সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ০৭:২৯ পূর্বাহ্ন

সরকারি জরুরি হটলাইন

সরকারি তথ্য ও সেবা-৩৩৩, জরুরি সেবা-৯৯৯, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে-১০৯, দুদক-১০৬, দুর্যোগের আগাম বার্তা-১০৯০, শিশুর সহায়তায় ফোন-১০৯৮, ভূমির সেবা পেতে...অভিযোগ জানাতে-১৬১২২, ই-জিপি জরুরি হেল্পলাইন-১৬৫৭৫, নৌপরিবহনের হেল্পলাইন-১৬১১৩। তথ্য সুত্র : পিআইডি

একজন কর্মদক্ষ কর্মকর্তা হোসাইন আহমেদ স্যার এর স্মৃতিচারণ ও কিছু কথা।

জন্মটাই ক্ষনিকের সেটা মানুষ হোক বা অন্য জীব। সবাই কে একদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে এটা জেনেও কেউ উচ্চ বিলাসী জীবন যাপনে অভ্যস্ত আর কেউবা সাদামাটা জীবন যাপনে অভ্যস্ত। আজ কয়দিন ধরে একটি মৃত্যু নিজেকে খুব পীড় বা যন্ত্রণা দিচ্ছিল কোন কিছুতেই মন কে সান্ত্বনা দিতে পাচ্ছিলাম না তাই কিছু একটা লিখে নিজেকে হালকা হওয়ার চেষ্টা করছি। আমার জীবনটা শুরু আওয়ামী রাজনীতি ও আইন পেশা দিয়ে। বাবা চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে এ চাকুরি করতে পরবর্তীতে আমার বড়ভাই ও একই ডিপার্টমেন্টপ চাকুরি শুরু করেন বাবার অনুপ্রেরণায় এই ডিপার্টমেন্ট চাকুরিতে আশা। তখন চাকুরিতে আমার নতুন যোগদান পোস্টিং হলো নেত্রকোনা জেলার দূর্গপুর উপজেলা প্রায় জেলা শহর থেকে ৯০ কিলোমিটার দুরে।সেই সময় নেত্রকোনা সার্কেলের সুপারিনটেনডেন্ট ছিলেন চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস এর জাদরেল প্রিন্সিপাল অ্যাপরাইজার শ্রদ্ধেয় মানিক মিয়া।তিনি হঠাৎ অত্র সার্কেলের সকল ইন্সপেক্টর  গনকে নিয়ে একটি মিটিং ডাকলেন এবং বললেন জনাব ডেপুটি  কমিশনার হোসাইন আহমেদ স্যার আমাদের সার্কল ভিজিট করবেন এই শুনে সবার মনের ভিতরে এক মৃদু ভয় ও কম্পনের সৃষ্টি হলো।আমি যেহেতু নতুন সেটা হিসেবে আামার ভয়ের ততটা ফিলিংস ছিল না। তখন একটা কাজের প্রতি খুব কঠোর অবস্থানে ছিলো এন বি আর প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের ইউনিট প্রোফাইল রাখা বাদ্য বাদকতা ছিলো কিন্তু আমাদের সার্কেলর কোন  প্রতিষ্টানের ইউনিট প্রোফাইল ছিলোনা এই ভয়ে সবাই আতঙ্কগ্রস্থ।করান স্যার ছিলেন ন্যায় পরায়ণ কর্মদক্ষ কোন কিছুতে অনিয়ম সহ্য করতেন না এবং কি অন্য লোভ-লালসা তাকে আকৃষ্ট করতে পারতেন না। সার্কেলে সবাই  যখন ভয়ে আতঙ্কগ্রস্থ তখন আমি মানিক স্যার কে বললাম স্যার  আপনি হোসাইন আহমেদ স্যার কে বলবেন আপনি আমাকে অফিসের সব দায়িত্ব  দিয়েছিলেন বাকিটা আমি ম্যানেজ করবো।তখন মানিক স্যার কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন। এর আগে হোসাইন আহমেদ স্যার মেডাম সহ উনাদের সফল সঙ্গীদের আপ্যায়ন থাকা খাওয়া আমার  উপর দায়িত্ব  দেওয়া হয় কারণ উনার কাছে ভয়ে কেউ যেতে সাহস করতোনা।যথারীতি স্যার সহ উনার সফর সঙ্গী রা নেত্রকোনায় আসলেন তখন দুপুর দুটো আমি যথারীতি রেষ্ট হাউজে নিলাম খাওয়া দাওয়া শেষে  আমাকে বললো নজরুল এত আয়োজন কে করেছে আমি  বললাম আমি স্যার পরে আমাকে বললো আপনার চাকুরী কতদিন হলো আমি বললাম স্যার এখানে আমার  পাস্ট পোস্টং স্যার আর কিছু না বলে বললো চলেন অফিসে যাই আমি সহ স্যার  একই গাড়িতে উঠলাম  পথে যেতে যেতে স্যার বললেন নজরুল এর পরে আমরা  কোথায় যাবো তখন আমি বললাম স্যার এরপর আমরা  উপজাতীয় কালচারাল একাডেমী বিরিশিরি যাবো। তখন স্যার বললেন সেখানে থাকার আয়োজন করেছেন কি?  আমি বললাম সব ব্যবস্থা করা আছে স্যার। এর মধ্যে অফিসে আসলাম  স্যার কিছু প্রতিষ্ঠানে পাইল দেখলো আর বললো ইউনিট প্রোফাইল কই তখন আমি  বললাম স্যার আমি নতুন এখনো সব কিছু বুঝে উঠতে পারিনি আগামী এক সাপ্তাহের মধ্যে সব অনিয়ম ঠিক করে নিবো স্যার নতুন  হিসেবে ভুল ভ্রান্তির জন্য ক্ষমা চাইছি। তখন স্যার মৃদু হেসে বললেন ঠিক আছে আগামী সাপ্তায় আপনি ঠিক  করে আমাকে দেখাবেন। এর পর তিনি বললেন কোথায় যাবেন বলালম বিরিশিরি সবাই রওয়ানা হলাম সন্ধ্যায় বিরিশিরি  পৌঁছালাম।আগে থেকেই সব আয়োজন ছিলো স্যার  আমার কাজে সন্তুষ্ট প্রকাশ করলে। কিন্তু তিনি মনে কিছুটা কষ্ট নিলেন আমি এত কিছু কেন করতে গেলাম পরে তিনি আমাকে জোর করে কিছু টাকা দিলেন আমি নিতে চাইনি তখন তিনি রেগে গিয়ে বললেন এটি আপনাকে নিতে হবে তখন আর কি করা। পরে স্যার আমাকে বললেন আপনি এতদুর  কি করে আসেন আমি বললাম বাসে আসি স্যার। পরে তিনি বললেন এত কষ্ট করে আসেন যান আমি একটা  হুন্ডার ব্যবস্থা করবো। পরের দিন আমরা ওখান থেকে  পিরে আসলাম স্যার ঢাকা চলে গেলেন। ক্যাডার অফিসারদের সন্পর্কে আমাকে একজন অন্য রকম একটা ধারনা দেওয়া হয়েছিলো তাই কারণে হোক বা অকারণে হোক আমি উনাদের কাছ এখনো কিছুটা দূরত্ব রেখে চলি।যাক হোসাইন আহমেদ  স্যার যদিও মেজাজি ছিলেন  অনিয়ম পছন্দ করতেনা তবে তার  ভিতরটা সুন্দর ও দয়ালু ছিলেন। একবার আমি উনার অফিসার কোয়ার্টারে গিয়েছিলা আমি দরজা নক করতে মেডাম দরজা খুলে দিলো আমি ভিতরে প্রবেশ করতেই স্যার  আমাকে দেখে বললো কি নজরুল আপনি কি মনে করে এলেন। দেখেন কিছু আনেনিতো আমি বললাম না স্যার তখন তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো বসেন নজরুল। আমি দেখলাম ডয়িং রুমে কোন সোপা ছিলোনা কাঠের দুটি সাধারণ চেয়ার ছিলো এই দেখে নিজেকে আর স্থীর থাকতে  পানিনি তিনি এত
সাদাসিধে জীবন যাপন করতেন। পৃথীবিতে এমন কিছু মানুষ আছে যাদের দেখলে এমনিতে শ্রদ্ধায় মাথা নুড়ে আসে আর তার গুন গুলো মনে থাকে আজীবন আর স্যার ছিলেন এমন একজন লোক। আজকে দিনে রাজস্ব বিভাগে স্যারের মত মানুষের  বড় প্রয়োজন ছিলো। স্যার আপনি কর্মগুনে অমর হয়ে থাকবে আমাদের মাঝে। দোয়া করি মহান সৃষ্টি কর্তার নিকট তিনি যেন আপনাকে বেহেশত দান করেন আমিন।
নজরুল ইসলাল বাঙালি
সহকারী কমিশনার
জয়পুরহাট বিভাগ।

সংবাদ শেয়ার করুন

সতর্ক বার্তা

আমরা নিজস্ব সংবাদ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বে-আইনি। -ইন্দোবাংলা টীম।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ৩১ নির্দেশনা

© ইন্দোবাংলা২৪.কম সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২২।
কারিগরি সহায়তায়: অল আইটি