বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:০২ পূর্বাহ্ন

জমজমাট সবজি বাজার: পথচারীদের দুর্ভোগ

ইন্দোবাংলা প্রতিনিধি, নওগাঁ
  • আপডেট টাইম: রবিবার ২৯ আগস্ট, ২০২১
  • ৪৮ বার পঠিত

সপ্তাহের প্রতিদিন কাকডাকা ভোর থেকে হাঁকাহাঁকি ডাকাডাকিও চেঁচামেঁচির যেন কোন অন্ত নেই। মাঠে ফলানো সবজি ফসল সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন এলাকার কৃষকগণ।

আর বিক্রির জন্য মাঠ থেকেই সরাসরি টাটকা তাজা সব্জি ফসল তুলে নিয়ে আসছেন নিত্য ব্যস্ত এ রাস্তার ওপর । কেউবা সব্জি ফসল তুলে বস্তায় বা ডালিতে করে পসরা সাজিয়ে বসে আছেন ক্রেতার আশায়। চারদিকে যেন ধুম পড়েছে বাহারি রকমের টাটকা সব্জি কাঁচা পণ্য কেনা-বেঁচার। এটিই বর্তমান সাপাহার উপজেলার সর্ববৃহৎ সব্জির পাইকারী বাজারের বাস্তব চিত্র। প্রতিদিন ভোর বেলা সব্জির বাজার বসে সাপাহার উপজেলার বাহাপুর মোড়ে। সব্জি বাজারের জন্য ওই মোড়ে আলাদা কোন স্থান না থাকায় মোড়ের ব্যাস্ততম রাস্তার উপরই গায়ের জোরে বসছে তথাকথিত এ বৃহৎ সব্জিরহাট। এ ফলে প্রতিদিন পথচারীদের চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, প্রতিদিন ফজরের আযানের পর থেকেই এখানকার ও দূর-দূরান্ত থেকে আগত কৃষকেরা ছোটাছুটি শুরু করে নিজ হাতে উৎপাদিত কাঁচা সব্জি পাইকারের কাছে বিক্রির জন্য। এর আগে তারা দল বেঁধে বাগান থেকে সব্জি ফসল সংগ্রহ করেন। এ এলাকার উৎপাদিত উল্লেখযোগ্য সব্জি হলো বেগুন, পটোল , ঝিঙ্গা ,করলা, উচ্ছে,লাউ, মিষ্টি কুমড়া, কাচা কলা ইত্যাদি। এ পাইকারী বাজারে কাঁচা মালামাল কেনার জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকারি ও খুচরা ক্রেতা- বিক্রেতারাসহ অন্যান্য লোকজন আসেন । টাটকা সতেজ সব্জি কেনার জন্য তাই পাইকারদেরও যেন উৎসাহের কোন কমতি নেই। তারা পাইকারী দরে এখান থেকে সব্জি ক্রয় করে রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে গিয়ে বিক্রয় করেন।

সম্প্রতি সময়ে এই উপজেলায় যত কাঁচা সব্জি উৎপাদন হয় তার বেশির ভাগই তিলনা ও বাহাপুর এলাকায় হবার ফলে দীর্ঘদিন ধরে পাইকারী বাজার বাহাপুর মোড়েই বসে। কাঁচা সব্জির বাজারের জন্য সুনির্দিষ্ট কোন স্থান না থাকার ফলে ব্যস্ততম রাস্তার ওপরেই বসে এ পাইকারী বাজার । স্থানীয় কৃষকেরা জানান, করোনাকালীন সময়ে লকডাউন থাকার ফলে এই বাজার অনেক থমকে গেছিলো। কিন্তু বর্তমানে এই অঞ্চলে করোনার তেমন প্রভাব না থাকার ফলে আবারো কেনা-বেচার জন্য জমজমাট উঠেছে এ পাইকারী বাজার।

কৃষক ছাদেক আলী বলেন, আমি মোট ৬ বিঘা জমিতে করলা চাষ করেছি। বর্তমানে আগের তুলনায় অনেকটা বাজার মূল্য কম।
বাজারমূল্য কমের বিষয় নিয়ে আরেক চাষী হাসান আলী জানান, বর্তমানে পাইকার কম আসার ফলে স্থানীয় পাইকাররা কম দামে সব্জি ক্রয় করছেন।

পাইকারদের মধ্যে অনেকেই জানান , এ অঞ্চলে সাশ্রয়ী মূল্যে একেবারে টাটকা সব্জি পাওয়া যায়। তাই আমরা আগ্রহ করে এখানে কিনতে আসি। যাতে করে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট সব্জিটা আমরা ভোক্তার নিকট পৌঁছাতে পারি।

রাজধানীর কাওরান বাজার থেকে আসা পাইকার কামরুল হাসান জানান, সাপাহার উপজেলার বাহাপুরে একদম বাগান থেকে সংগ্রহ করা টাটকা সব্জি পাওয়া যায়। যার ফলে আমরা এখান থেকে সব্জি কিনতে অনেকটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। এছাড়াও এখানে অনেকটাই সাশ্রয়ী মূল্যে সব্জি কেনা যায়।
উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আতাউর রহমান সেলিম বলেন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে এলাকার চাষীদের জন্য সকল প্রকার পরামর্শ প্রদান অব্যহত আছে। সময়মতো বীজ, সার, কীটনাশক প্রয়োগে ও সেচ প্রদানে কৃষকরা আন্তরিক ভাবে কাজ করেন। তাই সব্জির উৎপাদনের পরিমাণ দিনদিন অনেক বৃদ্ধি পাচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহল জানান, উপজেলার সর্ববৃহৎ কাঁচামালের পাইকারী বাজার বসে এ বাহাপুর মোড়ে। কিন্তু রাস্তার উপর বাজার বসার ফলে পথচারীদের নানাবিধ সমস্যা ও কষ্টের মধ্যে পড়তে হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি কাঁচাবাজারের জন্য সুনির্দিষ্ট একটি স্থান নির্ধারণ করে দেন, তাহলে এলাকার কৃষক সাধারণের অনেক সুবিধা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্যাহ আল মামুন বলেন, সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। পথচারীদের যাতে কোন সমস্যা না হয় সে বিষয়ে খেয়াল রাখা হবে।

ইন্দোবাংলা/এইচ. এম

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ