শুক্রবার, ২৫ Jun ২০২১, ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন

তারাগঞ্জে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে পুকুর চুরি

রউফুল আলম
  • আপডেট টাইম: মঙ্গলবার ২ মার্চ, ২০২১
  • ১৩৫ বার পঠিত

খায়রুল আলম বিপ্লব, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি :

রংপুরের তারাগঞ্জে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে পুকুর চুরির তথ্য চিত্র উঠে এসেছে। তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী চাহিত তথ্য থেকে প্রাপ্ত প্রকল্পের ব্যয় বিবরণী অনুযায়ী দেখা গেছে, উক্ত প্রকল্পের একটি ঘরের প্রতি ২.৮৩ ঘন মিটার মাটি খননের জন্য ৮৮ টাকা দরে মোট ২৪৯ টাকা এবং মাটি ভরাটের জন্য প্রতি ৩.৫৭ ঘন মিটারে ৩০২ টাকা দরে মোট ১০৭৬.৯৯ টাকা ব্যয় দেখানো হলেও সেখানে মোট ২০০টি ঘরের মাটি খনন ও ভরাটে কর্মসৃজন প্রকল্পের শ্রমিক দিয়ে উক্ত কাজগুলো করে বরাদ্দকৃত টাকা সম্পূর্ণ আত্মসাৎ করা হয়েছে।


এছাড়াও প্রতিটি ঘরে ১০ইঞ্চি ইটের গাথুনীর কাজ ৫৮.৯৮ বর্গ মিটার দেখানো হলেও প্রায় ৩০.৯৮ বর্গ মিটার কাজ করা হয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্যে ব্যয় ৩২ হাজার ১৬৭ টাকা দেখানো হলেও তা সঠিক ভাবে করা হয়নি। একই নিয়মে ৫ ইঞ্চি ইটের গাথুনীর কাজ করেছেন এবং বরাদ্দকৃত অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। আরসিসি ঢালাইয়ে (লিন্টেল) ১৮৩০.৬০ টাকা এবং রডের কাজে ৪৫ কেজি দেখানো হলেও সেখানে ১০ থেকে ১৫ কেজি রড ব্যবহার করে প্রতিটি ঘরে নামমাত্র কাজ করা হয়েছে। কাঠের কাজে অপ্রাপ্ত বয়স্ক গাছের কাঠ ঘরগুলোতে ব্যবহার করা হয়েছে। ইকরচালী ইউনিয়নের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে ঘরপ্রাপ্ত সুবিধাভোগী আলতাব হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, ঘরগুলার মাজিয়ার জন্য আনা নিম্নমানের ইট দেখিয়ে দিয়ে বলেন, এইলা ইট দিয়া মাজিয়া করলে কয়দিন টিকবে ভাইজান ? দেওয়ালের যে প্লাস্টার করছে তা পানি দিলেই খসি পড়েছে। ইকরচালী ইউনিয়নের কাঠ ব্যবসায়ী বেংটু ও দুলাল বলেন, অসার গাছ কেটে কাঠ তৈরি করে ঘরগুলোতে লাগানো হয়েছে। তা কতদিন টিকবে সেটাই এখন দেখার বিষয়। প্রাপ্ত তথ্যের স্টিমেট অনুযায়ী ফরিদাবাদ ও ইকরচালী ইউনিয়নের দীঘিরপাড়া এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কর্মসৃজনের লোকজন উক্ত ঘরগুলোতে মাটি উত্তোলনের কাজ করছে বলে সেই সময় একাধিক শ্রমিকের সাথে কথা বলে জানা গেছে।

তথ্য অধিকার আইনে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী দেখা যায়, প্রতিটি ঘরের জন্য স্টিমেট অনুযায়ী মেশিন ম্যাট ইট (অটো ব্রিক্স) দেওয়ার নিয়ম থাকলেও সেখানে নিম্নমানের এম.বি কোম্পানির হাতে তৈরি ইট ব্যবহার করা হয়েছে যা প্রকল্পগুলো সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে। আরো দেখা যায়, নিম্নমানের বালু, রড ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। এসময় প্রকল্প এলাকায় কথা হয় ঘর তৈরির কাজে নিয়োজিত শ্রমিক সোহেল রানা, আসাদুজ্জামান, শাহীন, সফিকুল, রবিউলসহ একাধিক শ্রমিক জানান, মাটির নিচে কোন ঢালাই নাই, নীলটন দেওয়া হয় নাই এবং মাটির উপরেই ইট বিছিয়ে ঘর তৈরির কাজ শুরু করা হয়েছে। সয়ার ইউনিয়নের ফরিদাবাদ ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ইমদাদুল হক এন্দা বলেন, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ঘরগুলো স্থাপন করা হচ্ছে। এভাবে ঘরগুলো তৈরি করলে মানুষজন কতদিন এই ঘরগুলোতে বসবাস করতে পারবে তা ভাব্বার বিষয়। বড় ধরনের প্রাকৃতিক দূর্যোগ হলে নির্মিত ঘরগুলোর মধ্যে নিলটন না দেওয়ার কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতিসহ জানমালের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও সয়ার ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মমিনুর রহমান জানান, স্টিমেট অনুযায়ী ঘরগুলোতে লোহার তৈরি দড়জা-জানালা লাগানোর কথা থাকলেও তা প্লেনশীট জাতীয় টিন দিয়ে তৈরি দরজা-জানালা লাগানো হয়েছে এবং হচ্ছে। প্রতিটি ঘরের জন্য ৪ হাজার টাকা পরিবহন ব্যয় থাকলেও মোট ২০০টি ঘরের জন্য ৮ লক্ষ টাকা পরিবহন ব্যয় দেওয়া থাকলেও সেখানে ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা ব্যয় করে বাকী টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।


সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে গিয়ে কোন উপ-সহকারিকে তদারকির কাজে না পাওয়ায় তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আলতাব হোসেন বলেন, আমি সবে মাত্র এই উপজেলায় বদলী হয়ে এসেছি। কাজগুলো এখনও সেভাবে দেখার সুযোগ পাইনি। আমার আগে যিনি এখানে দায়িত্বে ছিলেন তার মাধ্যমেই কাজগুলো শুরু করা হয়েছিল এবং কাজগুলো ৬০ শতাংশ শেষ হয়েছে। পর্যাপ্ত মেশিন ম্যাট ইট থাকলেও হাতে তৈরি ইট ব্যবহার করা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ক্রয় কমিটি এগুলো আগেই ক্রয় করেছে। তবে আমি মনে করি মেশিন ম্যাট ইটের দাম একটু বেশি হওয়ার কারণে হয়তো ওই ইট ব্যবহার করা হয়নি।

উপজেলা প্রকৌশলী হায়দার জামান মুঠোফোনে বলেন, সমস্ত কাজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা করেছেন। আমি নামমাত্র কমিটিতে আছি। তবে এই বিষয়ে তার কোন বক্তব্য পত্রিকায় না দেওয়ার জন্য সাংবাদিককে অনুরোধ করেন।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমিনুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি যেহেতু ইঞ্জিনিয়ার নই তাই আমি নির্মাণ কাজে কি ধরনের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে তা বলতে পারছি না। তবে আপনি পিআইও ও ইঞ্জিনিয়ারের সাথে কথা বলেন।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান বলেন, কাজগুলো সম্পর্কে আপনি সংশ্লিষ্ট উপজেলার ইউএনও এবং পিআইও’র সাথে কথা বলেন। তারপরেও আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে বিষয়টি অবগত করবো।

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ