সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৫৬ অপরাহ্ন

কিশোরগঞ্জ বৃদ্ধ লুৎফরের শতবর্ষী ভিক্ষুক পিতা কাল্টুর বয়স্ক ভাতার জন্য আকুতি

রউফুল আলম
  • আপডেট টাইম: মঙ্গলবার ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ১৩৮ বার পঠিত

আব্দুল গফ্ফার রাজু, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী):
নীলফমারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড মাঝাপাড়ার দিনমজুর বৃদ্ধ লুৎফর রহমান (৬৫)-এর প্রায় শতবর্ষী ভিক্ষুক পিতা মোঃ কাল্টু মামুদ (৯০) আকুতি একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড। ভোটার আইডি অনুযায়ী জন্ম তারিখ ১৩ মে ১৯৩২ ইং। ভিক্ষুক কাল্টু মামুদের কথায়,বয়স্ক ভাতার জন্যে সাদা মেম্বার ও সায়েম চেয়ারম্যানের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি বাবা টাকা ছাড়া কার্ড দেয় না। আমি টাকা দিতে পারি নাই। ওই জন্যে আমার কার্ড ও নাই। অনেক চেষ্টা করেছি কার্ডের জন্য ভিক্ষুক বলে কেউ আমাকে বয়স্ক ভাতার কার্ড দেন নাই।

 

ভিক্ষুক কাল্টুর ছেলে ২ জন। বড় ছেলে লুৎফর রহমান, ছোট ছেলে আব্দুল লতিফ (৫৮) লুৎফরের চার ছেলে, লতিবের ২ মেয়ে ১ ছেলে। মেয়ে দুটি বিবাহের উপযুক্ত। কিন্তু অর্থের অভাবে বিয়ে দিতে পারছে না। ভিক্ষুক কাল্টুর উভয় ছেলে দিন মজুর তারা ও বৃদ্ধ বয়সে অর্থের অভাবে নানা সংকটে ভুগছেন। বয়সের ভারে রোগে শোকে ভারাক্রান্ত অসহায়। চিকিৎসাতো দূরের কথা, তিন বেলা খাবার জোটেনা তাদের কপালে। বৃদ্ধ কাল্টুর সাথে তারা ও বেঁচে থাকার জন্য সাহায্য পাবার আশায় ঘুরছেন জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে। কাল্টুর জন্য শুধু আশ্বাসই মেলে, কয়েক বছর ঘুরেও কেউ তাঁর জন্য একটি বয়স্ক ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা করে দেননি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বয়স্ক ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে পুরুষের বয়স সর্বনিম্ন ৬৫ বছর। সে অনুযায়ী কাল্টু ও তার বড় ছেলে লুৎফর বয়স্ক ভাতা পাওয়ার যোগ্য হলেও কেউ তাঁদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেনি। এদিকে বয়সের ভারে কাল্টু মামুদ আর ভিক্ষা করতে পারে না। খেয়ে না খেয়ে দিন কাঁটাতে হয় তাদের। কাল্টু বলেন, ‘মোর গাত জোর নাই, মুই আর ভিক্ষা করির যাবার পাও না। মুই চেয়ারম্যান মেম্বারের কাছত গেছনু। মুই ভিক্ষা করং দেহি কায়হো মোর জন্য কিছু করে না। মুই খুব অসহায়। ভিক্ষুক মুক্ত কিশোরগঞ্জ উপজেলা হওয়ায় কাল্টু মামুদ জয়পুরহাট,বগুড়া, দিনাজপুর, নীলফামারী, রংপুরের বিভিন্ন জায়গায় ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতো। এখন শরীর দুর্বল হাটা- চলা তেমন করতে পারে না। বৃদ্ধ বয়সে তার ইচ্ছা আকুতি বয়স্ক ভাতা করি দেন স্যার। মুই চলির পাওনা।

এ বিষয়ে উক্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সায়েম লিটনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ ভিক্ষুক কাল্টু মামুদকে আমার কাছে পাঠিয়ে দেন। একটা ব্যবস্থা করে দেব। উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ ফরহাত হোসেনের সাথে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি ওই ভিক্ষুকের বযস্ক ভাতার কার্ড করিয়ে দেবেন বলে আশ্বাস দেন। জীবনের অন্তিমকালে ভালো কিছু খাবার ইচ্ছে থাকলেও কিনে খাওয়ার মতো সামর্থ্য নেই এই বৃদ্ধ কাল্টু মামুদের।

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ