বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:০৩ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রামে বোয়ালখালী ৩০০ বছরের বুড়া মসজিদ নতুন রুপে সাজবে- আছিয়া খাতুন

রউফুল আলম
  • আপডেট টাইম: শুক্রবার ১১ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৩৫২ বার পঠিত

 

এম মনির চৌধুরী রানা

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছিয়া খাতুন বলেন বেয়ালখালীতে কাজ করতে গিয়ে জানার সুযোগ হয় উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শ্রীপুর বুড়া মসজিদ সম্পর্কে।

ইউএনও হিসেবে অফিসিয়াল মোতয়াল্লী দায়িত্বে থাকায় সরেজমিন জানার পরিধি কিছুটা বিস্তৃত হয়। অপার বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করি জাতি-ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সব ধরনের মানুষের কাছে মসজিদটি এক তীর্থভূমি হিসেবে সমাদৃত।

প্রতি শুক্রবার জুমারদিনে দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মুসল্লী জুমার নামাজ আদায় করতে ছুটে আসেন এ মসজিদে। বিভিন্ন নিয়ত করে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে অসংখ্য মানুষ এখানে ছুটে আসেন কেউ মোমবাতি জালিয়ে, কেউ চুন লাগিয়ে, কেউ রশি বেঁধে, কেউ টাকা-পয়সা দান করে, কেউবা পশু পাখির সদকা দিয়ে মানত করেন। মনের বাসনা পূরণের জন্য এ মসজিদে মানত করলে তাৎক্ষনিক ফল পাওয়া যায় বলে অনেকেই বিশ্বাস করেন এই বিশ্বাস প্রচলিত আছে ।

মসজিদটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও বেশ তাৎপর্যময়। যতদূর জানা যায়, মোঘল আমলে শেখ নাছির উদ্দিন নামক একজন আলেম ভারতের গৌড় থেকে অমুসলিম অধ্যুষিত এ এলাকায় এসে দ্বীন প্রচারের মাধ্যমে মানুষজনকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হতে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।

প্রায় ৩শত বছর পূর্বে মোঘল আমলের শেষ দিকে তাঁর পৌত্র ওয়াসিন চৌধুরী এ মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন বলে কথিত আছে। ঝোঁপ-ঝাড়ের মাঝে শন পাতার বেড়া ও ছাউনি দিয়ে তৈরি এ মসজিদটিতে গায়েবী আজান শোনা যেত বন্য পশুপাখিরাও এ মসজিদে ইবাদত করত বলে জনশ্রুতি রয়েছে। কালের সাক্ষী হয়ে বিভিন্ন সময় সংস্কার ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে মসজিদটি বর্তমান পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।

ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ মসজিদটির পরিচালনায় নিযুক্ত ব্যক্তিদের অবহেলা ও অদক্ষতায় বহু বৎসর যাবত মসজিদটিতে অবকাঠামোগত কোন উন্নয়ন করা হয়নি।

সংস্কার ও পরিচর্যার অভাবে বর্তমান ভবনটি অত্যন্ত জীর্ণ ও ঝাঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে, বেশ কয়েক জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে, জুম্মাবারে মুসল্লীদের স্থান সঙ্কুলান কঠিন হয়ে পড়েছে।

২০০০ সালে ওয়াকফ এস্টেট হিসেবে ইসি তালিকাভুক্ত হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে মোতয়াল্লীসহ কতিপয় ব্যক্তিবর্গের যোগসাজশে মসজিদের দানবাক্সের টাকা আত্মসাত হয়। ২০১৪ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার খন্দকার নূরুল হক এর উদ্যোগে এ দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয় এবং তৎপ্রেক্ষিতে ওয়াকফ প্রশাসন।

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ