বুধবার, ২৭ মে ২০২০, ১১:২৯ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট :

নীলফামারীর বোরো ধানে ‘নেক ব্লাস্ট’ রোগে সাংবাদিকসহ  দিশেহারা কৃষক

Rouful Alam
  • আপডেট টাইম: ১৫ মে, ২০২০
  • ৮৫ বার পঠিত

নীলফামারীর বোরো ধানে ‘নেক ব্লাস্ট’ রোগে সাংবাদিকসহ  দিশেহারা কৃষক

রউফুল আলম, ইন্দো-বাংলা নিউজ ডেক্স:

নীলফামারী সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও কিশোরগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে বোরো ধানে নেক ব্লাস্ট রোগের প্রাদূভার্ব দেখা দিয়েছে। প্রতিকুল আবহাওয়ায় জেলায় রোগটি ছড়িয়ে পড়ায় দিশেহারা কৃষক। এই রোগের প্রভাবে ধানের শীষ আস্তে আস্তে শুকিয়ে সাদা হয়ে যাচ্ছে। কৃষকরা বলছেন, এক বিঘা জমির শতকরা ৮৫ ভাগ ধানের শীষ চিটা হয়ে যাচ্ছে। কৃষকরা কোনও ধরনের প্রতিকার না পেয়ে, ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সরেজমিনে সদরের রামনগর, কচুকাটা, প পুকুর, টুপামারী ও চাপড়া সরজামি ও কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা  ইউনিয়নে বড়ডুমরিয়া মৌজায় গিয়ে কৃষকের ধানের জমিতে এই রোগের সংক্রমণ দেখা যায়। রামনগর ইউনিয়নের বাহালী পাড়া গ্রামের কৃষক লাল বাবু রায় জানান, চার বিঘা জমিতে প্রায় ৮৫ শতাংশ ধানের শীষ চিটা হয়েছে। বাকি ধানগুলোও প্রতিকারের অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে। কীটনাশক প্রয়োগ করে কোনও লাভ হয়নি। সাধারণত চার বিঘা জমিতে ধান ফলন হয় প্রায় ৮০ মণ। আর প্রতিমণ ৬৫০ টাকা হিসেবে ৫২ হাজার টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছি।

সদর উপজেলার প পুকুর ইউনিয়নের বগুলাগাড়ী জামতলা গ্রামের কৃষক মশেতুল্যা মিয়া (৬৩) জানান, এবার তার তিন বিঘা ধানের (ব্রি ধান-২৮) জমিতে চিটা রোগ দেখা দিয়েছে। এ ছাড়াও আশেপাশের জমিতে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে এই রোগ। তিনি বলেন, ‘প্রতিবার প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দিশেহারা হয়েছি। এছাড়া ধানের বাজারে দরপতনের কারণে কৃষক বার বার লোকসান গুনছে। এবার নেক ব্লাস্ট রোগ ছড়িয়ে পড়ায় গ্রামে আতঙ্ক বিরাজ করছে।’

সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়নের সিংদই পাইকার পাড়া গ্রামের কৃষক মোজাহারুল হক (৪৩) জানান, এ মৌসুমে তিন বিঘা জমিতে ব্রি ধান-২৮ চাষ করেছেন। কিন্তু ধান পেকে যাওয়ার মুহূর্তে শতভাগ ধানের শীষ চিটা হয়। এতে ব্যাপক লোকশান গুনতে হবে। করোনায় কর্মহীন হয়ে ঘরে বসে থেকে যা জমানো ছিল তাও শেষ। জমির ধানও শেষ। এখন কিভাবে পরিবার চালাবেন তা নিয়ে দিশেহারা।

সদর উপজেলার চাপড়া সরজামি ইউনিয়নের লতিফ চাপড়া গ্রামের কৃষক মকবুল হোসেন (৫৫) ও জালাল (৫২) জানান, প্রথম দিকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের ফলনও বাম্পার হয়। কিন্তু ধান পাকা শুরুর আগেই (দুধ আসার আগে) শীষ শুকিয়ে সাদা হয়ে চিটা (পাতান) হয়। কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নে সাংবাদিক রউফুল আলমের মৌজা বড়ডুমুরিয়া ধান ক্ষেত দেখতে গিয়ে দেখা যায় তার রোপিত বোরো ধানে নেক ব্লাস্ট রোগের প্রাদূভার্ব দেখা দিয়েছে। প্রতিকুল আবহাওয়ায় রোগটি ছড়িয়ে পড়ায় দিশেহারা এই সাংবাদিক। এই রোগের প্রভাবে ধানের শীষ আস্তে আস্তে শুকিয়ে সাদা হয়ে যাচ্ছে। সাংবাদিক রউফুল  জানান,  বোরো ধানে নেক ব্লাস্ট রোগের প্রতিকার হিসেবে তার এলাকায় নিয়োজিত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম হ্যাংজু কিনসে বায়োটেক কোম্পানির ‘টোটকা ৭৫ ডব্লিউ জি ও শেনজেন কুইনফেং পেস্টিসাইড কোম্পানি লিমিটেডের ‘আরবা ৫০ ডব্লিইপি (কার্বেনডাজিম) স্প্রে করার পরামর্শ দিয়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, এবার জেলার ছয় উপজেলায় ৮৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। ইতোমধ্যে ৮০ হাজার ৬০৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে ব্রি ধান-২৮ চাষ হয়েছে। আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তিন লাখ ৮২ হাজার ৮৫০ মেট্রিকটন।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানান, শেষ মুহূর্তে বিরুপ আবহাওয়া কারণে নেক ব্লাস্ট রোগের সংক্রমণ কিছু কিছু এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। তবে আমরা কৃষকদের এই রোগ থেকে প্রতিকারের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। প্রয়োজনী কীটনাশক স্প্রে (টু-পার, বীর, দিফা) করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ঝড় বৃষ্টির কারণে ধানের গাছে গাছে ঘর্ষণের কারণে রোগটি ছড়িয়ে পড়ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের (ভারপ্রাপ্ত) উপ-পরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল জানান, কৃষকদের ব্রি-২৮ ধান চাষ করতে নিরুৎসাহিত করি। কারণ এই জাত অনেক পুরনো হয়ে গেছে। এই ধানে নেক ব্লাস্ট বেশি হয়। আমরা নতুন নতুন জাতের ধান চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করছি। বিক্ষিপ্ত ভাবে কিছু কিছু এলাকায় দুই একজন কৃষকের ২৮ ধানের জমিতে এই রোগের সংক্রমণ ঘটেছে। এর প্রেক্ষিতে, জেলায় ২২ হাজার ৫৪২ হেক্টর জমিতে প্রিভেন্টিভ কীটনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। আশাকরি এই সমস্যা দ্রুত কেটে যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মুজিব শতবর্ষ