শুক্রবার, ২৫ Jun ২০২১, ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন

মোটরসাইকেল নয় গণপরিবহনকে বিকশিত করার দাবী যাত্রী কল্যাণ সমিতির

রউফুল আলম
  • আপডেট টাইম: শনিবার ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ১২২ বার পঠিত

 

এম মনির চৌধুরী রানা

সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসকল্পে, সড়কে চলাচলকারী পদচারীদের নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মোটরসাইকেল নিবন্ধন ফি কমানো ও সিসি বা অশশক্তি ১৬৫ থেকে বৃদ্ধি করে ৩৫০ সিসিতে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে গণপরিবহনকে বিকশিত করার দাবী জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

আজ ১৩ ফেব্রুয়ারী শনিবার সকালে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ দাবী জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতি ছোট্ট এই দেশে রাস্তার পরিমাণ বিবেচনায় না নিয়ে প্রতিবছর প্রায় ৩ থেকে ৪ লক্ষ মোটরসাইকেল রাস্তায় নামছে, বিপরীতে গণপরিবহন তথা বাসের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে কমছে।

গণপরিবহনের এই ভুলনীতি বন্ধ না হলে অচীরেই দেশের যেকোন পথে যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়বে। বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত ৪৪ লাখ যানবাহনের বিপরীতে ৩১ লাখ মোটরসাইকেল রয়েছে। নিবন্ধনবিহীন আরো ৩ থেকে ৪ লক্ষ মোটরসাইকেল রাস্তায় চলছে। অথচ মোটরসাইকেল চালকদের মাত্র ১৮ লাখ ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে বলে বিবৃতিতে দাবী করা হয়।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান মতে, দেশে বিদায়ী ২০২০ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ৬৭৩৬ টি যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেলের সংখ্যা ছিল ১৬৭১ টি। যা মোট আক্রান্ত যানবাহনের ২৪.৮ শতাংশ।

২০১৯ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ৭৩৫৬ টি যানবাহনের মধ্যে ১৫৬৩ টি মোটরসাইকেল সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। যা মোট আক্রান্ত যানবাহনের ২১.৪ শতাংশ। এতে দেখা গেছে গত ১ বছরে দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার বেড়েছে ৩.৪ শতাংশ।

দেশের একমাত্র এক্সপ্রেসওয়ে ঢাকা-মাওয়া-পাঁচ্চর জাতীয় মহাসড়ক ছাড়া অন্য কোন মহাসড়কে ১০০ কিলোমিটার গতিতে নিশ্চিন্তে মোটরসাইকেল চালানোর সুযোগ নেই। রাজধানীসহ দেশের প্রধান প্রধান মহানগরীতে মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা লেইন না থাকায় ট্রাফিক আইন ভাঙ্গার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল।

অন্যদিকে পঙ্গু হাসপাতালের তথ্য মতে, প্রতিবছর গড়ে সাড়ে ৭ থেকে ৮ হাজার পঙ্গু রোগী মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়ে এই হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজট কমাতে চীনের ৫টি মহানগরীসহ পৃথিবীর বহু দেশের প্রধান প্রধান মহানগরীতে মোটরসাইকেল নিষিদ্ধ করেছে।

দেশে মানসম্মত গণপরিবহনের অভাব, যাত্রী হয়রানী, ভাড়া নৈরাজ্য, যাত্রীসেবার মান, কর্মসংস্থানের অভাবসহ নানা কারনে মানুষ মোটরসাইকেলকে নিরাপদ বাহন ও কর্মসংস্থানের বিকল্প উপায় হিসেবে মনে করছে।

অন্যদিকে অনলাইন ভিত্তিক প্লাটফর্মের মাধ্যমে মোটরসাইকেল ভাড়ায় ব্যবহারের কারনে দেশের কর্মহীন বিপুল সংখ্যক যুবগোষ্ঠী ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে আয়ের পথ বেঁচে নিলেও কার্যত একটি আদর্শ রাষ্ট্রে গণপরিবহনকে বিকশিত করার কোন বিকল্প নেই। তাই এইমুহুর্তে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, মোটরচালিত রিক্সাসহ ছোট ছোট যানবাহনের লাঘাম টেনে ধরার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ