রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:০৭ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রামের রামদা উচিয়ে প্রাণ নাশের হুমকি, অভিযোগ নিতে অপারগ পুলিশ!

রউফুল আলম
  • আপডেট টাইম: রবিবার ১৬ মে, ২০২১
  • ১২৪ বার পঠিত

 

এম মনির চৌধুরী রানা

প্রকাশ্যে রামদা উচিয়ে এক বৃদ্ধাকে প্রাণ নাশের হুমকিসহ মারধর করলেও এ ব্যাপারে অভিযোগ নিতে নারাজ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের বায়েজিদ থানা। ভুক্তভোগী ওই বৃদ্ধার আত্মীয় চট্টগ্রাম জজকোর্টের অ্যাডভোকেট বিবি ফাতেমা লিখিত অভিযোগ জানালেও তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান বায়েজিদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রিটন সরকার। তবে পুলিশের এ ধরনের মানসিকতার কারণে ভবিষ্যতে আর ও বড় ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা। অ্যাডভোকেট বিবি ফাতেমার অভিযোগ, হাজীপাড়া আমিন উল্যাহ ডাক্তার সাহেবের বাড়ির মো মনসুর প্রকাশ্যে রামদা উচিয়ে প্রাণ নাশের হুমকি দিলে ও সে অভিযোগ আমলে নেয়নি পুলিশ। থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ বলছে মেডিকেল সার্টিফিকেট ছাড়া মামলা নেওয়া সম্ভব না। বিবি ফাতেমা আর ও জানান, গত ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬ টার দিকে রামদাসহ আমার বয়স্ক আত্মীয় (নানু) রেজিয়া বেগম (৭৫) কে মারধর করেন মো মনসুরসহ সঙ্গীরা । নানুকে বাঁচাতে আমি এগিয়ে গেলে আমাকে ও রামদা উচিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। তবে প্রকাশ্যে দেশিয় অস্ত্র প্রদর্শনসহ হুমকি দিলে ও সে অভিযোগ আমলে নিয়ে মামলা গ্রহণ করেনি বায়েজিদ থানা পুলিশ বরং মামলা করতে হলে মেডিকেল সার্টিফিকেটের বাধ্যতা মুলুক বলে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করায়। অভিযোগকারী প্রশ্ন করে এই প্রতিবেদককে জিজ্ঞেস করেন, এখন কী রামদার কোপ খাওয়ার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে ? চট্টগ্রাম আদালতের এই আইনজীবী আর ও বলেন, প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন এবং প্রাণ নাশের হুমকি দুটোই সিরিয়াস অপরাধ হলে ও পুলিশের মামলা না নেওয়ার কারণ বোধগম্য হচ্ছে না। পুলিশ আমাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছে। যোগ করেন তিনি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় কলি আখতার, রাবেয়া খাতুন,আয়েশা খাতুন, ছালেহা খাতুন ও মো মনসুরের সাথে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ঝামেলা চলছিলো। জমি সংক্রান্ত বিষয়ে বাদি আদালতে ১৪৫ ধারায় একটি মামলাও করেছেন। সে মামলা তুলে নিতে এবং দখলে থাকা সম্পত্তি ছেড়ে দিতে অভিযুক্তরা প্রায়শই এমন হুমকি দেন বলেও জানান স্থানীয়রা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কথা বলতে রাজি হননি বায়েজিদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি )প্রিটন সরকার। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মুখলেসুর রহমান বলেন, এটা প্রাণ নাশের হুমকি। তবে এর আগে পিছে আর ও অনেকগুলো কারণ আছে যা বিবেচনায় আনা জরুরি। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে দুই পক্ষকে ডেকে এনে ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পারে পুলিশ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম আদালতের আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী জিয়া হাবিব বলেন, এই ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে অবশ্যই পুলিশকে অভিযোগ গ্রহণ করে ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়ে বড় কিছু ঘটলে বা কেউ হতাহত হলে এর দায়ভার নিতে হবে পুলিশকেই।

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ