বুধবার, ২৭ মে ২০২০, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট :

ভিলা জিরাসল : সূর্যের আলোর দিকে ঘুরে যায় যে বাড়ি

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৩০৮ বার পঠিত

সূর্যের আলোর গুরুত্ব বর্তমানে কম-বেশি সবারই জানা। এই সূর্যের আলোর উপকারিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা যায় ১৯ শতকে। তখন জানা যায় রৌদ্রস্নানে থাকলে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। ফলে সেই সময় সূর্যচিকিৎসার (Heliotherapy) কদর খুবই বেড়ে যায়।

সূর্যচিকিৎসা পদ্ধতি হচ্ছে এমন এক পদ্ধতি যার মাধ্যমে সূর্যের আলো ব্যবহার করে চিকিৎসা করা হয়। সূর্যচিকিৎসা পদ্ধতিতে ত্বক, ক্যানসার, হাড়ের যক্ষ্মাসহ বিভিন্ন ধরনের রোগের চিকিৎসা করা হয়। এছাড়াও সূর্যের আলো মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও অনেক উপকারী।

চিকিৎসক জিন স্যাইডম্যান প্যারিসের ‘ইনস্টিটিউট অফ অ্যাক্টিনোলজির’ পরিচালক ছিলেন। অ্যাক্টিনোলজি হচ্ছে উচ্চ শক্তির আলোর রাসায়নিক প্রভাব সংক্রান্ত জ্ঞান। এই উচ্চ শক্তির আলোর বিষয়ে প্রচুর জ্ঞান রাখতেন স্যাইডম্যান। তিনি তার জ্ঞান দিয়ে আল্ট্রাভায়োলেট বা অতিবেগুনি রশ্মির সাহায্যে চিকিৎসার জন্য ১৯২৯ সালে রোটেটিং সোলারিয়াম বা সূর্যঘড়ি তৈরি করেন। এই সূর্যঘড়ি পর্যাপ্ত সূর্যালোক পাওয়ার জন্য সূর্যের দিকে ঘুরত।

সূর্যঘড়ির আদলে সূর্যমুখী বাড়ি তৈরি করেন অ্যাঞ্জেলো ইনভারনিজ্জি। বাড়িটিকে বলা হয় ভিলা জিরাসল (Villa Girasole)। ইতালিয় ভাষায় জিরাসল হচ্ছে সূর্যমুখী। সূর্যমুখী ফুল যেমন সূর্যের আলোর সাথে সাথে ঘুরতে থাকে সূর্যমুখী বাড়িটিও তেমনিভাবে ঘুরতে থাকে। তাই সূর্যমুখী ফুলের সাথে মিলিয়ে নাম রাখা হয় সূর্যমুখী বাড়ি।

সূর্যমুখী বাড়ি তৈরির উদ্দেশ্যও ছিল অধিকতর সূর্যালোক পাওয়া। বাড়ি দেখতে হলে যেতে হবে ইতালির উত্তরাঞ্চলে ভেরোনা শহরে। বাড়ির আকৃতি হচ্ছে ইংরেজি এল অক্ষরের মতো।

ইনভারনিজ্জি ছিলেন একজন রেলওয়ের প্রকৌশলী। বাড়িটির নকশা তৈরি করতে তিনি রেলওয়ের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়েছিলেন।

বাড়িটি যাতে সহজেই ঘুরতে পারে সেজন্য নিচে রেললাইনের মতো রাস্তা তৈরি করেছেন তিনি। মাঝখানে একটি দণ্ড ব্যবহার করেছেন যাকে কেন্দ্র করে বাড়িটি ঘুরতে পারে। এই দণ্ডকে কেন্দ্র করে দুটি দুই তলা গঠন পাখার ন্যায় প্রলম্বিত করে তৈরি করা হয়েছে। বাড়িটির সিঁড়ি ও লিফটও একইভাবে ঘূর্ণন উপযোগী করা হয়েছে। এগুলোও কেন্দ্রীয় দণ্ডকে কেন্দ্র করে ঘোরে।

পাখার ন্যায় গঠনে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কক্ষ। পুরো বাড়িটি ড্রামের মতো ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এই ড্রামের নিচে আছে ঘূর্ণনে সুবিধা সম্বলিত বেয়ারিযুক্ত চাকা। সমগ্র বাড়িটি রেলগাড়ির কোচের মতো ঘোরে। ঘোরানোর জন্য দুটি ডিজেল চালিত ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। এ দুটি ইঞ্জিনের সহায়তায় প্রতি মিনিটে বাড়িটি ৯ ইঞ্চি ঘুরতে পারে।

বাড়ির বাসিন্দারা তিনটি সুইচের মাধ্যমে সহজেই বাড়িটিকে ঘুরাতে পারেন। সুইচ তিনটির একটির দ্বারা বাড়িটি সম্মুখদিকে এবং অপরটির দ্বারা পিছন দিকে ঘোরে। এছাড়াও আরেকটি সুইচ দ্বারা চাইলে ঘোরা বন্ধও রাখা যায়।

বাড়িটির প্রথম তলার ঘূর্ণায়মান অংশটিকে বলা হয় ডে-জোন। এখানের একপ্রান্তে রয়েছে ডাইনিং রুম ও অপরপ্রান্তে আছে সঙ্গীত চর্চার কক্ষ। এ দুইয়ের মাঝে আছে পড়াশোনা ও ধূমপানের কক্ষ। কেন্দ্রীয় দণ্ডের কাছাকাছি রয়েছে টয়লেট। দ্বিতীয় তলায় রয়েছে শয়নকক্ষ ও গোসলখানা। আর সবগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে কোনোদিকে ভরের কমবেশি না হয়।

বাড়িটি তৈরির জন্য ইনভারনিজ্জিকে প্রচুর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। বাড়ির ভেতরের দিকের দেয়ালের সিমেন্ট ঘূর্ণনের সময় ঝাঁকুনিতে খসে পড়ত। তাই ভেতরে তিনি পরবর্তীতে সিমেন্টের পরিবর্তে এলুমিনিয়াম শিট ব্যবহার করেন।

মাত্র ৪ বছরের কঠোর শ্রমের মাধ্যমে ১৯৩৫ সালে বাড়িটি পুরোপুরি তৈরি করতে সক্ষম হন। বাড়িটি তৈরির পর প্রচুর পর্যটক সেখানে ঘুরতে যাওয়া শুরু করে। ফলে তাদের জন্য পরবর্তী সময়ে সুইমিং পুল ও টেনিস খেলার ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়াও বাড়ির চারপাশে মনোমুগ্ধকর বাগানও তৈরি করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মুজিব শতবর্ষ