শুক্রবার, ১৮ Jun ২০২১, ০২:৩৬ পূর্বাহ্ন

সংবাদ প্রকাশের জের ধরে সাংবাদিকের ফিতরার টাকা ফেরত পাঠালেন মাদ্রাসা কমিটি

ইন্দোবাংলা প্রতিনিধি, তারাগঞ্জ (রংপুর)
  • আপডেট টাইম: সোমবার ১৭ মে, ২০২১
  • ৯৫ বার পঠিত

সংবাদ প্রকাশের জের ধরে সাংবাদিকের ফিতরার টাকা ফেরত পাঠালেন রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচালী ইউনিয়নে ইকরচালী নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার কমিটি। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে পরিবারের ৬ সদস্যের ফিতরা বাবদ ৪২০ টাকার একটি অনুদান আদায়ের রসিদ উক্ত প্রতিষ্ঠানের কমিটির পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতরের একদিন আগে বৃহস্পতিবার প্রেরণ করেন।

ইকরচালী ইউনিয়নের জগদীশপুর সরকারপাড়া গ্রামের মৃত হবিবর মাস্টারের পুত্র খায়রুল আলম বিপ্লব। তিনি দৈনিক মানব জমিন পত্রিকার তারাগঞ্জ প্রতিনিধি এবং ডেইলি নিউজ স্টার ও দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা পত্রিকার রংপুর প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তার বাড়িতে উক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে অনুদানের রশিদ পাওয়ার পর তিনি যথারীতি ইকরচালী ইউনিয়নের সমাজ সেবক সামছুল ইসলামের মারফত ফিতরার টাকা পাঠালে কমিটির সদস্য জিয়ারুল রহমান মুকুল ও রফিকুল ইসলাম তাকে বলে যে তার টাকা উপজেলা চেয়ারম্যান নিতে নিষেধ করেছে। তিনি ফিরে এসে ঘটনাটি সাংবাদিককে বলে যে আপনার ফিতরা নিতে উপজেলা চেয়ারম্যান নিষেধ করেছে তাই তারা ফিতরার টাকা ফেরত দিয়েছে।

এরপর বিষয়টি স্থানীয় ব্যবসায়ী মনির উদ্দিন, জিকরুল প্রামাণিক, বাবুল, দোকানী ও ইকরচালী ডিগ্রী কলেজের কর্মচারী মহুবারসহ একাধিক ব্যক্তিকে জানালে তারা প্রত্যেকে উক্ত ফিতরার টাকা নিয়ে আবারও ওই কমিটির সদস্যদের কাছে যায়। কিন্তু এরপরও উপজেলা চেয়ারম্যান অনুমতি না দেওয়ায় কমিটির কেউ উক্ত সাংবাদিকের ফিতরার টাকা গ্রহণ করেনি। সকলে এসে তাকে বলে যে, আপনি উক্ত হাফিজিয়া মাদ্রাসার নামে বিভিন্ন অর্থবছরে বরাদ্দকৃত অর্থ নয়-ছয় হওয়া নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছেন। তাই উপজেলা চেয়ারম্যান আপনার ফিতরার টাকা নিতে নিষেধ করেছেন। প্রকাশ থাকে যে, উপজেলা চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান লিটন উক্ত হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার সভাপতি।

উক্ত হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও মসজিদ কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি (সাংবাদিক) আমাদের হাফিজিয়া মাদ্রাসার কাজকর্ম সম্পর্কে বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন। এমনকি তিনি আরও বলেন আমরা নাকি টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করে থাকি। তাই আমরা কমিটির সিদ্ধান্তে তার ফিতরার টাকা নেইনি।

ইকরচালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা জিকরুল প্রামাণিক বলেন, কেউ দান করলে তা না নেওয়ার ঘটনা এই প্রথম শুনলাম। পবিত্র কোরানেরও কোথাও নিষেধ করা হয়নি যে দান করা বা কেউ দান করলে তা নেওয়া যাবে না। একমাত্র দান গ্রহণ করবে আল্লাহ।

এবিষয়ে সাংবাদিক খায়রুল আলম বিপ্লব বলেন, গত ২০১৯-২০ অর্থ বছরে উক্ত মাদ্রাসায় মাটি ভরাট করণের জন্য ১০ মেট্রিকটন চাল (যার বাজার মূল্য ছিল প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষাধিক টাকা) বরাদ্দ থাকলেও সেখানে এক কোদাল মাটিও ভরাট করা হয়নি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদটি প্রকাশিত হয়। উক্ত প্রকল্পটির সভাপতি ছিল তারই চাচাতো ভাই মুকুল। এ নিয়ে আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি কমেন্ট করেছিলাম। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আমার পাঠানো ফিতরার টাকা নেওয়া হয়নি।

এছাড়াও তিনি আরো বলেন, আমি ছোট বেলা থেকে অদ্যবধি ইকরচালী মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থানে সামর্থ্য অনুযায়ী দান করে আসছি। কিন্তু আমাকে রসিদ দেওয়ার পরেও উক্ত প্রতিষ্ঠান ফিতরা না নেওয়ায় ফিতরার টাকাটি আমি গ্রামের ৩টি গরীব ও অসহায় পরিবারকে দান করেছি।

এবিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আনিছুর রহমানের মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি আপনার কাছে প্রথম জানলাম। তবে আমি দান নিতে নিষেধ করিনি।

ইন্দোবাংলা/আর.এ

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ