শনিবার, ৩১ Jul ২০২১, ০৭:২২ অপরাহ্ন

কিশোরগঞ্জে লাভজনক  মিষ্টি কুমড়া চাষে ঝুঁকছে কৃষকরা

রউফুল আলম
  • আপডেট টাইম: রবিবার ১৪ মার্চ, ২০২১
  • ২৩৮ বার পঠিত

মোঃ মোস্তাফিজার রহমান বিদ্যুৎ , কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী)ঃ
কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তরজনপদে নিরাপদ সবজি জোন খ্যাত ৯ টি ইউনিয়নের ৮১ টি ওয়ার্ডের চাষীরা মিষ্টি কুমড়া চাষের দিকে ক্রমান্বয়ে ঝুঁকে পড়ছে। হাইব্রিড জাতের মিষ্টি কুমড়া চাষ করে এই এলাকার বহু কৃষক আর্থিকভাবে সফলতার মুখ দেখেছে।
জানা যায়, গত ৫ বছর আগে এই উপজেলার মাত্র ৪/৫ জন চাষি এই মিষ্টি কুমড়ার চাষ শুরু করে। হাইব্রিড জাতের মিষ্টি কুমড়ার চাষ করে অনেক কৃষক লাভবান হওয়ায় তাদের দেখাদেখি গত ৪/৫ বছরের ব্যবধানে বর্তমানে এই গ্রামে মিষ্টি কুমড়া চাষির সংখ্যা দাড়িয়েছে প্রায় কয়েক হাজার।
সরেজমিনে বড়ভিটা বাবুর ডাঙ্গা গ্রামে যেয়ে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ আবাদকৃত প্রতিটি ক্ষেতে হাজার হাজার মিষ্টি কুমড়া ফলছে। যা দেখে যে কোন চাষি কিংবা ব্যক্তির মন আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠবে। কথা হয় বাবুরডাঙ্গার সফল চাষি ও কৃষক সাহেব আলী ও হানিফুলের সাথে। তারা বলেন, আলু তুলেই জমিতে হাইব্রিড জাতের মিষ্টি কুমড়া চাষ করেছি। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে তার ক্ষেত এখন ফুলে ফলে ভরে গেছে। প্রায় হাজারের মতো তার ক্ষেতে এখন মিস্টি কুমড়া ফলছে। আরও অনেক ফল নতুন করে ধরতে পারে বলে তিনি আশা করছেন। বীজ ক্রয় ও মজুরি সবমিলে বিঘা প্রতি তাদের খরচ হয়েছে ৩/৪ হাজার টাকা।
যে কুমড়া ধরেছে তা প্রায় লাখ টাকা বিক্রি হবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে তারা সানন্দে বলেন,  মাত্র সাড়ে তিন মাসে তার ৩০ শতক জমিতে প্রায় ৮০ হাজার টাকার মত লাভের আশা করছেন। মিষ্টি কুমড়া চাষ অন্যান্য ফসলের চেয়ে বেশী লাভজনক তাই অনেক কৃষক অন্য ফসল আবাদ বাদ দিয়ে মিষ্টি কুমড়া চাষের দিকে ঝুকছে।
কুমড়ার ফলন শেষ হবার আগেই তিনি এই ক্ষেতের ফলে এক খরচে মিষ্টি কুমড়া ও লাউ চাষ করে তিনি অধিক লাভের আশায় সর্বদা ক্ষেতের পরিচর্যা নিয়ে প্রতিদিন সময় দিচ্ছেন। মিষ্টি কুমড়া চাষে তার সফলতার পিছনে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শ বেশ সহায়ক হয়েছে বলে তিনি জানান। কোন প্রকার বালাই নাশক ব্যবহার না করেই বালাই দমনের ফাঁদ বা সেক্স ফেরমন ব্যবহার মিষ্টি কুমড়া চাষে বেশ কার্যকরী একটি পন্থা বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এটিকে স্থানীয়ভাবে  প্লাষ্টিকের কৌটার মধ্যে পোকা মারার ফাঁদ বা কৌটার মধ্যে মান্দুলী ঝুলিয়ে পোকা বা বালাই দমন করার ফাঁদ বলা হয়। এই সেক্স ফেরমনে বালাই দমনের ফলে রোগমুক্ত ভাল মানের কুমড়া আবাদ সম্ভব হয়েছে। যার ফলেই কৃষকরা বেশি লাভবান হয়েছে।
বড়ভিটা ইউনিয়নে নিয়োজিত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর হাইব্রিড জাতের মিষ্টি কুমড়া চাষের ক্ষেত্রে কয়েকজনকে কিছু কুমড়া চাষীর প্রদর্শনী ক্ষেতে বিনা মূল্যে জৈব সার, কেঁচোসার ও বালাই দমনের জন্য সেক্স ফেরমন বিতরণ করা হয়েছে।
আর অন্য চাষীদেরকে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হাইব্রিড জাতের মিষ্টি কুমড়া চাষ করে প্রায় হাজার কৃষক এখন আর্থিকভাবে সফলতা লাভ করেছেন বলে তিনি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ