বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন

ভোলার বোরহানউদ্দিনে পুত্রকে নিয়োগ দেয়ার জন্য মাদরাসা সুপারের গোপন তৎপরতা

গাজী তাহের লিটন, ভোলা
  • আপডেট টাইম: ৩০ আগস্ট, ২০২০
  • ১১৫ বার পঠিত

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুঞ্জেরহাট দাখিল মাদরাসায় গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে নিজ পুত্রকে নিয়োগ দেয়ার জন্য মাদরাসার সুপার অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা যায়।

বিভিন্ন সুত্র জানায়,পত্রিকান্তরে দেয়া বিজ্ঞপ্তি নিয়েও উঠেছে জালিয়াতির প্রশ্ন।যে পত্রিকায় মাদরাসার তিন পদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়, সেই পত্রিকা ঔইদিন ভোলায় পাওয়া যায়নি। যা রহস্যজনক।

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবির প্রেক্ষিতে ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কুঞ্জেরহাট দাখিল মাদরাসা।জীর্ণশীর্ণ অবকাঠামো, নানা সমস্যা ও প্রতিকূলতার মধ্যদিয়ে মাদরাসাটির পাঠদান চলে আসছে।একইসাথে চলছে মাদরাসা সুপারের নানামুখি দুর্নীতি ও অনিয়মের লাগামহীন দৌরাত্ম্য।

বিভিন্ন সুত্র ও অভিযোগ থেকে জানাযায়,মাদরাসার সুপার আবুল হাসেম শুরু থেকেই নতুন শিক্ষক নিয়োগ, একাডেমিক স্বীকৃতি ও প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নসহ নানা খাতে শিক্ষক ও কর্মচারীদের কাছ হতে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।জেএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিতেন ‘গলাকাটা’ পরীক্ষার ফি।কমিটিকে নয়ছয় বুঝিয়ে তিনি এধরনের দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। মাদরাসায় প্রতিনিধিত্বশীল শিক্ষক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে সুপার নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছেন।

আওয়ামীলীগ সরকার আমলে প্রতিষ্ঠিত এবং একই সরকার আমলে ২০১০ সালে এমপিওভূক্ত এ মাদরাসার ক’জন শিক্ষক সরকার বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার সত্যতা মিলেছে।

সরেজমিনে স্থানীয় লোকজনের মুখে মুখে সুপার ও মাদরাসার কতিপয় শিক্ষকের সরকার বিরোধী কর্মকাণ্ডের কথা শোনা যায়।একটি মাদরাসা রাজনীতির উর্ধ্বে থেকে শিক্ষা কার্যক্রম চালাবে, এটাই স্বাভাবিক।কিন্তু, এ প্রতিষ্ঠান উল্টো পথে চলছে।সুপারেরএ ধরনের কর্মে তাঁর শিবিরপন্থী বড় পুত্রেরও সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানাযায়।

এদিকে শিক্ষিত বেকাররা যখন নানাভাবে প্রতারিত, চাকরি নামের সোনার হরিণ যখন তাদের নাগালের বাইরে ঠিক তখন ভোলার একটি মাদরাসার সুপার নিজেই তার পুত্রকে চাকরি দেয়ার জন্য অ-দৃশ্যমান একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে স্থানীয় মহলে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন।

এদিকে মাদরাসার ৩টি পদের জন্য ১৭ আগষ্ট একটি জাতীয় দৈনিক ও একটি স্থানীয় পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

পদ তিনটি হলো, ১.গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার ২.নিরাপত্তা প্রহরী ৩. আয়া।

এখানে কৌশলগতভাবে বিজ্ঞাপনটিতে পদ উল্লেখ করা হলেও পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, কি কি কাগজপত্র লাগবে,কতো তারিখের মধ্যে আবেদন করবে এবং কার বরাবরে আবেদন করবে তা উল্লেখ করা হয়নি।এছাড়া বিজ্ঞাপনটি সিঙ্গেল কলামে ছোট করে শিরোনামবিহীন ছাপা হয়। যা অ-দৃশ্যমান হিসেবে প্রকাশিত।অভিযোগ রয়েছে, সেদিন এ পত্রিকাটি স্থানীয় এলাকায় পাওয়া যায়নি।

অনুসন্ধানে জানাযায়,মাদরাসার সুপার আবুল হাসেম তার পুত্রকে সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে নেয়ার জন্য দীর্ঘদিন যাবত নানা ফন্দিফিকির চালাচ্ছে।তার পুত্র শিবিরের সক্রিয় কর্মী বলে পরিচিত। এ মিশনকে সফল করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে মোটা অংকের অর্থে গোপন দফারফা করেছেন।যা মাদরাসার শিক্ষক ও স্থানীয় মহলে আলোচিত।ইন্টারভিউ বোর্ডে যাতে সংশ্লিষ্ট বোর্ড ম্যানেজকৃত ব্যক্তিসহ পচ্ছন্দের সদস্যরা থাকেন সেই তৎপরতায় রয়েছেন মাদরাসার সুপার।তিনি নিজেই হতে যাচ্ছেন নিয়োগ কমিটির অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছেন!

অপর এক সুত্র জানায়,বিগত ২০১৫ সালে সরকার বিরোধী আন্দোলনের সময় সুপারের পুত্র জামাত-শিবিরের পক্ষে ভোলার বোরহানউদ্দিনের মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে গাড়ি আটকানো ও আগুন দেয়ার ঘটনায় জড়িত।সেই সময় পুত্রের ঘটনায় সুপার নিজেই থানায় আটক হয়ে মুচলেকায় ছাড়া পান।

নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার জন্য মাদরাসার সুপার আবুল হাসেমের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।তিনি নিজে নিয়োগ কমিটির সর্বেসর্বা হওয়ার জন্য দায়িত্বশীল মহলে ম্যানেজ প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায়।

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ