শনিবার, ৩১ Jul ২০২১, ০৬:৫৪ অপরাহ্ন

জাতীয় গ্রন্থাগার দিবসে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

ইন্দোবাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট টাইম: বৃহস্পতিবার ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ২১১০ বার পঠিত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল ৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন :

“প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ৫ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে ‘জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস’ উদ্যাপিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এ উপলক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলকে আমি আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

অশিক্ষা-কুশিক্ষা, অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে মুক্তির লক্ষ্যে গ্রন্থাগার হচ্ছে একটি জাতির জন্য আলোকবর্তিকাস্বরূপ। একটি সুশিক্ষিত, আধুনিক এবং উন্নত চিন্তা-চেতনা ও নৈতিকতাসমৃদ্ধ জাতি বিনির্মাণে গ্রন্থাগারের ভূমিকা অপরিসীম। মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত আদর্শ, চেতনা ও মূল্যবোধের বিকাশের লক্ষ্যে যথার্থ জ্ঞানার্জন, গবেষণা, দেশজ সংস্কৃতি চর্চা তথা অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল মনন ও মানসে জাতিকে উদ্বুদ্ধ করতে আওয়ামী লীগ সরকার গ্রহণ করেছে বহুমুখী পরিকল্পনা ও কর্মকাণ্ড। জ্ঞান চর্চার কেন্দ্র হিসেবে গ্রন্থাগারের সার্বিক উন্নয়নে এবং এর সেবা কার্যক্রমকে সমৃদ্ধকরণে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নানা উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছি।

নতুন প্রজন্মের সম্মুখে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে দেশের প্রতিটি সরকারি গণগ্রন্থাগারে ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার’ স্থাপনের প্রকল্প গৃহীত হয়েছে। নতুন প্রজন্মকে গ্রন্থাগার ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে স্কুল পর্যায়ে লাইব্রেরি ঘণ্টা চালুর জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। ‘চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স’ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক সেবাদানের লক্ষ্যে শাহবাগস্থ সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারের অনলাইন ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে অনলাইন গ্রন্থাগার সেবা চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি প্রকল্পের মাধ্যমে বই পৌঁছে যাচ্ছে প্রতিটি জেলার পাঠকের দোরগোড়ায়। শাহবাগে অবস্থিত গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের বহুতল ভবন নির্মাণের প্রকল্প গৃহীত হয়েছে। এছাড়াও টুঙ্গিপাড়ায় ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সমাধি সৌধ গ্রন্থাগার’-কে একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন গ্রন্থাগার হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। সম্প্রতি গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধুর পৈত্রিক বাড়িতে বঙ্গবন্ধুর পিতার স্মৃতি রক্ষার্থে ‘শেখ লুৎফর রহমান গ্রন্থাগার ও গবেষণা কেন্দ্র’ নামে একটি অত্যাধুনিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের জনগণের মাঝে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আগ্রহের প্রেক্ষিতে আমাদের সরকার ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ ভবনে একটি আধুনিক লাইব্রেরি স্থাপন করেছে। সেখানে বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গবেষণালব্ধ বইসহ অন্যান্য পাঠসামগ্রী সংরক্ষিত আছে।

আমি আশা করি, গ্রন্থাগার দিবসের সকল কার্যক্রম গ্রন্থাগার বিষয়ে জনগণের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও সচেতনতা সৃষ্টি করবে এবং একটি জ্ঞানভিত্তিক, মননশীল ও আধুনিক চিন্তা-চেতনাসমৃদ্ধ জাতি গঠনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলবো, ইনশাআল্লাহ।

আমি ‘জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস ২০২১’- এর সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

ইন্দোবাংলা/আর. কে

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ