বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:০৭ অপরাহ্ন

কিশোরগঞ্জে বিজয়ের আলোয় বশিসাস

রউফুল আলম
  • আপডেট টাইম: বুধবার ১৬ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ২৩৯ বার পঠিত

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাম রাজু, নীলফামারি জেলা প্রতিনিধিঃ

আজ ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতির জীবনে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল দিন, পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্তির দিন। সারাদেশের মানুষ আজ আনন্দ-উৎসব এবং একই সঙ্গে বেদনা নিয়ে দিবসটি পালন করেছে। স্বাধীনতার জন্য যে অকুতোভয় বীর সন্তানেরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, গভীর বেদনা ও শ্রদ্ধায় তাদেরকে স্মরণ করা হয়েছে।

তবে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এবার বিজয় দিবস উদ‌যাপনে জাতীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি মানার মধ্যদিয়ে এ আয়োজন টি সম্পুর্ন করা হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে বড়ভিটা শিক্ষা ও সংস্কৃতি সংসদ ( বশিসাস)এর আয়োজনে বড়ভিটা পশ্চিম পাড়ায় অনুষ্টিত হলো একটি জাঁকজমক পূর্ন কৃষক-কৃষাণী দের নিয়ে প্রতিযোগিতা মূলক খেলা।উক্ত খেলায় জনাব মোঃআশরাফুল ইসলাম রাজুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃআ.ন.ম মনজুরুল হক(চেয়াম্যান পদপ্রার্থী ১নং বড়ভিটা ইউপি),বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ এ এস আই জুয়েল ইসলাম(কিশোরগঞ্জ থানা),জনাব মোঃআবু হোসেন।আরও উপস্থিত ছিলেন বশিসাস পরিবারের সদস্য মোঃরানা মিয়া,রাকিব ইসলাম,ছেনারুল ইসলাম,লিওন ইসলাম সহ অনেকেই।

৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের এই দিন বাঙালি জাতি স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ও হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে যৌথ বাহিনীর কাছে। এর মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার রক্তিম সূর্যালোকে উদ্ভাসিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। সেই থেকে ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস। যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যে দিবসটি সাড়ম্বরে উদযাপন করা হয়।

স্বাধীনতার জন্য বাঙালিকে দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পর দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে যে পাকিস্তান রাষ্ট্রের অভ্যুদয় হয়েছিল, সেখানেও বাঙালিদের ওপর নেমে এসেছিল পশ্চিম পাকিস্তানিদের শোষণ-নির্যাতন। তবে প্রথম আঘাত এসেছিল মাতৃভাষার ওপর।

অনুষ্ঠানে এ এস আই জুয়েল ইসলাম বলেন,১৯৫২ সালে বুকের রক্তে রাজপথ রাঙিয়ে বাংলা মায়ের সন্তানেরা মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করে এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে স্বাধিকার চেতনার স্ফুরণ ঘটেছিল, আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় কালক্রমে তা স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপ নেয়। বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার জন্য চূড়ান্ত যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে তোলেন।

স্বাধীনতার ঠিক আগে ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ তথা পৃথিবীর ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তার দোসর রাজাকার আল-বদর, আল-শামস মিলিতভাবে পরিকল্পনা করে বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। বাঙালির চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র দুই দিন আগে ঘটে এক মর্মান্তিক হত্যাযজ্ঞ। তারা বেছে বেছে অসংখ্য শিক্ষাবিদ, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কবি ও সাহিত্যিকদের হত্যা করে।তাঁদেরকে স্মরন করে বশিসাস পরিবারে আজকের এই আয়োজন ইতিহাসের পাতায় স্মরনীয় হয়ে থাকবে বলে তিনি তুলেধরেন।

সভাপতি আশরাফুল ইসলাম রাজু বলেন,মহামারি করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারনে ব্যাপকভাবে আজকের এইদিনটি উদযাপ করতে না পারলেও মুক্তিযুদ্ধেরর চেতনায় বিশ্বাসী এই বশিসাস সংগঠনটি স্মরন করেছে সেই সকল শহিদদের।আনন্দ দিয়েছে এলাকার সাধারন মানুষদের।তিনি আরও বলেন,আজ সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে পাশাপাশি বশিসাসের কেন্দ্রিয় কার্যালয়ে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ