রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:১১ অপরাহ্ন

কিশোরগঞ্জে প্রতারকের ভূমিকায় সঃপ্রাঃ স্কুল শিক্ষক রশিদুল মাস্টার বিভিন্ন আদালতে মামলা গ্রেফতারী পরোয়ানা

ইন্দোবাংলা ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: মঙ্গলবার ২২ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৪৬৯ বার পঠিত

জাহাঙ্গীর আলম, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

 

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার “উত্তর বড়ভিটা চন্দনপাঠ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়”-এর সহকারী শিক্ষক মোঃ রশিদুল ইসলাম পারিবারিক কারণে জলঢাকা পৌরসভায় বাড়ী, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ ও মেয়ের বিয়ে দেয়ার জন্য জরুরী টাকার দরকারহেতু বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাওলাদ গ্রহণ করেন। হাওলাদ গ্রহণের স্বপক্ষে হাওলাদী টাকা পরিশোধের জন্য রশিদুল ইসলাম তাহার নামে পরিচালিত বিভিন্ন ব্যাংকের চেকের পাতায় টাকার পরিমান লিখে স্বাক্ষর করে দেন। হাওলাদ প্রদানকারীর যাতে সমস্যা না হয় সে জন্য চেকের স্বপক্ষে নন জুডিসিয়াল স্টাম্পে চুক্তিপত্র ও অঙ্গিকার নামা লিখে স্বাক্ষর ও টিপসহি করে দেন।
জানা যায়, পরবর্তীতে উক্ত হাওলাদী টাকা পরিশোধের জন্য টালবাহানা শুরু করে। আজ দেবো, কাল দেবো, জমি বিক্রি হলে দেবো। আমার জলঢাকা পৌরসভার বাড়ী বিক্রি হলে দেবো। আমার সরকারী চাকুরী বিলের লোন ৯% সুদে ২০ লক্ষ টাকা ঋণ পাচ্ছি । ঋণটা পেলেই টাকা পরিশোধ করে দিবো। শেষে বলে আমি ব্যাংক চেক দিয়েছি আপনি টাকা তুলে নেন ইত্যাদি ইত্যাদি। রশিদুল ইসলামের কথামতো অগ্যতা হাওলাদ প্রদানকারীরা নিরুপায় হইয়া ব্যাংক চেকের পাতাটি নগদায়নের জন্য ব্যাংকে জমা প্রদান করিলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যাচাই করে ডিসওনার স্লীপ প্রদান করেন। অত:পর হাওলাদ প্রদানকারীরা স্ব-স্ব আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করেন। যথাসময়ে এন.আই.এক্টের ১৩৮ ধারা মোতাবেক বিজ্ঞ আমলী আদালতে মোকদ্দমা অনায়ন করেন।

প্রথম পাওনাদার মোঃ শহিদুল ইসলাম টাকার পরিমান ১২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। মামলা নং- সি.আর ২২৫/১৯ জলঢাকা এস.সি-৫১/২০, মামলার তারিখ- ২৭/১০/২০১৯ইং। উক্ত মামলার (কাউন্টার মামলা) প্রটেক্ট হিসেবে রশিদুল ইসলাম তার ছেলে-মেয়ে ও ভাইকে স্বাক্ষী করে স্ত্রী রনজিনা আফরোজাকে দিয়ে ২ হাজার সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- পি: ৩২৫/১৯ তাং- ১৮/১১/১৯ইং।

দ্বিতীয় পাওনাদার মোছাঃ কাজুলী বেগম টাকার পরিমান ৮ লক্ষ। মামলা নং- সি.আর ১৭/২০, তাং- ২৭/১২/১৯ ইং।

তৃতীয় পাওনাদার মোঃ জয়নাল আবেদীন টাকার পরিমান ১২ লক্ষ। মামলা নং- সি.আর ৯২/২০, তাং- ০৫/১০/২০ইং।

চতুর্থ পাওনাদার শরিফুল ইসলাম মোকদ্দমা অনায়ন করার পূর্বেই রশিদুল ইসলাম ৪২০/৪০৬/৫০৬ ধারায় মিথ্যা মামলা অনায়ন করেন। মামলা নং- ০৫, তাং- ২৫/০৭/২০ইং।

 

পঞ্চম পাওনাদার ঢাকায় চাকুরীরত মোঃ আব্দুল হাকিম টাকার পরিমান ৫ লক্ষ। ঢাকা জর্জ কোর্ট মামলা নং- ২৭/২০, তাং- ১১/১০/২০ইং।

 

ষষ্ঠ পাওনাদার মোঃ মিজানুর রহমান টাকার পরিমান ৮ লক্ষ। মামলা নং- সি.আর ৮৯/২০, তাং- ২০/১০/২০ইং। আরো আছে।

 

সপ্তম পাওনাদার, মোঃ কামরুজ্জামান টাকার পরিমাণ ১২ লক্ষ ৫০ হাজার । কামরুুজ্জামান গত ০৯/১২/২০ইং রুপালী ব্যাংক লিঃ কিশোরগঞ্জ শাখা নীলফামারীতে পি/১৪২২৬ সঞ্চয়ী হিসাব নাম্বারে ১২,৫০০০০/- টাকা নগদায়নের জন্য জমা করলে ব্যাাংক ম্যানেজার ডিসওনার স্লিপ প্রদান করেন। একাউন্টে টাকা জমা না করে টাকা উত্তোলনের জন্য চেকের পাতা দেয়ায় প্রত্যারক রশিদুল মাস্টারের বিরুদ্ধে মামলা করার পরামর্শ প্রদান করেন।

 

অষ্টম পাওনাদার, 
মোঃ বাদল রানা টাকার পরিমাণ ১৫ লক্ষ । গ্রামের বাড়ী চাঁদখানা ইউনিয়নের বগুলাগাড়ী হলে ও চাকুরীগত কারণে ঢাকা শান্তিনগরে থাকেন। হাওলাদী টাকা পরিশোধ করার জন্য প্রত্যারক রশিদুল মাস্টার বাদল রানাকে রুপালী ব্যাংক লিঃ কিশোরগঞ্জ শাখা, নীলফামারী পি/১৪২২৬ সঞ্চয়ী হিসাব নাম্বারের ১ টি ব্যাংক চেকের পাতায় ১৫ লক্ষ টাকা মাত্র অংকে এবং কথায় লিখে দিয়ে স্বাক্ষর করে বাদল রানাকে প্রদান করেন এবং বলেন যে, আপনি ঢাকার যে কোন ব্যাংক হতে উক্ত টাকা তুলে নিতে পারেন। টাকা তুলতে যেন সমস্যার সম্মুখীন না হন এ জন্য একটি নন- জুডিশিয়াল স্টাম্পে চুক্তিপত্র লিখে দেন। বাদল রানা গত ২২/১২/২০ইং রুপালী ব্যাংক লিঃ মতিঝিল শাখা, ঢাকায়  পি/১৪২২৬ সঞ্চয়ী হিসাব নাম্বারে ১৫,০০০০০/- টাকা নগদায়নের জন্য জমা করলে ব্যাাংক ম্যানেজার ডিসওনার স্লিপ প্রদান করেন। একাউন্টে টাকা জমা না করে টাকা উত্তোলনের জন্য চেকের পাতা দেয়ায় ব্যাংক কতৃপক্ষ প্রত্যারক রশিদুল মাস্টারের বিরুদ্ধে মামলা করার পরামর্শ প্রদান করেন।
জানা যায়, রশিদুুুল মাস্টারের কাজ থেকে পাওনা টাকা উদ্ধারের জন্য ৭ টি মোকদ্দমা আদালতে বিচারাধীন। আরো কয়েকজন তাদের পাওনা টাকা উদ্ধারের জন্য আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রশিদুল মাস্টার আদাালত হইতে জামীন না নেয়ায় কয়েকটি মামলায় বিজ্ঞ আদালত রশিদুল মাস্টারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন। 
 

এ ব্যাপারে রশিদুল ইসলাম মাস্টার জানান, আমি টাকা নিয়েছি সত্য। ব্যাংক চেক ও স্টাম্প লিখিত দিয়েছি পরিশোধ করে দেবার জন্য। কিন্তু তারা আমার বিরুদ্ধে আদালতের আশ্রয় নেয়ায় মামলার প্রটেক্ট হিসেবে আইনজীবীর পরামর্শে মিথ্যা মামলা দিয়েছি। যা পুলিশ প্রশাসন সত্য হিসেবে একশনে আছে। আইন এখন আমার পক্ষে।

প্রত্যারক রশিদুল মাস্টারের মোবাইল নাম্বার ০১৭৭৪৪০৯৪৮৫, ০১৭১৭৪৬২৯২১ আরো আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ