বৃহস্পতিবার, ২৪ Jun ২০২১, ০৮:০১ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম বহিরাগত ঠেকাতে নগরীর চার প্রবেশদ্বারে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট

রউফুল আলম
  • আপডেট টাইম: শনিবার ৩০ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৭৭ বার পঠিত

 

মোঃ শহিদুল ইসলাম (শহিদ) বিভাগীয় প্রতিনিধি চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনকে ঘিরে চার স্তরের নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে পুরো নগরীকে। ভোটকেন্দ্র তথা নির্বাচনী এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা নির্বাচনে সাধারণ মানুষ ও ভোটারের নিরাপত্তায় র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি, আনসারসহ প্রায় ১৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। এদিকে বহিরাগত ঠেকাতে নগরীর চার প্রবেশদ্বারে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। নির্বাচনের দিন থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো বিজয় মিছিল করা যাবে না বলে জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার সালেহ মো. তানভীর। চসিক নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, ‘নির্বাচনকে ঘিরে যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা ঘটতে না পারে এজন্য নগরীকে নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। নির্বাচনে ৭ হাজার ৭৭২ পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। সেই সঙ্গে ২৫ প্লাটুন বিজিবি, থাকবে র‌্যাবের ৪১টি টিম। এছাড়া মোবাইল টিম থাকবে ৪১০টি। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে থাকবে ১৪০টি দল। ভোটে দায়িত্ব পালন করবে প্রতিটি ওয়ার্ডে র‌্যাব ও পুলিশের একটি করে টিম। আনসারের প্রায় তিন হাজার ৮০০ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনে ৬৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ২০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করবেন। এরমধ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং বিজিবির ২৫টি টিমের সঙ্গে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। এছাড়া দুটি ওয়ার্ড মিলে একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র আছে ৪১৬টি। সেগুলোতে ১৮ জন করে পুলিশ ও আনসার সদস্য থাকবে। বাকি সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে ১৬ জন করে পুলিশ ও আনসার থাকবে। আগের চেয়ে বেশি আইনশৃঙ্খলা সদস্য রেখেছি যাতে ভোটগ্রহণে কোনো সমস্যা না হয়। ইতোমধ্যে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের কাছ থেকে আচরণবিধি ভঙ্গের বিষয়ে পাওয়া ৫৮টি অভিযোগের মধ্যে ৪৮টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বলেছেন, ‘সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। কোনো বহিরাগত এসে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। যাদের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র থাকবে না তাদের জন্য মানে বহিরাগতদের জন্য নগরীর দ্বার বন্ধ। চাকরি ও বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ নগরীতে প্রবেশ করতে পারবেন না। ভোটকেন্দ্রে যারা আসবেন তারাও জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে নিয়ে আসবেন। আমরা বহিরাগত ঠেকাতে চাই। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় আমরা চেকপোস্ট বসিয়েছি। এর ফলাফল আমরা পেয়েছি।’ মঙ্গলবার দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ কমিশনার এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি কেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের সার্বিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। সিএমপি কমিশনার বলেন, নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী, নির্বাচনের দিন থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা কোনো মিছিল, সমাবেশ বা বিজয় মিছিলের সুযোগ নেই। যারাই জয়ী হোক, কোনো প্রকার বিজয় মিছিল করা যাবে না। আমরা ডানেও তাকাব না, বামেও তাকাব না। যেই আইনশৃঙ্খলার জন্য থ্রেট হয়ে দাঁড়াবে তাকে কঠোরভাবে দমন করব। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (বিশেষ শাখা) মো. আবদুল ওয়ারিশ খান বলেন ‘নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় থাকবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ১১ হাজার ৭০০ ইভিএম : নির্বাচনের আগের দিন মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ৭৩৫টি কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জামাদি বিতরণ করা হয়। নগরীর এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেশিয়াম হল, আগ্রাবাদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নাসিরাবাদ বালক উচ্চ বিদ্যালয়, বন্দর স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসব সরঞ্জামাদি বিতরণ করা হয়। নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, ‘চট্টগ্রামে ১১ হাজার ৭০০টি ইভিএম মজুদ আছে। ৭৩৫টি কেন্দ্রের ৪ হাজার ৮৮৬টি বুথের মধ্যে প্রতিটি বুথে একটি করে ইভিএম থাকবে। এর বাইরে প্রতি কেন্দ্রের জন্য একটি করে ৭৩৫টি ইভিএম অতিরিক্ত রাখা হয়েছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ