শুক্রবার, ২৯ অক্টোবর ২০২১, ০৩:৩১ পূর্বাহ্ন

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত : যুদ্ধবিরতির আহ্বান বাইডেনের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম: মঙ্গলবার ১৮ মে, ২০২১
  • ১৮৭ বার পঠিত

অবশেষে গাজায় দখলদার ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনের জন্য কথা বলল মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সংঘাতের অষ্টম দিনের মাথায় এসে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশের প্রেসিডেন্ট।

সোমবার (১৭ মে) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপে বলেছেন বাইডেন। সেখানে তিনি যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, মিশর ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে আলোচনা করছে বলে জানিয়েছেন। তবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সহিংসতা বন্ধের প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রই ভেটো দিয়ে যাচ্ছে।
দুই নেতার কথোপকথনের পরে এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস জানায়, বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ইসরায়েলকে উৎসাহিত করেছে প্রেসিডেন্ট। তাদের মধ্যে হামাসের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র যেন পেস্কি সাংবাদিকদের বলেন, ‘পর্দার আড়ালে থেকে আমরা কথা বলতে চাই। এটাই এখন সবচেয়ে উত্তম পন্থা।’
সংকট নিরসনে ইসরায়েলকে হামলা বন্ধে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ একটি বিবৃতি দিতে চেয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাধায় তৃতীয়বারের মতো সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
ফোনালাপের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনিও ব্লিনকেন এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গাবি আশকেজানির সঙ্গে ইসরায়েল, গাজা ও পশ্চিম তীরে শান্তি ফেরানোর বিষয়ে কথা হয়েছে। ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনের বেসামরিক নাগরিকদের জীবন বাঁচাতে এ দ্বন্দ্ব থামানোর জন্য আমাদের অবশ্যই একটি উপায় খুঁজে বের করতে হবে।’
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইসরায়েলকে অবশ্যই বেসামরিক হতাহত এড়ানো উচিত। তবে হামাস বেসামরিক অবকাঠামো ও ফিলিস্তিনিদের দিয়ে তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মার্কেলও সহিংসতা বন্ধে আহ্বান জানিয়েছেন। আর দ্রুত সংঘাত বন্ধে যুদ্ধবিরতির জন্য আহ্বান জানিয়েছে ফ্রান্স ও মিশর।
এদিকে বাইডেনের সঙ্গে ফোনালাপের আগে দেশটির সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন নেতানিয়াহু। এরপর এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমরা সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করেই হামলা চালাচ্ছি।’
দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত। দেশ দুটির মধ্যে চলছে আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ। কূটনৈতিকভাবে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানানো হলেও তার কর্ণপাত করছে না কোনো পক্ষই।
ইসরায়েলের সেনাবাহিনী থেকে জানানো হয়েছে, সংকটের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ৩ হাজার ৩৫০টি রকেট ছুড়েছে হামাস। এর মধ্যে শুধুমাত্র সোমবারই ২০০ রকেট ছোড়া হয়। আর ইসরায়েলের বিমান হামলা ও আর্টিলারি হামলায় ১৩০ জন মারা গেছে।
গাজার স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের হামলায় এ পর্যন্ত গাজায় নিহত হয়েছেন ২১২ জন। আহত হয়েছে অন্তত ১৫০০। নিহতদের মধ্যে ৬১ জন শিশু ও ৩৬ জন নারী। আর হামাসের ছোড়া রকেটে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে দুই শিশুসহ ১০ জন মারা গেছে।
এদিকে লেবানন থেকে রকেট হামলার জবাবে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। লেবাননের একটি সুরক্ষা সূত্র আল-জাজিরাকে জানিয়েছে যে, ইসরায়েল লেবাননের দিকে লক্ষ্য করে ২২টি গোলা নিক্ষেপ করেছে।
গাজায় ইসরায়েলের বোমা হামলা যুদ্ধাপরাধের সমান বলে জানিয়েছেন মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনবিষয়ক মুখপাত্র ওমর শাকের। তিনি বলেন, ‘গাজা উপত্যকায় আমরা দেখেছি যে, ইসরায়েলি বিমানগুলো বাণিজ্যিক এবং আবাসিক ভবনে আঘাত হেনেছে; যে ভবনগুলোতে শত শত পরিবার রয়েছে।’
ইন্দোবাংলা/আর. এস

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ