মঙ্গলবার, ২৭ Jul ২০২১, ১২:০৪ অপরাহ্ন

লালন আজও সমান প্রাসঙ্গিক, জনপ্রিয় ও আধুনিক- সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

ইন্দোবাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট টাইম: শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২০
  • ২৭০ বার পঠিত
ছবিঃ সংগ্রহীত

সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেছেন, লালনের মৃত্যুর পর পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ ১৩০ বছর। তবু লালন আজও সমান প্রাসঙ্গিক, জনপ্রিয় ও আধুনিক। তাঁর গান বাউল সমাজের সাধনার উপকরণ হিসেবে যেমন বিবেচিত, তেমনি সংগীত রসিকের মরমি চিত্তকেও আলোড়িত করতে সক্ষম, পাশাপাশি সমাজ ভাবনার অনুষঙ্গেও তা মূল্যবান। আজ আবার নতুন করে সাম্প্রদায়িকতা-মৌলবাদের উত্থানকালে, মনুষ্যত্ব-মানবতার লাঞ্ছনার সময়ে, সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের বৈরী যুগে লালনের গান হতে পারে প্রতিবাদের, শিল্প-শান্তি ও শুভবুদ্ধির প্রতীক- মানুষের প্রতি হারানো বিশ্বাসকে ফিরিয়ে আনার পরম পাথেয়।

প্রতিমন্ত্রী আজ রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে মহাত্মা লালন সাঁইজির ১৩০তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী  (১৬-১৭ অক্টোবর, ২০২০) লালন স্মরণোৎসব, আন্তর্জাতিক সেমিনার ও সাধুমেলা ২০২০ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথি বলেন, লালন সমাজে প্রচলিত ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, জাত-পাতের বিরুদ্ধে তাঁর মানবধর্মের মতবাদ প্রচার করতে থাকেন গানের মাধ্যমে। ধীরে ধীরে তাঁর সেই অহিংস মতবাদ ছড়িয়ে পড়ে দেশে-বিদেশে। বিশেষ করে সমাজের সাধারণ মানুষ- হোক সে হিন্দু অথবা মুসলমান কিংবা বৌদ্ধ, খ্রিস্টান শিষ্যত্ব নেয় লালনের। লালনের মাধ্যমে শুরু হয় নতুন এক মানবধর্মের চর্চা। জাত-পাতহীন, ধর্ম-বর্ণহীন সমাজের কথাগুলো লালনের গানের মূলকথা হওয়ায় মানুষ তাঁর গানের মাধ্যমে মানবমুক্তির আশ্রয় খুঁজে পায়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা মহাত্মা বলতে গান্ধীজিকে বুঝি। কিন্তু ১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর ১১৬ বছর বয়সে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় নিজ আখড়ায় লালনের মৃত্যুর ১২ দিন পর মীর মশাররফ হোসেন সম্পাদিত তৎকালীন পাক্ষিক পত্রিকা ‘হিতকরী’তে প্রকাশিত একটি রচনায় সর্বপ্রথম তাঁকে ‘মহাত্মা’ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব মোঃ নওসাদ হোসেন। ‘বিশ্বমানবতার মুক্তিতে লালন দর্শন’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভারতের নয়াদিল্লীস্থ কাউন্সিল ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট এর সভাপতি অধ্যাপক মুচকুন্দ দুবে। অনলাইনে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ফ্রান্সের ইনালকো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেরিমি কড্রন ও ফ্রান্সের লালন গবেষক অধ্যাপক কার্লোস সেমিডো। ‘বাউল সংগীত সংরক্ষণ ও বিকাশ’ বিষয়ক বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশন এর ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল মোঃ সোহেল ইমাম খান এবং ‘লালনের সমাজ ভাবনা ও বিশ্ব মানবতা’ বিষয়ক বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. আবুল আহসান চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে লালন সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট লালন সংগীত শিল্পী ফরিদা পারভীন, সমির বাউল, ফকির নহির শাহ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কিথ ই কান্তু ও ফ্রান্সের দেবরা জান্নাত।

ইন্দোবাংলা/সিকে

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ