বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:০৭ পূর্বাহ্ন

ইংল্যান্ডে গেল নওগাঁর আম্রপালি

ইন্দোবাংলা প্রতিনিধি, নওগাঁ
  • আপডেট টাইম: শনিবার ১৯ জুন, ২০২১
  • ৯৬ বার পঠিত

তরুণ উদ্যোক্তা সোহেল রানার সাপাহার গোডাউন পাড়ায় ‘বরেন্দ্র এগ্রো পার্ক’ এ প্রায় ১৪০ বিঘা জমিতে আড়াই বছর বয়সি প্রায় দেড় হাজার আম্রপালি গাছ রয়েছে। যেখান থেকে এ বছর প্রায় ৪০ টনের মতো আম পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

দেশে আমের জেলা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে নওগাঁ। জেলার বরেন্দ্র এলাকা সাপাহার, পোরশা ও নিয়ামতপুর উপজেলা ও পত্নীতলার আংশিক এলাকা আম্রপালি আমের জন্য বিখ্যাত। আমগুলো অত্যান্ত সুস্বাদু ও সুমিষ্ট।

এ বছর জেলার সাপাহার উপজেলার আম্রপালি (বারি আম-৩) জাতের আম ইংল্যান্ডে রপ্তানি করা হয়েছে। উপজেলার ‘বরেন্দ্র এগ্রো পার্ক’-এর মালিক সোহেল রানা তার নিজেস্ব বাগান থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় বিদেশে আমগুলো রপ্তানি করেন।

আম্রপালি আমের প্রথম চালান (প্রায় এক টন) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার ফ্লাইটে ইংল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা করেছে।

তরুণ উদ্যোক্তা সোহেল রানা সাপাহার গোডাউন পাড়ায় ‘বরেন্দ্র এগ্রো পার্ক’ এ প্রায় ১৪০ বিঘা জমিতে আড়াই বছর বয়সি প্রায় দেড় হাজার আম্রপালি গাছ রয়েছে।

যেখান থেকে এ বছর প্রায় ৪০ টনের মতো আম পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। গাছের বয়স কম হওয়ায় একটু আগে পুরু হয়েছে। কারণ গাছের বয়স বেশি হলে আম দেরিতে পাকতে শুরু করে।

বিদেশে আম রপ্তানি করার জন্য পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে বিভিন্ন পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন তিনি। উত্তম কৃষি চর্চা পদ্ধতি বিশেষ করে- সুষম ও জৈব সার, নিয়মিত কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক এবং সারা বছরই পরিচর্চা করতে হয়। কারণ রোগবালাই মুক্ত আমই বিদেশে যায়।

বিশেষ করে ১৫ দিন আগে গাছে সবধরনের স্প্রে বন্ধ করতে হয়। এ মেয়াদ শেষ হলে তার আর কার্যকারিতা থাকে না। এতে করে মানুষের শরীরের ক্ষতি করতে পারে না।

কিন্তু বিদেশে যেসব আম রপ্তানি করা হবে সেগুলো ঢাকাতে কোয়ারেন্টাইন হয়। আমের কোন রোগবালাই বা কীটনাশক আছে কি না। তারপর বিদেশে যাওয়ার অনুমোতি দেয়া হয় বলে জানান সোহেল।

সোহেল রানা বলেন, ‘বুধবার হারভেস্ট করে বিশেষ প্রক্রিয়ায় প্যাকেজিং করা হয়। এরপর রাতে পিকআপে ঢাকায় পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার সারাদিন রপ্তানির যাবতীয় প্রসিডিউর শেষ করে সন্ধ্যায় এক ফ্লাইটে ঢাকা থেকে বিলেতে যাত্রা করেছে। এতে আমের রাজধানী সাপাহারে সম্ভাবনার নতুন এক দ্বার উন্মোচিত হবে। সাপাহারের আম বিশ্ব বাজারে একটি ব্র্যান্ড হিসেবে জায়গা করে নিতে পারবে বলে আমি আশাবাদী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বরেন্দ্র এগ্রো পার্কের বাগানে বারি’র উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরফ উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে ‘Global GAP’ অনুসরণ করে উৎপাদিত আমের প্রথম চালান ইংল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা করেছে।

‘এ বছর প্রায় ১০ টন আম রপ্তানি করার ইচ্ছা আছে। আগামি সপ্তাহে এক টন বরাদ্দ আসতে পারে। এক্সপোর্টারের কাছে প্রায় চার হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করেছি।’

সোহেল আরও বলেন, ‘আমরা জানতাম না কীভাবে আম বিদেশে রপ্তানি করার উপযোগী করতে হয়। এটার ওপর আমরা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়েছি। সুইডেন ও ফিনল্যান্ড থেকেও আমরা ডাক পাচ্ছি।

‘আমার দেখাদেখি অনেকেই উৎসাহিত হবে কীভাবে আম রপ্তানি করতে পারবে। স্থানীয় বাজারে দাম কম পেলেও দেশের বাইরে ভালো একটা দাম পাওয়া যাবে। এতে আমরা লাভবান হতে পারব।’

নওগাঁর পত্নীতলার দিবর ইউনিয়নের রূপগ্রাম গ্রামের কৃষক আজিজার রহমানের ছেলে সোহেল রানা। নিম্ন মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের ছেলে সোহেল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেন।

কিছুদিন ঢাকায় চাকরি করার পর ২০১৫ সালে নিজ গ্রামের খাড়িপাড়া এলাকায় পৈতৃক ১২ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলেন সমন্বিত কৃষি খামার। নাম দেন ‘রূপগ্রাম এগ্রো ফার্ম’। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

মেধা, পরিশ্রম আর অটুট নৈতিক মনোবলের কারণে তিনি বর্তমানে সাপাহারে এখন ১৪০ বিঘা জমিতে সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তুলেছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নওগাঁর উপপরিচালক শামছুল ওয়াদুদ জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ২৫ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ১৪ টন হিসাবে জেলায় ৩ লাখ ৬২ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। চলতি মৌসুমে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার আম কেনাবেচা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইন্দোবাংলা/সি.কে/এম.আর

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ