বুধবার, ১৬ Jun ২০২১, ০৭:০৩ অপরাহ্ন

প্রতিবন্ধী শিশুদের নতুন ঠিকানা গাড়াগ্রাম প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম: রবিবার ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ৮৮৪ বার পঠিত

প্রতিবন্ধী শিশুদের নতুন ঠিকানা গাড়াগ্রাম প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়

কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী):

বেবী আক্তার ও তহিদুল দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, তাছলি বেগম ও সোরওয়ার হোসেন আকাশ ,শান্ত আক্তার, জাহিদুল, মোজাহিদ, আলামিন শারীরিক প্রতিবন্ধী। কিন্তু তাতে কি ? তাদের গান শুনে সবাই মুগ্ধ। জামরুল বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। বয়স ১২ বছর । অথচ মুঠোফোনের এমন কোনো প্রোগ্রাম নেই যা এরা দক্ষতার সঙ্গে সার্ভিসিং করতে পারে না। রহিমা, কেয়া,কবিতা, ছাদেকা, রশিদা, রানী, কাজল, মারুপ, রবিউলের সেলাই, কুঠির ও বুটিকের কাজ দেখে সবাই মুগ্ধ।


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যান মন্ত্রনালয় কর্তৃক ১৮ই ডিসেম্বর ২০১৯ দৈনিক প্রথম আলো’ পত্রিকার ১৭ পৃষ্টায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুসারে প্রতিবন্ধিতা সমন্বিত বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা-২০১৯ অনুযায়ী ০১/০১/২০২০ইং তারিখে গাড়াগ্রাম প্রতিবন্ধি ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ে দুপুর ১২:০০ ঘটিকা থেকে ১২:০৫ ঘটিকা পর্যন্ত ৫(পাঁচ)মিনিটের ভিডিওতে অংশ গ্রহণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক মনোনিত কর্মকর্তা উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, মোঃ আব্দুল হান্নান-এর উপস্থিতিতে ভিডিও ধারণ করা হয়। উক্ত ভিডিওতে ছাত্র/ছাত্রীদের Assembly -এর ছবি, শিক্ষকবৃন্দের ছবি, প্রত্যেক ক্লাসরুমের ছবি এবং সম্পূর্ণ স্কুল ভবনের ছবি।বিদ্যালয়টি স্বাস্থ্যকর ও মনোরম পরিবেশে মনমুগ্ধকর জায়গায় অবস্থিত হওয়ায় পরিদর্শন কালে তিনি ছাত্র/ছাত্রীদের সাথে মতবিনিময় করেন। শিক্ষক/শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন। বই বিতরণের শুভ উদ্বোধন করেন। প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করে আনন্দে আপ্লুত হয়ে বলেন, এরকম এত সুন্দর পরিপাঠি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় আগে কখন ও এভাবে দেখিনি। বিদ্যালয়টি যেন এমপিও ভূক্তি হয় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এই বিদ্যালয়ে ৫ (পাঁচ) মিনিটের ভিডিও ধারণের সময় বিদ্যালয়ের নথিপত্রে ও রেকর্ডে দেখা গেছে, প্রথমে বিদ্যালয়টিতে ৩৩৮ জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি  থাকলে ও  ৩১/০৭/২০১৭ইং তারিখে পরিদর্শন করেন জেলা সমাজসেবা উপ-পরিচালক, জনাব আব্দুস সোবহান উনি ৩০২ জন ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত পান।শিক্ষক-কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীর গড় উপস্থিতি ৮৬%। ঐ ৩৩৮ জন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী থাকলেও বর্তমানে বিদ্যালয়টির অবকাঠামো, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ বৃদ্ধির জন্য সাংস্কৃতিক বিনোদনের ব্যবস্থা। শারীরিক কসরতের যন্ত্রপাতি ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের যে কোনো সমস্যায় ডাক্তারের ব্যবস্থা ও আকুপেনশন যন্ত্র দিয়ে চেকআপ ওশারিরীক প্রতিবন্ধির জন্য থেরাপির ব্যবস্থা। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা ও ছুটির পর বাড়িতে রেখে আসার কারণে বিদ্যালয়টিতে দিন দিন শিক্ষার্থী বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ছাত্র-ছাত্রী আছে ১। বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী ৫৩ জন, ২। এক্টিভিটি কোর্সে ১০৫ জন, ৩। বৃত্তিমূলক শিক্ষা শ্রেণিতে ৬৩ জন, ৪। মা ও শিশু শ্রেণিতে ৪৫ জন, ৫। বিশেষ শ্রেণিতে ১২৫ জন, ৬। শিশু শ্রেণিতে ১১৫ জন শিক্ষার্থী মিলে মোট ৫০৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ২০১৯ পিএসসি পরীক্ষায় ২১ জন প্রতিবন্ধি অংশ গ্রহণ করেন। এদের মধ্যে একজন জিপিএ-5, একজন জিপিএ-4.82, একজন জিপিএ-4.85 সহ মোট ১৯ জন পাশ করেন।


সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে সাতজন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন করে শিক্ষক থাকার নিয়ম থাকলেও এ বিদ্যালয়ে শিক্ষক আছেন শিক্ষক ৩৯ জন কর্মচারী-৩৫জন।  একটি সংস্থা থেকে পাওয়া প্রশিক্ষণ ও নিজস্ব অভিজ্ঞতা দিয়ে এখানে চলে পাঠদান কার্যক্রম।

প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে স্থাপিত হয়ে অদ্যাবধি সুনামের সাথে পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে প্রতিবন্ধি ও অটিস্টিক বিদ্যালয়টি কিশেরগঞ্জ উপজেলার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি আরো বলেন, আমরা অনেক আশা নিয়ে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমে বিদ্যালয়টি চালিয়ে আসছি। বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া এই অবহেলিত প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষাদানের মাধ্যমে সমাজের মূলধারার যোগ্য মানুষ হিসেবে যুক্ত হতে আমরা সহায়ক ভূমিকা রাখতে চাই।

বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা কাজুলী বেগম বলেন, আমার বাবার ৪ সন্তান। ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে, সেই মেয়েটি আমি। আমার ৩ভাইয়ের মধ্যে দুজন প্রতিবন্ধী। প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে সমাজে তারা শুধু বোঝা। সমাজে তাদের কোনো মূল্য নেই। আর এই কষ্ট আমাকে কুরে কুরে খায়। আর সেই চিন্তা থেকে আমি আমার ইউনিয়নে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করি।আমার এই বিদ্যালয়টির এমপিও প্রদানের জন্য সুপারিশ করেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের  মন্ত্রী  ১। জনাব এ্র্যাড: মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম এমপি, মন্ত্রী, খাদ্য মন্ত্রণালয়, ২। জনাব মোস্তাফিজুর রহমান, মন্ত্রী , প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ৩।জনাব  মো: ইমাজ উদ্দিন প্রামানিক , মন্ত্রী, বস্ত্র ও পাঠ মন্ত্রণালয়, ৪। জনাব নুরুজ্জামন আহাম্মেদ এমপি, প্রতিমন্ত্রী, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়, ৫। জনাব মির্জা  আজম, প্রতিমন্ত্রী, বস্ত্র ও পাঠ মন্ত্রণালয়, ৬। মোঃ শওকত চৌধুরী, এমপি, ১৫-নীলফামারী-৪, সদস্য-অর্থ মনাত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ।উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান,মোঃ রশিদুল ইসলাম।ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, মোছাদ্দেক হোসেন ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসার। স্পেশাল অলিম্পিক প্রশিক্ষণ ও পরিদর্শন ও বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক, এনএসআই, ডিএফআই বিভিন্ন এনজিও সরকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ।রয়েছে অডিট (সিএ) রিপার্ট, ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ সরকার কতৃক ঘোষিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ ও যোগদান। সেই সাথে জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞাপন ও বিদ্যালয়ের রেজুলেশন ।

উক্ত বিদ্যালয়টি ২০১৩ইং সালে ৪০ শতাংশ জমির উপর নির্মিত হয়। ৮ শ্রেণী কক্ষে পাটদান কর্মসূচী ও শিক্ষকদের অফিস কক্ষ সহ সেলাই ও কুঠির এবং বুটিক কারিগরি প্রশিক্ষণ কক্ষ রয়েছে, ডাক্তারদের কাজের সুবিধার জন্য রয়েছে আকুপেনশন থেরাপি ও অন্যান্য সরঞ্জাম, স্কুলে রয়েছে স্বাস্থ্য সম্মত টয়লেট, বাধরুম ও পানি সাপ্লাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।বিদ্যালয়ে অফিসিয়াল কাজের জন্য রয়েছে কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্কেনার, সাউন সিস্টেম(মাইক) ছাত্র/ছাত্রীদের পরিবহনের জন্য রয়েছে ৬টি ইজি বাইক ও বিনোদনের জন্য মাঠে তৈরি করা হয়েছে শিশু পার্ক ও রয়েছে শহীদ মিনার। দৃষ্টি প্রতিবন্ধি শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে ব্রাইল পদ্ধতি। বুদ্ধি প্রতিবন্ধিদের জন্য এডিএল প্রশিক্ষণ রয়েছে।বাক ও শ্রবন প্রতিবন্ধিদের জন্য সেলাই, বাটিক ও বুটিক প্রশিক্ষণ রয়েছে।

আর ও পড়ুন- জরুরী প্রতিনিধি নিয়োগ
আর ও পড়ুন- বুদ্ধিমান পাগল – রউফুল আলম

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ