শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন

নারী গৃহকর্মী সরবরাহ, টাকা গ্রামীণ জনপদের অর্থনীতিতে যুক্ত, অবশ্যই গর্ববোধ করি: সাগর

মাহফুজ রহমান
  • আপডেট টাইম: সোমবার ১৬ আগস্ট, ২০২১
  • ১৮৮ বার পঠিত

নারী গৃহকর্মী সরবরাহ, টাকা পাঠায় যা গ্রামীণ জনপদের অর্থনীতিতে যুক্ত অবশ্যই গর্ববোধ করি বলে মন্তব্য করেছেন ডায়নামিক স্টাফিং সার্ভিসেস ওভারসীস লিমিটেডের ওভারসীস ডাইরেক্টর শহিদুল ইসলাম সাগর। রবিবার (১৫ আগস্ট) নিজের ফেসবুক আইডিতে ‘গত এক সপ্তাহ যাবৎ এজেন্ট হিসাবে নারী গৃহ কর্মী সরবরাহের জন্য যোগাযোগ’ শিরোনামে একটি পোস্ট করেছেন তিনি।

ইন্দোবাংলা২৪.কমের পাঠকদের জন্য তার ফেসবুক পোস্টটি তুলে ধরা হলো-

গত এক সপ্তাহ যাবৎ রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে কিছু মানুষ আমাদের এজেন্সিতে এজেন্ট হিসাবে নারী গৃহ কর্মী সরবরাহের জন্য যোগাযোগ করছেন। যাদের বেশির ভাগই আগে এই পেশা সম্পর্কে অবগত নয়। তাদের বেশি ভাগেরই একটা প্রশ্ন, ভাই নারী কর্মীরা যৌন নির্যাতনের স্বীকার হবে কিনা? তাদের সামাজিক নিরাপত্তা কতটুকু? আমরা বিপদে পড়বো কিনা? আমার পুরো লেখাটা পড়ুন উত্তর শেষ পর্যন্ত পেয়ে যাবেন আশা করি।

বর্তমানে মরিশাস, জর্দান, ওমান, আরব আমিরাত, লেবানন, ব্রুনাই, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব ও হংকং সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ২৫ লক্ষেরও বেশি নারী শ্রমিক নানা পেশায় কাজ করে। যদি প্রতিটি নারী এভারেজে ২০,০০০/- টাকা করে বাংলাদেশে পাঠায় প্রতি মাসে তাহলে মোট ৫ হাজার কোটি টাকা পাঠায় যা পুরোটাই গ্রামীণ জনপদের অর্থনীতিতে যুক্ত হয়। আপনারা কি একবারও ভেবেছেন তাদের অবদান কতটুকু দেশের অর্থনীতিতে?

এবার আসা যাক অভিযোগ এর মাত্রা কতটুকু। ২০১৯ সালে প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী ৩৮ জন নারী কর্মী যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেছে। ঠিক মতো বেতন না পাওয়ার অভিযোগ করছে ১৪৬ জন, ঠিক মতো খেতে না দেওয়ার অভিযোগ করেছে ২৩ জন। এখন আপনারা হিসাব কষে দেখুন অপরাধের পরিমান কতটুকু। দেশের নাগরিক হিসাবে আমরা অবশ্যই চাই সরকারি তদারকির মাধ্যমে অভিযোগ শুন্যের কোঠায় নেমে আসুক।

গত কয়েকদিন আমাকে যারা নারী কর্মীদের যৌন নির্যাতনের কথা বলেছেন তাদের কাছে আমার প্রশ্ন আমাদের দেশের অভ্যন্তরে প্রতি বছর কতজন নারী ধর্ষণের শিকার হয়? কতজন নারী খুন হয়?

২০১৯ সালে বাংলাদেশে যৌন হয়রানীর শিকার ১৮ জন নারী আত্মহত্যা করেছেন৷ প্রতিবাদ করতে গিয়ে চারজন নারীসহ ১৭ জন হত্যার শিকার হয়েছেন৷ যৌন হয়রানীর প্রতিবাদ করতে গিয়ে ৪৪ পুরুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন৷

গত বছর যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৬৭ জন নারী৷ তাদের মধ্যে নির্যাতনে নিহত হন ৯৬ জন এবং আত্মহত্যা করেন তিনজন৷ আর পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মোট ৪২৩ জন নারী৷ স্বামীর হাতে খুন হয়েছেন মোট ২০১ জন নারী। তাহলে এসব কারনে কি আমরা আমাদের মেয়েদের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি? অবশ্যই না।

তাহলে বাংলাদেশ থেকে অভাবগ্রস্ত, অসহায়, অবহেলিত নারী শ্রমিকদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য বিদেশ গেলে বা পাঠালে দোষ কোথায়। যদি বৈধভাবে সঠিক ভিসায় বিএমইটি ছাড়পত্র নিয়ে যায়। আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন সরকার অনুমোদিত যে সকল রিক্রুটিং এজেন্সি ও তাদের এজেন্টগন এর আন্তরিক প্রচেষ্টায় পাঠানো ২৫ লক্ষ নারী কর্মী মাসে ৫ হাজার কোটি টাকা দেশের অর্থনীতিতে যুক্ত করে তার জন্য এজেন্সি গুলোর অবদান কতটুকু? আমরা যারা এই পেশায় আছি তারা কিন্তু অবশ্যই গর্ববোধ করি।

পরিশেষে আপনাদেরকে বলবো নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গী বদলান, দেশ, সমাজ ও দেশের অর্থনীতি বদলে যাবে।

লেখকঃ শহিদুল ইসলাম সাগর
ওভারসীস ডাইরেক্টর
ডায়নামিক স্টাফিং সার্ভিসেস ওভারসীস লিঃ
গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত রিক্রুটিং লাইসেন্স নাম্বার ১৩৮৬।

ইন্দোবাংলা/আর. কে

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ