মঙ্গলবার, ০৩ অগাস্ট ২০২১, ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন

আলু বীজ ও সার সংকটে দিশেহারা কৃষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম: মঙ্গলবার ১৭ নভেম্বর, ২০২০
  • ১৯৮ বার পঠিত

আলু চাষের অন্যতম জেলা জয়পুরহাট। এ জেলার কৃষকরা আলুর বীজ ও টিএসপি সারের সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

চাহিদা মতো আলুর বীজ ও টিএসপি সার না পাওয়ায় সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে তাদের। এ সুযোগে কিছু সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ীরা নিচ্ছেন নানা রকমের ব্যবসায়িক কৌশল। আলু ও সারের নির্ধারিত দামে মেমো দিলেও ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছ থেকে সংকট দেখিয়ে বেশি দামই নিচ্ছেন এমন অভিযোগ কৃষকদের।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ৪০ হাজার ৫’শ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ মৌসুমে বৃষ্টি কম হওয়া ও আলুর দাম বৃদ্ধি হওয়ায় চাষীরা ব্যাপকভাবে আলু চাষে ঝুঁকে পড়েছে। এ কারণেই বীজ ও টিএসপি সারের সংকট দেখা দিয়েছে। ‘এ’ গ্রেড আলু বীজ ৪০ কেজি বস্তার মূল্য ১৮৮০ টাকা ও ১৯২০ টাকা। ‘বি’ গ্রেড ১৮৪০ টাকা ও অন্যান্য জাতের ১৮০০ টাকায় সরকারীভাবে বিক্রির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা বীজ সংকটের অজুহাত দেখিয়ে ৪০ কেজির প্রতি বস্তা অ্যাস্টেরিক, ক্যারেজ ও ডায়মন্ড জাতের আলু বীজ ২ হাজার ৪’শ টাকা থেকে ২ হাজার ৭’শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন।

এদিকে, একই অভিযোগ টিএসপি সার কিনতে আসা কৃষকদের। টিএসপি সারের প্রতি বস্তার দাম সরকারীভাবে ১১’শ টাকা নির্ধারণ আছে। কিন্তু সার সংকট দেখিয়ে কিছু কিছু ব্যবসায়ীরা নানা কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছেন ১৩-১৪’শ টাকা পর্যন্ত।

জেলার কালাইয়ের মোলামগাড়ী হাট, মোসলেমগঞ্জ হাট, বৈরাগী হাট, নুনুজ, মাত্রাই, ক্ষেতলালের ইটাখোলা, চৌমুহনী সহ জেলার বিভিন্ন দোকানে আলু বীজ ও সার কিনতে আসা কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, সরকার কৃষকদের এতো সহযোগিতা করলেও আমরা চাহিদা মতো আলুর বীজ ও টিএসপি সার পাচ্ছি না। যেটুকু পাচ্ছি সেটিও আবার বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। সরকার অতিদ্রুত চাহিদা অনুযায়ী আলু বীজ ও টিএসপি সার সরবরাহ করুক, তাহলে আমরা নির্ধারিত দামে পাবো।

এদিকে কালাই উপজেলার বৈরাগীরহাটের আলু বীজ ব্যবসায়ী শাহজাহান, সার ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নানসহ বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, আমরা নির্ধারিত দামেই আলু বীজ ও সার বিক্রি করছি তবে কিছু কিছু এলাকায় ছোট-খাটো ব্যবসায়ীরা বেশি দাম নেওয়ায় আমাদের দুর্নাম হচ্ছে এবং আমাদের দেওয়া চাহিদা মতো বীজ ও সার সরবরাহ করতে পারছে না। এ কারণেই এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত চাহিদা অনুযায়ী আমাদের সরবরাহ করা হোক।

কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোবারক হোসেন জানান, সারের বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগে কয়েকটি দোকানে এক লক্ষ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং আমাদের নিয়মিত মনিটরিং অব্যাহত আছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক স. ম. মেফতাহুল বারি মুঠোফোনে জানান, জয়পুরহাটে এ বছর আলু বীজের কিছুটা সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। আলু বীজ ও টিএসপি সারের চাহিদা দেওয়া আছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে সরবরাহ করলে এ সমস্যা থাকবে না।

বিএডিসি’র বীজ বিপণনের (জয়পুরহাট ও বগুড়া আঞ্চল) যুগ্ম-পরিচালক সাইদুর রহমান মুঠোফোনে জানান, গত বছরের আলু বীজের চাহিদা ছিল ২ হাজার মেট্টিক টন। কিন্তু সেই চাহিদা মোতাবেক গত বছরে আলু বীজ বিক্রি হয়নি। এ জন্য আমরা চাহিদা বাড়াইনি। এ বছরে আলুর দাম বেশি হওয়ায় এবার চাষীরা ব্যাপকভাবে আলু চাষে ঝুকে পড়েছেন। এজন্য আলু বীজ ও টিএসপি সারের চাহিদা বেড়ে গেছে। টিএসপি সারের ২ হাজার মেট্টিক টনের চাহিদা ছিল, সেটি সরবরাহ করা হয়েছে। তারপরও স্থানীয় কমিটি টিএসপি সারের চাহিদার প্রস্তাব করলে সেটিও সরবরাহ করা হবে। কেউ নির্ধারিত দামের বেশি নিয়ে থাকলে স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা নিবেন।

তিনি আরও বলেন, জয়পুরহাট জেলায় বীজ সংরক্ষণের জন্য সরকারীভারে একটি হিমাগার নিমার্ণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেটির স্থান নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে। খুব তারাতারি সেটি বাস্তবায়ন করা হবে। হিমাগারটি নিমার্ণ হলে স্থানীয় কৃষকদের এসব সংকট থাকবে না।

ইন্দোবাংলা/এম. আর

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ