বৃহস্পতিবার, ২৪ Jun ২০২১, ১০:০১ অপরাহ্ন

ঈদে অধিকাংশ মন্ত্রী-এমপি ও নেতারা ঢাকায়

তরিকুল ইসলাম সুমন, ঢাকা
  • আপডেট টাইম: বৃহস্পতিবার ১৩ মে, ২০২১
  • ১০৩ বার পঠিত

করোনা অতিমারির কারণে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও আজ বিপর্যস্ত। করোনার থাবা থেকে বাদ পড়েননি মন্ত্রী-এমপি এবং রাজনৈতিক দলের নেতারাও। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বেশ কয়েকজন সবেক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী-এমপি। আবার একাধিক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং বেশ কয়েকজন এমপি করোনাকে জয় করে সুস্থও হয়েছেন।

এ সংকটকালে গেল বছরের মতো এবারও ভিন্ন মাত্রায় ঈদ উদযাপন করবেন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং রাজনীতিবিদরা। ঈদে অধিকাংশ মন্ত্রী-এমপি ঢাকায় থাকলেও ব্যস্ত থাকবেন স্থানীয় জনগণকে নিয়েই। পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে বেশির ভাগ মন্ত্রী-এমপিই ঢাকায় ঈদ উদযাপন করবেন। তবে অনেকেই অল্প সময়ের জন্য হলেও নিজ এলাকায় যাবেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবছরের মতো এবারও সরকারি বাসভবন গণভবনে ঈদ উদযাপন করবেন। প্রতিবছর ঈদের দিন সকালে তিনি গণভবনে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করে থাকেন। এবার সেটা হচ্ছে না বলে জানা গেছে। যদিও ইতোমধ্যে তিনি অডিও ও ভিডিও বার্তায় দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

চলমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মাথায় রেখে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যে যেখানে রয়েছেন সেখানেই ঈদ পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গণভবন সূত্রে জানা গেছে, ঈদে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি না থাকলেও ফোনে ও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী।

করোনার শুরু থেকেই বেশির ভাগ মন্ত্রী-এমপি ও নেতাই ঢাকায় অবস্থান করছেন। করোনার কারণে অনেকেই সময় কাটাচ্ছেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। তবে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং রাজনৈতিক নেতারা নিজ এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। করোনার কারণে বেকার ও অসহায় মানুষের হাতে তুলে দিয়েছেন ঈদ উপহার সামগ্রী, নগদ অর্থসহ নানান উপকরণ। তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার সামগ্রীও। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা কাজ করছেন ফোনে কিংবা অনলাইন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে।

তারা ঢাকায় অবস্থান করলেও নির্বাচনী এলাকার জনগণের সঙ্গে চলছে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাদের কেউ কেউ দুর্যোগের মধ্যেও এলাকায় গিয়ে দাঁড়িয়েছেন গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনকে দিক-নির্দেশনা দেয়ার পাশাপাশি মানুষকে ত্রাণ তুলে দিয়েছেন নিজের হাতে। তবে অধিকাংশ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং এমপিরা ঢাকায় ঈদ করবেন। কেউ কেউ আবার ঢাকায় ঈদের নামাজ পড়ে নির্বচনী এলাকায়ও যাবেন।

এবার ঢাকায় ঈদ উদযাপন করবেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। করোনার শুরু থেকেই তিনি সংসদ ভবন এলাকায় সরকারি বাসভবনেই অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই প্রতিদিন কোনো না কোনো ভিডিও কনফারেন্সে দলের নির্দেশনা নেতা-কর্মীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। ঈদের দিন তিনি জাতীয় সংসদ ভবনের মসজিদে নামাজ আদায় করবেন। এরপর পরিবারের সঙ্গেই থাকবেন। নেতা-কর্মীদের সঙ্গে টেলিফোনে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। ঈদের দিনও নিয়মিত রুটিন অনুযায়ী বই পড়ায় ব্যস্ত থাকবেন।

কৃষিমন্ত্রী ড.আবদুর রাজ্জাক ঢাকায় অবস্থান করছেন। এখানেই ঈদ করবেন, তবে ব্যস্ত থাকবেন টাঙ্গাইলের মানুষকে নিয়ে। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবার রংপুরে যাচ্ছেন না, ঢাকায় ঈদ করবেন। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ঢাকায় ঈদ উদযাপন করবেন। তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ করে পরদিন ঢাকায় আসবেন।

রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন ঢাকায়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম ঢাকায় ঈদ করলেও বিকেলে নিজ এলাকায় যাবেন বলে জানা গেছে, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী নিজ নির্বাচন এলাকায় অবস্থান করলেও ঈদের দিন তিনি ঢাকায় থাকবেন। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান নিজ নির্বাচনী এলাকা জামালপুরের ইসলামপুরে, পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম ঢাকায় ঈদ করবেন বলে জানা গেছে। তবে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান নওফেল চট্টগ্রামে ঈদ করবেন। মহিলাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা থাকবেন ঢাকায়।

ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। করোনার কারণে সৃষ্ট দুর্যোগের মধ্যে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন নির্বাচনী এলাকার অসচ্ছল পরিবারের সঙ্গে। প্রতিমাসে তার প্রাপ্ত ভাতা নিজে খরচ না করে জমিয়ে রাখেন এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর এ জমানো ভাতা তার নিজ এলাকার অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা দিয়ে থাকেন। যা তিনি ঈদ শুভেচ্ছা হিসেবেই বিতরণ করছেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন মৌলভীবাজারে নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ করবেন।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে তারা গ্রামে যেতে পারছেন না। গ্রামে গেলেই নেতা-কর্মীরা সমবেত হবেন, সেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হবে না। এতে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, রেলপথ বিভাগ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, সড়ক ও পরিবহন সেতু বিভাগের কিছু অফিস খোলা রাখা হয়েছে এবং কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের জন্য আদেশ জারি করা হয়েছে।

ইন্দোবাংলা/তরিকুল/সিআর/এএমকে

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ