেও শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের কথা কেউ ভাবছে না।
স্বল্প আয়ের আইনজীবী বা কনিষ্ঠ আইনজীবীদের জন্য একটি তহবিল গঠন করার একটি প্রস্তাব এরইমধ্যে উঠেছে। সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক মততাজ উদ্দিন মেহেদী এই প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি গত ২৮ মার্চ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের কাছে একটি লিখিত প্রস্তাব দেন।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, করোনার প্রাদুর্ভাবের এই দুঃসময়ে বা ভবিষ্যতে এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় কনিষ্ঠতম আইনজীবী বা স্বল্প আয়ের আইনজীবীদের জন্য একটি তহবিল গঠন করা উচিত। কারণ তাঁরা জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে আদালত বন্ধ থাকায় তাঁরা দুঃসময়ে দিন কাটাচ্ছেন। এ সময় তাঁদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।
এ প্রসংগে কথা বলেছি খুলনার শিক্ষানবিশ আইনজীবী মোঃ রায়হান আলীর সাথে। তিনি বলেন- করোনা পরিস্থিতিতে কোর্ট বন্ধ থাকায় তাদের সংসার  চালাতে একদম দিশেহারা হয়ে পড়েছে খুলনার আরেকজন শিক্ষানবিশ আইনজীবী মিতা খাতুন বলেছে- তার খুব কষ্ঠে দিন যাচ্ছে দেখার কেউ নেই। তিনিও সরকারের প্রণোদনার কথা বলেছেন।
ঢাকার শিক্ষানবিশ আইনজীবী মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ, নাহিদুল ইসলামা নাহিদ ও বিশাল গং বলেছেন- করোনা পরিস্থিতির কারণে আইনজীবীদের ন্যায় যেন তাদের সরকারী প্রণোদনা দেয়া হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..