বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২২, ০৬:০৩ অপরাহ্ন

মিথ্যা মামলার অভিযোগে বাদীর ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

ইন্দোবাংলা প্রতিনিধি, জয়পুরহাট
  • আপডেট টাইম: মঙ্গলবার ৫ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৪০৯ বার পঠিত

জয়পুরহাটে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা দায়ের করায় বাদী শ্রীমতি নন্দ রানী (৩১) কে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৩০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৫ মাসের জেল দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার বিকেলে জয়পুরহাটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোঃ রুস্তম আলী এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত নন্দ রানী কালাই উপজেলার বিয়ালা গ্রামের শ্রী জিতেন চন্দ্র মালীর মেয়ে।

বাদীর মামলার অভিযোগে জানা যায়, মামলার বাদী নন্দ রানী স্বামী পরিত্যক্তা। কালাই উপজেলার বিয়ালা গ্রামে ২০১৪ সালের ২১ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে প্রতিদিনের মতো নন্দ রানী তার বাবার বাড়িতে ঘুমিয়ে থাকে। রাতে আবহাওয়া অত্যন্ত গরম হওয়ায় ঘরের দরজা খোলা ছিল। আসামী ও বাদীর পরিবার উভয়ের মৎস্যজীবি। এ কারণে আসামী তাদের বাড়িতে এসে দরজা খোলা দেখে সকলের অগোচরে ওই সময় আসামী আবুল হায়াৎ ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এসময় নন্ধ রানীর চিৎকারের চেষ্টা করলে আসামী আবুল হায়াৎ জোড়পূর্বক মুখে ওড়না চেপে ধরে ধর্ষণ করে। তখন নন্দ রানী মুখের চেপে ধরা ওড়না সরিয়ে চিৎকার করলে প্রতিবেশী কয়েকজন এগিয়ে আসার সময় আসামী দরজা খুলে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে প্রতিবেশীরা তাকে আটক করে ও মিমাংসার প্রস্তাব দেয় এবং সুকৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে ২০১৪ সালের ২২ এপ্রিল নন্দ রানী বাদী হয়ে কালাই থানায় মামলা করেন।

পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রতন কুমার রায় ২০১৪ সালের ২৫ আগস্ট মামলার সত্যতা না পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। এরপর দীর্ঘ শুনানির পর ২০২১ সালের ৫ জানুয়ারি মঙ্গলবার আদালতে বাদী স্বাক্ষী দিতে আসলে আদালত ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৩০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৫ মাসের জেল দিয়েছেন।

বাদীর বিরুদ্ধে সাজা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে এ্যাড. নৃপেন্দ্রনাথ মণ্ডল পিপি বলেন, এইটা একটি সমাজের জন্য ম্যাসেজ। ভবিষ্যতে ধর্ষণ, নারী ও শিশু মিথ্যা মামলা ভেবে চিন্তে দায়ের করবে। এতে করে মিথ্যা মামলা করা থেকে সাধারণ মানুষ বিরত থাকবে।

ইন্দোবাংলা/সি.কে

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ