শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন

কিশোরগঞ্জের নিখোঁজ কেয়া গাজিপুরে উদ্ধার

রউফুল আলম
  • আপডেট টাইম: বৃহস্পতিবার ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ১৯০ বার পঠিত

কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার ছিটরাজীব বাংলাবাজার নিবাসী সফিয়ার রহমান গোলিমের পুত্র তহিদুল ইসলাম (২৮) শরীফের সাথে জলঢাকা উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের আলসিয়া পাড়ার আবুল কাশেম ওরফে কাশির মেয়ে কেয়া বেগম (২৩)-এর ছয় বছর পূর্বে ইসলামী শরীয়া মোতাবেক বিবাহ হয়। বিয়ের কয়েক মাস পরে মেয়ে জামাইকে ঘর জামাতা হিসেবে নিজ বাড়ীতেই রাখে। ছেলের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শরীফ ঘর জামাই হিসেবে থাকাকালে কেয়ার বাবা শরীফের জমানো ৪ (চার) লাখ টাকা ফুসলিয়ে ধার নেন। ২ বছর পর কেয়ার কোল জুরে আসে একটি কন্যা সন্তান। তার নাম রাখে সুমাইয়া (৪)। ধারের টাকা হতে ২ লাখ টাকা শরীফকে ফেরত দেন। অবশিষ্ট ২ লাখ টাকা দিতে টালবাহানা করেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দন্ধ হয়। গ্রামে কাজ না থাকায় শরীফ কেয়াকে নিয়ে গাজিপুর জেলার কালিয়াকৈর এলাকায় পোশাক কারখানায় চাকুরী নেন। দাম্পত্য জীবনে কেয়াকে সুখী রাখতে না পারায় কেয়া মৌচাক কালিয়াকৈর এলাকায় পরকীয়ায় মেতে উঠে। শরীফ বুঝতে পারে এবং কৌশলে তার জমানো ৪০ হাজার টাকাসহ কেয়াকে কিশোরগঞ্জে গ্রামের বাড়ী পাঠিয়ে দেন। কেয়া গ্রামের বাড়ী আসলে কয়েকদিন পর শরীফ মোবাইলে কেয়াকে বলেন, তোমার বাবার কাছে যে ধারের ২ লাখ টাকা পাব। টাকাটা নেও। গ্রামে যে কোন একটা ব্যবসা করবো। কিন্তু কেয়ার বাবা উক্ত ২ লাখ টাকা আজকে দিবো, কালকে দিবো বলে কালক্ষেপন করতে থাকে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে প্রায়ই ঝগরা হয়। গত ১৫ জানুয়ারী কেয়া বেগম ছোট ভাইয়ের ছেলের আকিকার অনুষ্ঠানে যাবার কথা বলে নিখোঁজ হন। খবর পেয়ে কেয়ার শশুড় গোলিম পুত্রবধু হারানোর সাধারণ ডাইরী করেন। ডাইরী নং- ৭৪৭, তারিখ- ১৬/০১/২১ইং। হারিয়ে যাওয়া বউকে খুঁজে পাওয়ার জন্য ১৯ জানুয়ারী রংপুরের বহুল প্রচারিত দৈনিক প্রথম খবর’ পত্রিকায় নিখোঁজ সংবাদ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে কেয়ার পিতা শরীফসহ তার পিতা-মাতাকে বিবাদী করে কিশোরগঞ্জ থানায় মিথ্যা অভিযোগ দাখিল করেন।

এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ থানার এস.আই আক্কেল আলী জানান, কেয়া হারায় নাই পরকীয়ায় পলাতক। সিটির তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, গাজিপুরের কালিয়াকৈর থানার আওতাধীন মৌচাক পুলিশ ফারি এলাকায় আছে। শরীফ জানতে পেরে ৯৯৯-এ কল দেয়। মৌচাক পুলিশ ফাড়ির এ.এস.আই নুর হক কেয়াকে উদ্ধার করে পুলিশ ফাড়িতে নিয়ে আসে। কেয়ার বাবা কাশেম আলী কাশিকে কল দিলে কাশি কেয়াকে জামাতার কাছে না দিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে। এ ব্যাপারে কেয়ার বাবা কাশি জানান, শরীফকে জামাই হিসেবে মানি না, তাকে মেয়ে দিবো না। কেয়ার কথা আমি শরীফের সংসার করবো না। তহিদুলের পাওনা ২ লাখ ও কেয়াকে দেয়া ৪০ হাজার টাকার কথা বললে কাশি এই প্রতিবেদককে জানান, ব্যাটাকে এমন শিক্ষা দেব যে টাকা তো চাওয়া দূরের কথা ও যেন বেঁচে থাকে।

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ