শুক্রবার, ১৮ Jun ২০২১, ০৩:১১ পূর্বাহ্ন

কিশোরগঞ্জে বয়স্ক ও বিধবা ভাতার জন্য শতবর্ষী কবেজা বেগমের আকুতি

রউফুল আলম
  • আপডেট টাইম: মঙ্গলবার ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ১৩৮ বার পঠিত

মোঃ আশরাফুল ইসলাম রাজু, নিজেস্ব প্রতিবেদনঃ
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা শতবর্ষী বিধবা কবেজা বেগমের কথা বলতে গিয়ে বয়স্ক ভাতাভোগি টন্না মামুদ বলেন, মনে পড়ে আমি যখন ১০/১২ বছরের তখন শফিয়ার রহমান কবেজাকে বিয়ে করে নিয়ে আসেন।এলাকাবাসী জানান, প্রায় ৫০ বছর আগে দিনমজুর শফিয়ার জীবিকার তাগিদে বগুড়ায় কাজে যাবার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। কবেজার বয়স শতবর্ষ পেরিয়ে গেলে ও বিধবা কবেজার আইডি কার্ড অনুযায়ী বয়স ৬৪ ছুঁই ছুঁই। তারপরও বিধবা কবেজা বেগম পাননি বয়স্ক ভাতার কার্ড। স্বামীহারা কবেজা এই বৃদ্ধ বয়সে অর্থের অভাবে নানা সংকটে ভুগছেন। বয়সের ভারে রোগ–শোকে তিনি ভারাক্রান্ত। চিকিৎসাতো দূরের কথা, তিন বেলা খাবার জোটেনা তার কপালে।
এই বৃদ্ধ বয়সে বেঁচে থাকার জন্য তিনি একটি বয়স্ক কিংবা বিধবা ভাতার কার্ডের জন্য ঘুরছেন জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে। শুধু আশ্বাসই মেলে, কয়েক বছর ঘুরেও কেউ তাঁর জন্য একটি বয়স্ক কিংবা বিধবা ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা করে দেননি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বয়স্ক ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে নারীর বয়স সর্বনিম্ন ৬২ আর পুরুষের বয়স সর্বনিম্ন ৬৫ বছর। সে অনুযায়ী কবেজা বয়স্ক ভাতা পাওয়ার যোগ্য হলেও কেউ তাঁর সহযোগিতায় এগিয়ে আসেনি।
নিহত দিনমজুর স্বামীর সঞ্চয় বলতে কিছুই ছিল না। কবেজা এক ছেলে ও এক মেয়ের মুখে খাবার তুলে দিতে অন্যের বাড়িতে কাজ নেন। কাজ করতে গিয়ে সন্তানদের আর যত্ন নেওয়া সম্ভব হয়নি। সকালে ঘর থেকে বের হয়ে সারা দিন অন্যের বাড়িতে কাজ করে বিকেলে খাবার নিয়ে ঘরে ফিরতেন তিনি। অযত্নে একসময় ভীষণ অসুস্থ হয়ে যায় তাঁর ছোট মেয়েটি। স্বামীর শোক কাটতে না কাটতে মেয়েকেও হারান তিনি।
এরপর একমাত্র ছেলেকে নিয়ে অতিকষ্টে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটতে থাকে কবেজার। এখন তাঁর ছেলে আলম মিয়া (৩৫) বিভিন্ন দোকানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ছেলেটি সংসার চালাতে হিমশিম খেলে বৃদ্ধ বয়সে মাকে রেখে বউ সংসার নিয়ে অন্নের অন্যেশনে পাড়ি দেন রংপুর শহরে। এদিকে বয়সের ভারে আর কোন কাজ করতে পারেন না কবেজা বেগম।খেয়ে না খেয়ে দিন কাঁটাতে হয় এই বিধবা নারীকে।
বৃদ্ধা কবেজা বলেন, ‘মোর গাওত জোর নাই মানুষ আর কামোত নেয় না। মুই ফজলা চেয়ারম্যানের কাছত গেছনুং, বিভিন্ন মেম্বারের কাছত গেছনুং। কায়হো মোর জন্য কিছু করে নাই। মুই খুব অসহায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের কাছে শুনছুং, ইউনু (ইউএনও) স্যার অসহায় মানুষের জন্যে বয়স্ক ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা করি দেন। যদি মোর জন্যে এ্যাকান কার্ডের ব্যবস্থা করে দেইল হায়, মুই এ্যাকনা বড়ি (ওষুধ) কিনি খানুং হায়’।
এ বিষয়ে উক্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলার রহমান এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বৃদ্ধা কবেজা বেগম এর স্বামী মারা গেছে কিনা তাঁর সঠিক তথ্য তিনি জানেন না। তবে তার ছোট বোন আমিনা বেগমকে তিনি বিধবা ভাতার কার্ড করে দিয়েছেন। চেয়ারম্যানের কথার জের ধরে বিধবা এই নারীর ভোটার আইডি কার্ড দেখতে গিয়ে দেখা যায় সেখানেও তার স্বামী মৃত্যু বলে উল্লেখ আছে।
হয়তো এই বিধবা নারীটি আর বেশিদিন ইহোলোকে বেঁচে থাকবেন না। জীবনের অন্তিমকালে ভালো কিছু খাবার ইচ্ছে থাকলেও কিনে খাওয়ার মতো সামর্থ্য নেই এই বৃদ্ধা মহিলার।

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ