রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০২:৩৬ পূর্বাহ্ন

বিসিকের নিজস্ব তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এমএসএমই  উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদানের দাবি 

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম: বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২০
  • ২৭৪ বার পঠিত

করোনা মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের (এমএসএমই) জন্য বিসিক  নিজস্ব তহবিল থেকে ঋণ প্রদানের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের উদ্যোক্তারা।

তারা বলেন, এ লক্ষ্যে বিসিককে ৮শ’ কোটি এবং এসএমই ফাউন্ডেশনকে ৫শ’ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে একটি ঋণ তহবিল গঠন করতে হবে। এ তহবিল থেকে তৃণমূল পর্যায়ের ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন করে করোনাকালীন ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব। এ ধরণের উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিকেও চাঙ্গা করবে বলে তারা মন্তব্য করেন।

আজ ঢাকায় শিল্প মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত  “ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পখাতে কোভিড-১৯ এর প্রভাব এবং জাতীয় এসএমই নীতি ২০১৯ বাস্তবায়ন  (Dialogue on Impact of Covid-19 on Small and Cottage Industries & Implementation of SME Policy-2019)” শীর্ষক সংলাপে অংশ নিয়ে উদ্যোক্তারা এসব কথা বলেন। জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতি, বাংলাদেশ (নাসিব) এবং অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সালাহ্উদ্দিন মাহমুদ এতে প্রধান অতিথি ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালাহ্উদ্দিন মাহমুদ বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের এমএসএমই উদ্যোক্তারাই দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। করোনার ফলে তাদের পণ্য বিপণন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় জাতীয় অর্থনীতিতে মারাত্মক ধাক্কা লেগেছে। এর মোকাবিলায় অপ্রাতিষ্ঠানিকখাতসহ এমএসএমই উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা মহামারির শুরুতেই ১ লাখ ৩ হাজার ১১৭ কোটি টাকা প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। তৃণমূল পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের কাছে এ প্রণোদনার সুবিধা পৌঁছে দিতে শিল্প মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ২০২৫ সাল নাগাদ জিডিপিতে এসএমইখাতের অবদান ৩২ শতাংশে উন্নীত করতে জাতীয় এসএমই নীতিমালা ২০১৯ প্রণয়ন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় গঠিত ৭টি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে এ নীতি বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ে একটি এসএমই উইং গঠনের প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানান।

মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, কোভিড-১৯ এর ফলে অপ্রাতিষ্ঠানিক শিল্পখাতসহ তৃণমূলের এমএসএমই শিল্পখাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পণ্য বিপণন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখাতের উদ্যোক্তাদের একটি বিরাট অংশ করোনাকালে চলতি মূলধন হারিয়ে ফেলেছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে সংযোগের সক্ষমতা না থাকায় তারা প্রণোদনার সুফল থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। তারা ব্যাংকিং সুবিধাবঞ্চিত অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তাদের সহজে ঋণ প্রাপ্তির ব্যবস্থা করতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জাতীয় এসএমই নীতি ২০১৯ বাস্তবায়নের মাধ্যমে করোনা পরবর্তী অর্থনীতি বেগবান করতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং কমিটি গঠনেরও পরামর্শ করেন তারা।

জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতি, বাংলাদেশ (নাসিব) এর সভাপতি মির্জা নুরুল গণী শোভন  অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সংলাপে এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ শফিকুল ইসলাম, বিসিক পরিচালক আলমগীর হোসেন, ন্যাশনাল প্রোডাক্টিভিটি অর্গানাইজেশনের (এনপিও) পরিচালক নিশ্চিন্ত কুমার পোদ্দার, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ-এর পরিচালক আজগর আলী সাবরী, নাসিবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বেলাল-সহ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন।

ইন্দোবাংলা/সিকে

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ