বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:০২ অপরাহ্ন

দেশী যন্ত্রাংশে ৪ লাখ টাকায় মিনিবাস তৈরি করে নিয়ামতপুরের মিনুর সাফল্য

ইন্দোবাংলা প্রতিনিধি, নওগাঁ
  • আপডেট টাইম: মঙ্গলবার ২৪ আগস্ট, ২০২১
  • ৪০ বার পঠিত

পুঁথিগত বিদ্যায় পিছিয়ে থাকলেও নতুন নতুন যন্ত্র আবিষ্কারের নেশায় মেতে থাকেন মিজানুর রহমান মিনু। পরিবারের চরম অভাব অনটনের কারণে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা পর্যন্ত গ্রহন করতে পারেননি।

নওগাঁর নিয়ামতপুরের সেই গেঁয়ো মিনুই কিনা দেশী যন্ত্রাংশ দিয়ে মাত্র ৪ লাখ টাকায় একটি যাত্রীবাহি মিনিবাস তৈরি করে সাফল্য অর্জন করেছে। তার কৃতিত্ব মিনিবাসটি একনজর দেখতে দূরদূরান্তের লোকজন ছুটে আসছেন।

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের এক অজপাড়া গ্রামের পাইকড়ার জনৈক আইয়ূব হোসেনের ছেলে মিজানুর রহমান মিনু। ছোটবেলা থেকেই পড়াশুনার প্রতি তেমন বেশি আগ্রহী না থাকলেও তার মনযোগ ছিল পরিত্যক্ত জিনিস দিয়ে নতুন কিছু তৈরি করার।

তাই মিনু শিক্ষা অর্জন করতে না পারলেও ছোটবেলা থেকেই নানাভাবে বিভিন্ন কাজের প্রতি তার প্রচন্ড আগ্রহ ছিল। সেই নেশাতেই এক সময় ইঞ্জিন চালিত চার চাকার মিনিবাস তৈরি করে চমক দিয়ে চারদিকে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন। তার এ উদ্ভাবন যান্ত্রিক শক্তির জগতে এক নতুন বিস্ময়। মিজানুর রহমান মিনুর আবিষ্কৃত এ বাসে ১৫ থেকে সর্বোচ্চ ২০ জন যাত্রী বসতে পারেন।

জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই নতুন কোন কিছু উদ্ভাবন করে সবাইকে চমক লাগিয়ে দিতেন মিনু। মিনিবাসের সিট ও স্টিয়ারিং দিয়ে দেশি প্রযুক্তিতে দেশি যন্ত্রপাতিতে তৈরি করেছেন বাসটি। বাসটি তৈরি করে পরীক্ষামূলকভাবে চালাচ্ছেন তিনি। সব মিলিয়ে বাসটি তৈরি করতে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা খরচ পড়বে।

মিনুর প্রযুক্তিতে তৈরি বাসটি ১ লিটার জ্বালানিতে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার গতিতে ৩০/৩৫ কিলোমিটার চলাচলে সক্ষম। স্বপ্ন দেখছেন, গাড়িটি দেশে এবং বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের। এ ব্যাপারে সরকারের সহায়তা চান তিনি।

মিজানুর রহমান মিনু সাংবাদিকদের জানান, ছোটবেলা থেকে নতুন কিছু উদ্ভাবন করার চেষ্টায় থাকতাম। এসব নিয়ে সারাক্ষণ ভাবতাম। নিজের একটা ছোট ওয়ার্কশপের দোকান আছে। আমার নতুন ইঞ্জিন চালিত চার চাকার গাড়ি দেখতে অনেকে আসছে। মিনি বাসটির কাজ এখন শেষ পর্যায়ে।

তিনি আরও বলেন, অনেকে টাকার অভাবে বড় বাস কিনতে পারে না। তারা যেন অল্প টাকায় সেই বাসটি কেনার শখ পূরণ করতে পারে সেজন্য আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। এটি খুবই সাশ্রয়ী। চার চাকায় ব্রেক আছে। এতে ১৫/২০ জন যাত্রী বহন করতে পারবেন। তবে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আমার কাজ আরো সহজ, দ্রুত এবং সুন্দর হবে।

তিনি দাবি করেন, সরকার যদি এগিয়ে আসে তাহলে দেশেই গাড়ি তৈরি করা সম্ভব হবে। সরকার এগিয়ে আসলে এটা বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করা সম্ভব। বর্তমান সরকারের আমলে দেশ অনেক এগিয়ে গেছে। এখন সাইকেল এবং ভ্যানে পর্যন্ত ইঞ্জিন লাগানো হচ্ছে। তার এ বিষয়টি দেখে সরকারকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

ইন্দোবাংলা/আর. কে

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ