বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২০, ০৭:২৫ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট :

নারী শাসিত পরিবারে পুরুষরাই বেশি নির্যাতিত”

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • আপডেট টাইম: ২৭ এপ্রিল, ২০২০
  • ৩১৮ বার পঠিত

”নারী শাসিত পরিবারে পুরুষরাই বেশি নির্যাতিত”

মোঃ রায়হান আলী,খুলনা জেলা,প্রতিনিধিঃ

পারস্পারিক সমোঝোতা এবং পরমতসহিষ্ণুতা একই বৃন্তে অবস্হানের মাধ্যমেই একটি পরিবার আদর্শ পরিবার হয়ে ওঠে। এমন পথ চলায় কোন পরিবার যদি কোন কারনে ধীরে ধীরে নারী ক্ষমতায়নের কারনে নারী শাসিত হয়ে যায়। সেই পরিবারে সংগত কারনে পুরুষরাই বেশি নির্যাতিত হয়। একজন নারী কয়েকটি কারনে পরিবারের শাসন ভার নিজ কর্তৃত্বে গ্রহন করে থাকে। সাধারনত একটি পরিবারের প্রধান পুরুষের অযোগ্যতা অক্ষমতা সংগত কারনেই নারীকে পরিবারের ক্ষমতা এবং শাসনভার নিজের নিয়ন্ত্রনে নিতে বাধ্য করে। নারীর এই শাসনভার গ্রহন এক সময় ধীরে ধীরে নারীকে অতি কর্তৃত্ববান করে তোলে । আর তখনি সেই নারী শাসিত পরিবারে পুরুষরা অতিমাত্রায় নির্যাতিত হতে বাধ্য হয়। সেক্ষেত্রে পুরুষ বেচারাকে সবার অলক্ষে নিরবে হা হুতাস করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। নারী শাসিত পরিবারে নারীর উপর কর্তৃত্ব বর্তানোর পিছনে পুরুষের অজ্ঞতা, অযোগ্যতা এবং নারীর প্রতি অতি আবেগী মনভাব প্রদর্শনী মুলতঃ কারন। তাই নারী শাসিত পরিবারে পুরুষ নির্যাতনের প্রেক্ষাপট পুরুষ কর্তৃক রচিত হয়ে থাকে। এমন কারনে নারীকে বিচারের কাঠ গড়ায় দাড় না করিয়ে নিজের আত্ম উপলব্দিতে বুদ্ধিদিপ্ত সমোঝতাই পারে পরিবারের সুখ ও শান্তি চলমান রাখতে। পুরুষ চাইলেই তা পারে। রইল নিরবে অশ্রু বিসর্জন তা তার নিজ কর্ম ফল।
পরিতাপের বিষয় হল দেশে নারী নির্যাতনের আইন থাকলেও পুরুষ নির্যাতন আইন এখনও হয়নি। দেশের কর্তারা হয়তবা এমন আইনের প্রয়োজন মনে করছে না। সমাজে আগের মত নারী নির্যাতন হয় না ক্রমাগত কমতে শুরু করেছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নারী ও পুরুষ সমান অধিবার দেয়া হয়েছে। এমন সমান অধিকার বলে অনেক নারীরাই এ ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘরে পুরুষ কর্তা বা স্বামীর উপর চালায় অমানবিক নির্যাতন। আর এ নির্যাতন বাইরে কোন দিন প্রকাশ পায় না। কারণ নারীরা তো জোড় গলায় চিৎকার করে কাঁদতে জানে কিন্তু পুরুষরা কোন দিনই উচ্চস্বরে কাঁদতে পারে না। ফলে নীরবে সহ্য করতে হয় পুরুষদের এ কষ্ট। বর্তমান রাষ্ট্রপতিও একটা অনুষ্ঠানে বলেছিল সমাজে নারীদের পাশাপাশি পুরুষরাও নির্যাতিত হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে খুলনা মুন্সিপাড়ায় বসবাসকারী আঃ আহাদ আলী মতামত ব্যক্ত করেন যে, তারঁ স্ত্রী একজন সরকারী চাকুরীজীবী। প্রতিনিয়ত সংসারে সামান্য বিষয় নিয়েই আমার স্ত্রী আমার সাথে ঝগড়া-ঝাটি করে ও মানসিক যন্ত্রনা দেয়। কিন্তু সে লোক লজ্জার জন্য কাউকে বিষয়টি শেয়ার করতে পারে না। খুলনায় বসবাসকারী আরেকজন মোঃ মিজানুর রহমান বলেন স্ত্রীর পরিবার প্রভাবশালী হওয়া তাকে তার স্ত্রী কোন তোয়াক্কাই করে না কথায় কথায় নানা ভাব ও অপ্রয়োজনীয় দাবী আদায়ের প্রায়াসে সংসারে তাকে নানাবিধ মানসিক অত্যাচার করছেন। কিন্তু মিজানুর রহমানের বলার কিছু নাই কারন তিনি সম্পর্ক করেই নিজের ইচ্ছাতেই ধনীর দুলালীকে বিয়ে করেছিল।
এমন অনেকে নারী শাসিত সংসারে নামে কর্তা হওয়ার পরও পুরুষরা যেন নারীদের অধিনস্ত হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেরই দাবী নারী নির্যাতন দমন আইনের পাশাপাশি পুরুষ নির্যাতন দমন আইন সংসদে পাশ হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..