রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:০৩ পূর্বাহ্ন

লোহাগাড়ায় হাম-রোবেলা টীকা দেওয়ার পর শিশুর মৃত্যুর

রউফুল আলম
  • আপডেট টাইম: রবিবার ২৭ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ২৯৮ বার পঠিত

 

এম মনির চৌধুরী রানা

চট্টগ্রাম লোহাগড়া উপজেলার উত্তর কলাউজান মকবুল সিকদার পাড়া এলাকায় হাম রোবেলা টীকা দেওয়ার পরপরই শিশুর মৃত্যু হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।নিহত শিশু নাওরাত হানিফ(৭) ওই এলাকার সামশু চেয়ারমানের ছেলে মো. হানিফ চৌধুরী শিমুলের মেয়ে।

রোববার (২৭শে ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে বলে জানান স্থানীয় ইউপি সদস্য সালাউদ্দিন সিকদার।সারা দেশের ন্যায় একযোগে লোহাগাড়ায় হাম-রোবেল টীকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়।

নিহতের মা রাবেয়া বলেন, টীকা দেওয়ার পরপরই আমার মেয়ে নাওরাত পাশে এসে মাথা ঘুরছিল বলে মাটিতে পড়ে যায়। এর পরপরই ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার পথেই মারা যায় সে। আমার সন্তানকে তারা ইচ্ছে করে হত্যা করেছে। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সন্তান হত্যার বিচার চান।

প্রবাসী শিমুল জানান, টীকা দেওয়ার পর সন্তান অসুস্থ হওয়ার খবর জেনে বাড়িতে এসে মোটরসাইকেল নিয়ে লোহাগাড়া সদরে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে টীকা দেওয়ার পরপরই নাওরাত মারা যাওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।ঘটনার পরপরই টীকা প্রদানকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক জেবুন্নিছাসহ অন্যান্যরা পালিয়ে যেতে চাইলে স্থানীয়রা টীকা কেন্দ্রে ঘিরে রাখে।

ঘটনার পরপরই লোহাগাড়া থানা পুলিশের এসআই মাহফুজুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে শামসুল হক চেয়ারম্যান বাড়ি টীকা কেন্দ্রে এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।

স্বাস্থ্য পরিদর্শক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে টীকা প্রদান করেন,স্বাস্থ্য পরিদর্শক জেবুন্নিছা। এসময় উপস্থিত সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক সীমা চৌধুরী ও পরিবার কল্যাণ সহকারী ঝর্ণা রাণী দাশ।

ঘটনার পরপরই লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান হাবিব জিতু, ওসি জাকের হোসাইন মাহমুদ, স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ হানিফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা: জাহেদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

নিহতের চাচা জাহাঙ্গীর চৌধুরী বলেন, হাম-রোবেল টীকা দেওয়ার পর আমার ভাতিজি নাওরাত অসুস্থ হলে স্বাস্থ্য কর্মীদের জানানো হলে তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বলেন। তবে কোন প্রকার এন্টি ভ্যাকসিন নাই বলে সাফ জানিয়ে দেন। কেন এন্টি ভ্যাকসিন ছিলােনা মর্মে প্রশ্ন রাখেন পরিদর্শনে আগতদের। তিনি স্বাস্থ্য কর্মীদের অবহেলার কারণে তার ভাতিজি মারা গেছে বলে জানান।

স্বাস্থ্য পরিদর্শক জেবুন্নিছা বলেন, সাড়ে ১০টার দিকে টীকা প্রদান করি। কিছুক্ষণ পরে জানতে পারি টীকা প্রদানের পর নাওরাত হানিফের কিচুনি হলে জানালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পরামর্শ দিই। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যাওয়ার খবর পেয়ে খুবই খারাপ লাগছে বলেও জানান তিনি।

লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও প:প: কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ হানিফ বলেন, নাওরাত নামের এক শিশু টীকা দেওয়ার পর মারা যাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। শিশুটি টীকার কারণে মারা গেছে নাকি অন্য কোন কারণে মারা গেছে তদন্ত ছাড়া কিছুই বলা যাচ্ছে না।

লোহাগাড়ার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকের হোসাইন মাহমুদ বলেন, ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশের টীম পাঠানো হয়েছে, আমিও পরিদর্শন করি। লাশ দাফনের ব্যবস্থা চলছে। এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত থানায় কোন প্রকার অভিযোগ হয়নি বলেও জানা যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ