শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৯:০২ পূর্বাহ্ন

বিমাতা সন্তানের কছে অবরুদ্ধ বিধবা তফিলা বিবি : অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার মেলেনি

শাহ আলম সরকার সাজু, জয়পুরহাট থেকে
  • আপডেট টাইম: শনিবার ১৪ নভেম্বর, ২০২০
  • ৩৩৮ বার পঠিত

জয়পুরহাট কালাই উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের দুধাইল নয়াপাড়া গ্রামের মৃত-আব্দুল কাইয়ুম মিয়ার বিধবা স্ত্রী তফিলা বিবিকে নিজ বাড়ীতে অবরুদ্ধ করে রেখেছে সৎ ছেলে মাহমুদ মিয়া।

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিতো অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার মেলেনি বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত বিধবা তফিলা বিবির। সে একাই নিজ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
জানা গেছে, কালাই উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের দুধিয়া নয়াপাড়া গ্রামের মৃত-আব্দুল কাইয়ুম মিয়ার ১ম স্ত্রী অসুস্থ্য থাকা কালে ২য় বিবাহ করেন তফিলা বিবিকে। ১ম স্ত্রীর ঘরে জন্ম গ্রহণ করেন ৩ ছেলে ২ মেয়ে। আর তফিলা বিবির গর্ভে জন্ম নেয় ২ ছেলে ও ১ মেয়ে। সতীনের ছেলে মেয়েকে নিজের সন্তানের মতো আগলে রেখে তাদের মানুষ করেন। তারা সবাই চাকুরীজীবি ও সৌদি প্রবাসি। মেয়েদের বিবাহ হওয়ায় তারা স্বামীর সংসার করছে। আজ এই বৃদ্ধ বয়সে সৎ ছেলে মাহমুদ মিয়া তাকে নিজ বাড়ীতে অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
স্বামীর পৈত্তিক সুত্রে ৩৫ শতাংশ বাড়ী ভিটা ও পতিত জমি থাকা অবস্থায় বিগত ২০০৯ সালের ১ নভেম্বর মুল মালিক বিধবা তফিলা বিবির স্বামী কাইয়ুম মিয়া মারা যান। এরপর ওই ৩৫ শতাংশ জমির মালিক ৫ ছেলে ৩ মেয়ে ও স্ত্রী তফিলা বিবি। অভিযুক্ত সৎ ছেলে ভাইদের মধ্যে দ্বিতীয় সেও সৌদি প্রবাসি ছিলো। বেশকিছু দিন আগে সৌদি আরব থেকে গ্রামে এসে বৃদ্ধা তফিলা বিবির বাড়ীর পায়খানা সহ বাড়ীটি বাঁশ ও টিন দ্বারা ঘেরাও করে নিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে।
তফিলা বিবির ২ ছেলে দেশের বাহিরে অথাৎ সৌদি আরবে দীর্ঘদিন যাবৎ কর্মরত আছে। সতীনের ঘরের ২ ছেলে চাকুরী করায় তারাও বাহিরে অবস্থান করছে। এ সুযোগে বাড়ী সহ প্লটের সব জায়গা অভিযুক্ত সৎ ছেলে মাহমুদ মিয়া দখল করে নিয়ে তফিলা বিবির লাগানো ২ টি কড়ই গাছ জোর পূর্বক কেটে নেয় যাহার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ টাকা।
এসব বিষয়ে তফিলা বিবি বাধা দিলে তাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেয়। গত ৫ আগষ্ট/২০ ইং তারিখে অভিযুক্ত সৎ ছেলে মাহমুদ মিয়া গাছ কাটার সময় তফিলা বিবি বাধা দিলে তাকে ধাক্কা দেয় মাহমুদ মিয়া। এতে সে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। ওই অসুস্থ্য অবস্থায় ওই দিনেই কালাই থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন তফিলা বিবি। অভিযোগ পেয়ে থানা থেকে আল আমিন নামে এক এসআই তদন্তে আসেন। এতেও তফিলা বিবি থানা থেকে কোন সুষ্ঠ বিচার না পেয়ে গত ১৩ অক্টোবর/২০ ইং তারিখে জয়পুরহাট জেলা পুলিশ সুপার বরাবর বিষয়টি অবহিত পূর্বক অভিযোগ দায়ের করেন।
এ অভিযোগ দেওয়ার পর গত ১৪ আগষ্ট কালাই থানা পুলিশ নাটকীয় ভাবে ঊভয় পক্ষকে ডেকে নিয়ে আলোচনা করেন এবং অভিযুক্ত মাহমুদ মিয়াকে নির্দেশ প্রদান করা হয় তফিলা বিবির বসতবাড়ীর বাঁশের ও টিনের বেড়া সড়িয়ে নিয়ে তাকে অবরুদ্ধ থেকে মুক্তি দেওয়ার শর্তে কৌশলে বৃদ্ধা তফিলা বিবির দায়েরকৃত অভিযোগটি থানা থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এরপরও অদ্যবধি পর্যন্ত বাঁশের ও টিন দ্বারা তফিলা বিবির বাড়ীটি অবরুদ্ধ থেকে মুক্ত করা হয়নি।
তাই তিনি সৎ ছেলে মাহমুদ মিয়ার অবরুদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের জরুরী আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইন্দোবাংলা/আর. কে/শাআসসা

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ