মঙ্গলবার, ২৭ Jul ২০২১, ০৬:২৬ অপরাহ্ন

লাইসেন্স আছে হাতেগোনা কয়েকজনের কাছে বোয়ালখালীর ফার্মেসি গুলোতে ড্রাগ লাইসেন্স নেই বললে চলে

রউফুল আলম
  • আপডেট টাইম: শনিবার ১৪ নভেম্বর, ২০২০
  • ১৯২ বার পঠিত

 

এম মনির চৌধুরী রানা

বোয়ালখালী উপজেলা সদরসহ বিভিন্নস্থানে হাত বাড়ালে ওষুধের দোকান পাওয়া গেলেও অধিকাংশ ফার্মেসীতে নেই ড্রাগ লাইসেন্স। প্রশাসনের তদারকি না থাকায় দিন দিন ব্যাঙের ছাতার মতো যত্রতত্র গড়ে উঠেছে অসংখ্য ফার্মেসী।

যদিও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এর নিয়ম অনুযায়ী ওষুধের দোকান চালু করতে হলে দি বেঙ্গল ড্রাগস রুলস ১৯৪৬ অনুযায়ী অবশ্যই ড্রাগ লাইসেন্স নিতে হবে। যেহেতু সিডিউল সি(১)ভুক্ত, সিডিউল বহির্ভূত ঔষধ বিক্রয় ও বিক্রয় প্রদর্শনের নিমিত্তে মওজুদ এবং বিতরণের লাইসেন্স ঔষধ আইন ১৯৪০ বিধি অনুযায়ী জৈব ও অজৈব ওষুধ বিক্রয়ের অনুমতি স্বরূপ নবায়নযোগ্য ২বছর মেয়াদ কাল পর্যন্ত লাইসেন্স প্রদান করা হয়ে থাকে। ঔষধ আইনের অধ্যাদেশ ১৯৮২ অনুযায়ী লাইসেন্সে বর্ণিত সকল শর্তসমূহ মেনে চলিতে হয়। ড্রাগ লাইসেন্স ফার্মেসির দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের নিয়ম থাকলেও সরেজমিন পরিদর্শনে খোঁজ নিয়ে জানাযায় অধিকাংশ ফার্মেসিতে নেই ড্রাগ লাইসেন্স।

বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী ফার্মেসিতে ওষুধ ব্যতীত অন্য কোন পণ্য যেমন কসমেটিক, কীটনাশক, অপ্রয়োাজনীয় শিশুখাদ্য ইত্যাদি বিক্রয় সহ ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যর বেশি মূল্য কোন ঔষধ বিক্রয় করা যাইবে না এমন নীতি থাকলেও লাইসেন্স না থাকায় আইনের কোনো তোয়াক্কা না করে লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসি গুলো।অনেক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ওষুধের পাতায় মূল্য লেখা না থাকার সুবাদে ফার্মেসির অসাধু মালিকরা অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

উপজেলার চরনদ্বীপ,শ্রীপুর খরনদ্বীপ ও পশ্চিম গোমদন্ডী ইউনিয়নের বেশ কিছু ফার্মেসিতে ঔষধের পাশাপাশি লাইব্রেরী, কসমেটিক, ষ্টেশনারী দোকান ও চোখে পড়ে।

শাকপুরার বাসিন্দার মোহাম্মদ দিদারুল আলম জানান, এলাকার জনৈক ব্যক্তি তার ওষুধের দোকানে নিয়ম ভঙ্গ করে ফার্মেসির সাথে একই দোকানে অন্য ব্যবসাও করছেন। তারপরেও ওষুধের পাতার গায়ে মূল্য না থাকার সুবাদে সাধারণ মানুষ থেকে অনেক সময় নিম্নমানের ওষুধের মূল্য উচ্চমূল্য ও এক বক্সের মূল্য এক পাতা থেকে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

তবে গ্রাম-গঞ্জের অনেক ফার্মেসির বিরুদ্ধে রয়েছে একই অভিযোগ । তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ওষুধের মূল্য প্রতি পাতার গায়ে লেখারও দাবি জানান তারা।
কানুনগোপাড়া বাসিন্দার কাসেম পোপাদিয়ার ব্যবসায়ি নাজিম আহম্মেদ জানান, ডাক্তারী পড়ালেখাও করেনি, একাডেমিক কোন শিক্ষাগত যোগ্যতাও নেই, কিছুদিন ওষুধের দোকানে চাকরি করার সুবাদে এখন নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে ওষুধের দোকান খুলে চিকিৎসার নামে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। আপনারা লিখলে প্রশাসন অভিযান চালালে পূর্বে যেভাবে ভুয়া ডাক্তার ধরা পড়েছে এভাবে অনেক ভুয়া ডাক্তার ধরা পড়বে বলে মনে করেন তিনি।

বোয়ালখালী উপজেলা পল্লী চিকিৎসক ঐক্য সমিতির সভাপতি মাহাবুর আলম বলেন, আমার পিতা ও পিতামহ সারাজীবন গ্রাম্য ডাক্তার হিসেবে মানুষের সেবা করে গেছেন। গ্রামের ৮০ শতাংশ মানুষ সাধারণত অসহায় দরিদ্র জনগোষ্ঠী পল্লী চিকিৎসক থেকে চিকিৎসা সেবা নিয়ে সুস্থ হয়। সুস্থ মানসিকতা নিয়ে কাজ করে মানুষের অনেক সেবা করা যায়। মহামারি করোনা কালে এমবিবিএস ও এফসিপিএস ডিগ্রীধারী ডাক্তাররা যখন মৃত্যুর ভয়ে যখন চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দিয়েছে তখন গ্রাম্য চিকিৎসকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অসুস্থ মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়ে গেছি তারপরও আমরা ডাক্তার পদবী ব্যবহার করতে না পারাটা খুবই দুঃখজনক।

বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তার ড়া.জিল্লুর রহমান বলেন, অন্যান্য সব ধরনের ব্যবসা থেকে ওষুধের ব্যবসা কিন্তু ব্যতিক্রম ধর্মী এমন জীবনরক্ষাকারী একটি প্রতিষ্ঠানের ড্রাগ লাইসেন্স অবশ্যই থাকতে হবে। যাদের লাইসেন্স নাই তারা আইন বহির্ভূত অপরাধী হিসেবে গণ্য হইবে।

বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আশিয়া খাতুন বলেন, যারা ওষুধের দোকান করবে তাদেরকে ঔষধ আইনের সব নিয়ম নীতি মেনে চলতে হবে। পূর্বেও ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে একাধিক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। অনেক নামকরা ফার্মেসি থেকে বিক্রয় নিষিদ্ধ সরকারি ওষুধ উদ্ধার করে জরিমানা আদায় করা হয়েছিল। খুব শীঘ্রই এদের আইনের আওতায় আনতে পুরো বোয়ালখালীতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, অন্যান্য সব ব্যবসা থেকে ওষুধের ব্যবসা অনেক ব্যতিক্রমী। ওষুধ প্রশাসনের যতগুলো নিয়ম আছে সব নিয়ম-নীতি মেনে ওষুধের ব্যবসা না করলে আইন বহির্ভূত অপরাধী হিসেবে গণ্য হইবে।

পল্লী চিকিৎসকদের ব্যাপারে তিনি বলেন, মেডিকেল কলেজে পড়ালেখা করে এমবিবিএস ডিগ্রিধারীরা ডাক্তার পদবি ব্যবহার করতে পারবে। আর যাদেও এ ডিগ্রী নেই কিন্তু প্র্যাকটিস করে তারা পল্লী চিকিৎসক।

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ