বৃহস্পতিবার, ২৪ Jun ২০২১, ০৯:০১ অপরাহ্ন

পরকীয়ায় পলাতক, পিতার মিথ্যা অভিযোগ

রউফুল আলম
  • আপডেট টাইম: মঙ্গলবার ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ১৬৪ বার পঠিত

কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি : নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার ছিটরাজীব বাংলাবাজার নিবাসী সফিয়ার রহমান গোলিমের পুত্র তহিদুল ইসলাম (২৮) শরীফের সাথে জলঢাকা উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের আলসিয়া পাড়ার আবুল কাশেম ওরফে কাশির মেয়ে কেয়া বেগম (২৩)-এর ছয় বছর পূর্বে ইসলামী শরীয়া মোতাবেক বিবাহ হয়। মেয়ে জামাতাকে ঘরজামাই হিসেবে নিজ বাড়ীতে প্রায় ছয় মাসের মতো রাখেন।

জানা যায়, বিয়ের কয়েকমাস পরে কেয়ার বাবা তহিদুলের জমানো ৪ (চার) লাখ টাকা ফুসলিয়ে হাওলাদ গ্রহণ করেন। ২ বছর পর কেয়ার কোল জুরে আসে এশটি কন্যা সন্তান। তার নাম রাখে সুমাইয়া (৪)। হাওলাদী টাকা হতে ২ লাখ টাকা বাকী রেখে ২ লাখ টাকা তহিদুলকে ফেরত দেন। গ্রামে কাজ না থাকায় তহিদুল কেয়াকে নিয়ে গাজিপুর জেলার কালিয়াকৈর এলাকায় পোশাক কারখানায় চাকুরী নেন। দাম্পত্য জীবনে কেয়াকে সুখী রাখতে না পারায় কেয়া মৌচাক কালিয়াকৈর এলাকার বাসিন্দা শাহিন মিয়ার সাথে পরকীয়ায় মেতে উঠে। তহিদুল বুঝতে পেরে তার জমানো ৪০ হাজার টাকাসহ কেয়াকে কিশোরগঞ্জের গ্রামের বাড়ী পাঠিয়ে দেন। কেয়া গ্রামের বাড়ী আসলে কয়েকদিন পর তহিদুল মোবাইলে কেয়াকে বলেন, তোমার বাবার কাছে যে হাওলাদী ২ লাখ টাকা পাব। টাকাটা নেও। গ্রামে যে কোন একটা উন্নয়নমূলক ব্যবসা করবো। কিন্তু কেয়ার বাবা উক্ত ২ লাখ হাওলাদী টাকা আজকে দিবো, কালকে দিবো বলে কালক্ষেপন করতে থাকে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে প্রায়ই দন্ধ হয়।

গত ১৫ জানুয়ারী কেয়া বেগম চোট ভাইয়ের ছেলের আকিকার অনুষ্ঠানে যাবার কথা বলে নিখোঁজ হন। জানতে পেরে কেয়ার শশুড় সফিয়ার রহমান গোলিম পুত্রবধু হারানোর সাধারণ ডাইরী করেন। ডাইরী নং- ৭৪৭, তারিখ- ১৬০১/২১ইং। হারিয়ে যাওয়া বউকে খুঁজে পাওয়ার জন্য ১৯ জানুয়ারী রংপুরের বহুল প্রচারিত দৈনিক প্রথম খবর’ পত্রিকায় নিখোঁজ সংবাদ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে কেয়ার পিতা তহিদুলসহ তার পরিবারকে হেস্তনেস্ত করার জন্য কিশোরগঞ্জ থানায় মিথ্যা অভিযোগ দাখিল করেন। পরবর্তীতে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, কেয়া বেগম কালিয়াকৈর মৌচাক এলাকার শাহীন মিয়ার সাথে সংসার করছে। শাহিনের মোবাইল নং ০১৭১৬৩২৫৩৮৪।

এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ থানার এস.আই আক্কেল আলী জানান, কেয়া হারায় নাই পরকীয়ায় পলাতক। যে কোন সময় উদ্ধার করা সম্ভব হবে। তহিদুল জানতে পারে যে, তার স্ত্রী কেয়া কালিয়াকৈর এলাকার শাহিনের কাছে আছে। তহিদুল ৯৯৯-এ কল দেয়। মৌচাক পুলিশ ফাড়ির এ.এস.আই নুর হক কেয়াকে উদ্ধার করে পুলিশ ফাড়িতে নিয়ে আসে। কেয়ার বাবা কাশেম আলী কাশিকে কল দিলে কাশি কেয়াকে জামাতার কাছে না দিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে।

এ ব্যাপারে কেয়ার বাবা কাশি জানান, তহিদুলকে জামাই হিসেবে মানি না, তাকে মেয়ে দিবো না। কেয়ার কথা আমি তহিদুলের সংসার করবো না। তহিদুলের পাওনা ২ লাখ ও কেয়াকে দেয়া ৪০ হাজার টাকার কথা বললে কাশি এই প্রতিবেদককে জানান, ব্যাটাকে এমন শিক্ষা দেব যে টাকা তো চাওয়া দূরের কথা ও যেন বেঁচে থাকে।

ইন্দোবাংলা/আর, এ

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ