বৃহস্পতিবার, ১৭ Jun ২০২১, ০৬:১৫ পূর্বাহ্ন

হাতুড়ে ডাক্তারের দৌরাত্ম্য বাড়ছে নজরদারী নেই

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম: বুধবার ২২ জানুয়ারী, ২০২০
  • ২৭৩ বার পঠিত

 

মোঃ বাবুল হোসাইন, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধিঃ

পঞ্চগড়ে হাতুড়ে ডাক্তারদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে। ডিপ্লোমাধারী এসব চিকিৎসক প্রত্যন্ত এলাকার হাটবাজারে ওষুধের দোকানগুলোতে চেম্বার খুলে বসেছেন। সপ্তাহের প্রতিদিনই এসব নামধারী ডাক্তার চেম্বারে বসে চিকিৎসা প্রদান করছেন। তাদের নামে মাইকিং করা হয়। গ্রামীণ জনপদের নিম্ন আয়ের মানুষেরা মাইকিংয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নাম শুনে সেবা নিতে ছুটে আসেন। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো নজরদারি না থাকায় প্রতারক চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য থামছে না। সম্প্রতি একজন প্যারা মেডিকেলের ডিপ্লোমাধারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে জেলা সিভিল সার্জনের কাছে এমন অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে পঞ্চগড় জেলা ও জেলার বাইরে ডিপ্লোমা ইন প্যারা মেডিকেল অপটিক ফিজিশিয়ান আইয়ুব আলীর প্রায় অর্ধশত চেম্বার রয়েছে। শুরুতে নামের আগে ডাক্তার ব্যবহার করলেও পরে তা কৌশলে সরিয়ে নেন এই চিকিৎসক। গ্রামগঞ্জে তাকে চোখ, ই এনটি ও মাথাব্যথা রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলে মাইকিং করা হয়। তার চিকিৎসার কারণে তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের হুলাসুজোত এলাকার শরিফ হোসেন (৪) নামে এক শিশুর জীবন সংকটে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। তার কান ও চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে ওই শিশু ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার গত মঙ্গলবার সিভিল সার্জন বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। অভিযোগে জানা যায় গত ছয়মাস আগে ৪ বছরের ছেলে শরিফ হোসেনের কানে সংক্রমণ হলে গত বছরের ২৪ নভেম্বর তেঁতুলিয়া বাজারের খান ফার্মেসিতে বসা ডিপ্লোমা ইন প্যারা মেডিকেল আইয়ুব আলীর শরণাপন্ন হন। ১৫ দিনের চিকিৎসায় কোনো ফলাফল না পেয়ে আবার শিশুটিকে আয়ুব আলীর তিরনই হাট বাজারের চেম্বারে নিয়ে যাওয়া হয়। আয়ুব আলী ৩০০ টাকা ফি নিয়ে কানের ভেতর একের পর এক সিরিঞ্জ দিয়ে পানি স্প্রে করেন। কয়েকদিন পরেই শরিফের মধ্যে একটা পরিবর্তন ল্য করে তার পরিবারের লোকজন। পরিবারের লোকজন বুঝতে পারেন শিশুটি দেখতে পাচ্ছে না এমনকি কানেও শুনছে না। পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে পঞ্চগড় শহরে ফলমূল হাটির সামনেই কয়েকজন ডাক্তার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত দেখা যায় অনেক মানুষের ভীড়। একজন ডাক্তারেই একাধিক রোগের চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। এতে অনেকেই প্রতারিত হচ্ছে বিস্তারিত আসতেছে খুব শ্রীঘই।

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ