মঙ্গলবার, ০৩ অগাস্ট ২০২১, ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন

কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে ইউপি সদস্য গ্রেফতার

শেখর মজুমদার, নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম: বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর, ২০২০
  • ১৮৯ বার পঠিত

জয়পুরহাটে বিদেশে পাঠানো প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগে ইউপি সদস্য আব্দুল কুদ্দুস (৫৩) কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

বুধবার রাতে সদর উপজেলার চকশ্যাম এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আব্দুল কুদ্দুস জয়পুরহাট সদর উপজেলার রাঘপুর গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে।

র‌্যাব ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ০৪ নভেম্বর আনুমানিক সাড়ে ১০টায় সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল কুদ্দুস খঞ্জনপুর এলাকার ১৭ বছর বয়সী এক তরুণীকে বিদেশ পাঠানোর জন্য পাসপোর্ট তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি গোপন কক্ষে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে এবং তাকে আটকে রাখে। পরে পরিপারের লোকজন খোঁজাখুজি করে না পেয়ে সন্ধ্যায় জয়পুরহাট র‌্যাব ক্যাম্পে অভিযোগ করে। অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে র‌্যাব বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক অনুসন্ধান ও অভিযান চালিয়ে খঞ্জনপুর এলাকা থেকে ধর্ষিতা কিশোরীকে উদ্ধার করে। তারপর সদর উপজেলার চকশ্যাম এলাকায় ওই ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে বিভিন্ন অল্প বয়সী কিশোরীর অশ্লীল ছবি সম্বলিত মোবাইল ও সীমকার্ড জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ১০/১২ বছর যাবৎ কুদ্দুস মেম্বার দর্জি, সেলাই প্রশিক্ষণের নামে বিভিন্ন বয়সের নারীকে যৌন হয়রানি করে আসছে এবং জর্ডান সহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নারী পাচার সহ অবৈধভাবে অর্থ বিত্তের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। স্থানীয় প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি হওয়ায় অনেকেই তার বিরুদ্ধে ভয়ে মুখ খোলে না।

স্থানীয় দোগাছি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বলেন, দোগাছি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল কুদ্দুসের গ্রেফতারের ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানো হয়েছে। তারা জনপ্রতিনিধি আইনে ব্যবন্থা নিবেন।

র‌্যাব-৫, জয়পুরহাট র‌্যাব ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমএম মোহাইমেনুর রশিদ জানান, এ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা কার্যক্রম গ্রহণ করে ০৪ নভেম্বর রাত্রে সদর উপজেলার খঞ্জনপুর এলাকা থেকে ধর্ষিতা কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। ওই ঘৃণিত ধর্ষক ইউপি সদস্য আব্দুল কুদ্দুসকে চকশ্যাম এলাকায় গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে বিভিন্ন অল্প বয়সী কিশোরীর অশ্লীল ছবি সম্বলিত মোবাইল ও সীমকার্ড জব্দ করা হয়।

তিনি আরও জানান, ওই ধর্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় প্রতারণাসহ কয়েকটি মামলা রয়েছে এবং সে এর আগে বেশ ক’জন অসহায় নারীর জীবন ধ্বংস করার অপরাধে স্থানীয়ভাবে একজন কুখ্যাত অপরাধী হিসাবে পরিচিত। এ ব্যাপারে জয়পুরহাট থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ইন্দোবাংলা/আরকে

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ