বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:০৩ পূর্বাহ্ন

লোকসংগীতের বরেণ্য কবিওয়ালা মাহতাব শাহ ফকির

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম: রবিবার ২৭ জুন, ২০২১
  • ৫৮৯ বার পঠিত

মাহাতাব শাহ্ ফকির যার নাম শুনলে প্রথমেই যে কথা আমাদের হৃদয়ে জাগ্রত হবে তা হলো লোকজ সংস্কৃতি, পল্লী সাহিত্য, বাঙালি সংস্কৃতি এমন অজস্র বিষয়। যেখানে তিনি গৎবাঁধা নিয়মের বাইরে গিয়ে নিজস্ব ধাঁচে তুলে এনেছেন বাংলার অমৃত রত্নভাণ্ডার। একটি দেশের একটি জাতির সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার নিজস্ব সংস্কৃতি, আচার, ঐতিহ্য, জীবনধারা, কৃষ্টি,লোকজ উৎসব, সাংস্কৃতিক পরিক্রমা।

একজন জনপ্রিয় গীতিকার, সুরকার, কন্ঠশিল্পী ও লোকজ গবেষক  হিসেবে ‘মাহতাব শাহ্ ফকিরের যেসকল  সৃষ্টি মা  মাটির সঙ্গে মিশে গ্রাম বাংলার জনপদ, পথ, প্রান্তর, জনমানুষের সঙ্গে মিলে মিশে একাকার হয়ে আছে যার  কর্মব্যাপ্তি নিঃসন্দেহে  অতুলনীয় ও প্রশংসার দাবিদার ।

বাংলার লোক সংগীত, বাংলার পুঁথি সাহিত্য,বাংলার মাটি, বাংলার রূপ, বাংলার সাংস্কৃতিক ইতিহাস যে কতখানি ব্যাপ্তিময় তা মাহতাব শাহ্ ফকিরের গীতিকথায়, সুরে, কন্ঠে ও গবেষণায়  বোঝা যায়।

মাহতাব শাহ্ ফকিরের জন্ম ১৯৭২ সালের ০৯ নবেম্বর সিলেটের গোপালগঞ্জ থানার রানাপিং এর ভুটিটিকর ফাজিলপুরে। পিতা হাজী মনাফ আলী ও মাতা মোছাঃ হালীমা খানমের ৫ ছেলে ও দুই কন্যার মাঝে মাহতাব শাহ্ ফকির ৬ষ্ঠ। মাহতাব শাহ্ ফকির ফাজিলপুর সরকারী প্রাথমিক  বিদ্যালয় থেকে  শিক্ষা জীবন শুরু করে সিলেটের মদন মোহন কলেজ থেকে উচ্চ ম্যাধমিক এবং পরে এম, সি ( মুরারীচাঁদ সরকারি)  কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করে সিলেট আইন কলেজে অধ্যায়ন করেন।

নব্বই দশকে এসে তিনি গান, কবিতা, পুঁথি রচনায় মননিবেশ করলেও সংগীতে তার হাতে খড়ি হয় সংগীতজ্ঞ ‘সামসুল হুদা চৌধুরী’র কাছে, পরে আরেক সংগীতজ্ঞ, গণসংগীত শিল্পী স্বর্গীয় ভবতোষ চৌধুরী ও আইনজীবি জুনল আহমেদের কাছে। মাহতাব শাহ্ ফকির ১২ শত এর অধিক গান এবং পুঁথি রচনা করেছেন।

তার লেখা গীতিকাব্য নিয়ে প্রকাশিত এ্যালবাম গুলো হলঃ-
(১) কেন মন মজাইলাম
(২) অন্তরে অনন্ত জ্বালা
(৩) অন্তরে বাইরে শ্যাম
(৪) দরদী সুজন
(৫) বাবা শাহ্ জালাল ( রহঃ)।

আবার, ‘সামসুল হুদা চৌধুরী’র গান নিয়ে ‘মাহতাব শাহ্ ফকির’ নিজের সম্পাদনায় ২০০৭ সালে ‘মনঃপীড়া ‘গীতিগ্রন্থ রচনা করেন।

প্রতিভাবান এই ‘মাহতাব শাহ ফকির ‘সাংস্কৃতির বাইরে ক্রীড়াঙ্গনেও ছিলেন সর্বাগ্রগণ্য,তিনি দাবাতে দুইবার সিলেট বিভাগ চ্যাম্পিয়নের খেতাব অর্জন করেছিলেন এছাড়া ফুটবল, ক্রিকেটে ও ছিলেন  অতিশয় কর্মণ্য।

বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের  তালিকাভুক্ত গীতিকার ‘মাহতাব শাহ্ ফকিরের গীতিকাব্য নিয়ে তরুণ প্রজন্মের অনেক প্রতিভাবান কন্ঠ শিল্পী কাজ করে যাচ্ছেন নিয়মিত।

নিজের রচিত গীতিকাব্য নিয়ে তিনি ‘ইন্দোবাংলা ‘কে বলেন, ‘আমার মূল ভাবনা বাংলা আমার মায়ের ভাষা, আমি বাঙালি। আমার দেশ-বাংলাদেশ। বাংলাদেশ গানের  দেশ সুরের দেশ। আমাদের শিখরে সঙ্গীতের শক্তি সুরে শক্তি।  বাংলাদেশে লোকসঙ্গীতের বিশাল ভান্ডার রয়েছে।

জন্মগ্রহনের পর থেকেই আমি ‘পুঁথি’ লোক সংগীত শুনে শুনে বড় হয়েছি। গ্রাম বাংলার সেই পুঁথি আর লোক গান  আজ হারিয়ে যাচ্ছে কালের বিবর্তণে। আর বর্তমান সময়ের তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে যার যোগসূত্র নামে মাত্র।

কোনও সংরক্ষণের উপায় নেই। বাংলা লোক সঙ্গীতের মধ্যে  লালন, বাউল, হাছনরাজা, ভান্ডারী, ভাটিয়ালী, ভাওয়াইয়া, ধামাইল, গজল, পুঁথি,  গম্ভীরা, জারী, সারি, কীর্তন, কবিগান, যাত্রাপালা, শ্যামা সঙ্গীতসহ আরও বেশ কিছু গান রয়েছে। এর মধ্যে বাউল গানের বাণী মূলত দেহতত্ত্ব এর উপর ভিত্তি করে সৃষ্টি এবং সহজ মধ্যে যার রসবোধ আস্বাদনের আনন্দই আলাদা, বোধ করি সেটাই হয়ত আমার গীতিকাব্য,সুর, এবং গায়কীর মাধ্যমে নতুন  প্রজন্মকে  আকর্ষণ করতে পারবে।

ইন্দোবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের পক্ষ থেকে গানের পাখি সুর সাধক, গীতিকার, কন্ঠশিল্পী সংগীতজ্ঞ ‘মাহতাব শাহ্ ফকির’ এর জন্য থাকলো অনেক অনেক শুভকামনা।

ইন্দোবাংলা/এম. আর

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ