শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২০, ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন

চাষির ছেলে : জসিম উদ্দিন সরকার

ইন্দোবাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট টাইম: ১ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ১২৫ বার পঠিত

বাবার সেই ফসল ভরা মাঠে চৈত্র মাসের ভারি রোদ্রের বিষণ তাপের মাঝেও কাজ করে যাচ্ছি। শরীর খুব ক্লান্ত হয়ে পরছে তৃষ্ণায় গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আসছে, তাও আমি কাজ করছি। মাঠের সেই সবুজ পাতা দেখে আমার মন আনন্দিত হয়ে উঠে, আমি মনের সুখে গান গাইতে লাগলাম। তখন পাশে থেকে ডেকে যাচ্ছে আলী, ওরে বাপের বেটা এই খরার রৌদ্রে কেউ কাজ করে চলে আয় বটতলায় একটু জিরিয়ে নে, দাদা তুমি জিরিয়ে আসো আমি কাজ আর একটু আগাই আসব, মাটি খুব রসহীন হয়ে পরছে ফসলের চারাও দিন দিন রং বদলাচ্ছে।

বৃষ্টির খুবই প্রয়োজন হয়ে পরছে পানি সেচেরও কোন ব্যবস্থা নেই, তাই ফসল দিন দিন ধ্বংসের দিকে, খুব চিন্তায় পরে আছি যদি না বৃষ্টি হয় তাহলে এবার ফসল হবে না, মাটি শুকিয়ে ধূলো হয়েছে চারদিকে গরম হাওয়া বইছে, কাজ শেষে বটতলায় বসে খুবই চিন্তায় মুগ্ধ হয়ে আছি। হঠাৎ পিছন থেকে কাঁধে কে যেন হাত রেখে বললো কিরে বাবা এই ভরদুপুরে এমন চিন্তা নিয়া বসে আছত কেন? আমি চিন্তা মুগ্ধ থেকে ফিরে ঘার ঘুরিয়ে দেখি বাবা, আব্বা এইবার তো খরায় আমাদের সব ফসল ধ্বংসের দিকে, বাপ রে সব আল্লার ইচ্ছা উনি চাইলে মৃত্যু গাছেও ফসল ধরতে পারে আর উনি না চাইলে আমরা কিছুই করতে পারবো না, চল বাড়ি যাই এসব নিয়ে এখন ভাবতে হইবো না দেখবি একটা কিছু হইবো।

আল্লাহ আমাদের মতো চাষিদের জমি থেকে খালি ফিরাইও নিবে না। আমার বাবা খুব খোদাই বিশ্বাসী, তিনি সর্বদাই খোদার উপর বিশ্বাস রাখেন, আমিও তাই মনে করি যদি খোদার হুকুম ছাড়া একটি গাছের পাতাও না নড়ে তাহলে কি ভাবে আমার জমিতে ফসল ফলবে। আমরা ফসলের যত্ন দিয়ে যাই, বাকিটা উনার ইচ্ছা। মাঠঘাট শুকিয়ে ফেটে গেছে, চারদিকের লতাপাতা বৃষ্টির জন্য অপেক্ষায় আছে, লতাপাতার রং পাল্টে যাচ্ছে তাদের সবুজ রং ধীরে ধীরে লালও হলুদের মিশ্রণ দাগ কেটে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে তারা দূর্বল হয়ে পরছে, তাদের শিকড় দিয়ে মাটি থেকে রস গ্রহণ করতে পারতেছে না, মাটিতে চরম পানির সংকট দেখা দিয়েছে, আমি খুব চিন্তিত এবার ফসলের অবস্থা দেখে।

চাষিদের খুব দুঃখ এবার খরা নিয়ে তার সকলেই চিন্তিত হয়ে পরছে কি ভাবে জমির পানির ব্যবস্থা করা যায় তা ভাবছে সকলে মিলে, তারা এই সংকট সময় গানের আসর বসিয়েছে যা কখনো খোদাইকর্ম নয়, বাবা তাদের বাঁধা দিয়েছে যে আমাদের এই সংকট সময় তোমরা খোদাইকর্ম করবে যেন আমাদের মুক্তি দেন তা না করে তোমরা গানের আসর বসিয়ে দিয়েছ। তোমাদের কর্মফল এই খরাই পেয়েছ। তোমরা যদি খোদারকর্ম করতে তাহলে আজ তোমাদের এমন অবস্থা হতো না, অবশেষে গ্রামে খাদ্য সংকট দেখা দিল।

প্রতিটি মানুষ খাদ্যের অভাবে মৃত্যুর কোলে ডলে পরছে, কত পরিবারের অনাহারে দিন কাটছে তাও বলা যাবে না, তার তারদের কর্মফলের জন্য নিজেদেরকে দায় করতে লাগলো। তারা সর্বদাই জমিতে কাজ আর গানবাজনা নিয়ে ব্যস্ত হয়েছিলো,, কখনো তাদের তারা ও তাদের সন্তানদের খোদাইকর্মে ব্যস্ত রাখতো না, সকলেই ভাবলো যে আমরা যদি কাজ না করি তাহলে খাবো কি, কিন্তু যিনি রিজিক দাতা তার শুকরিয়া আদায় করতো না তারা, তারা সর্বদা নিজের উপর ভরসা রাখতো ও শক্তির উৎস মনে করতো।

শিক্ষা : আমরা যেই পেশায় থাকি না কেন যদি আমরা খোদাইকর্ম করি তাহলে আমার সম্পদ আর সম্মান বৃদ্ধি পাবে, আর যদি আমরা শয়তানের ধোঁকায় পড়ে ধর্মীয় কাজ থেকে সুখ ফিরিয়ে নেই তাহলে আমাদের সম্পদ ও সম্মান হ্রাস পাবে, যার কারণে আমরা ইহকাল এবং পরকাল উভয় কালেই দুঃখের সাথে বসবাস করতে হবে।।

 

জসিম উদ্দিন সরকার
সভাপতি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা, একুশে চেতনা সাহিত্য পরিষদ।

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ