রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০২:০৫ পূর্বাহ্ন

নারীর ডিজিটাল নিরাপত্তা সুরক্ষায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে- টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী

মোরসালিন ইসলাম, ঢাকা
  • আপডেট টাইম: বৃহস্পতিবার ২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৬৭ বার পঠিত
ছবিঃ সংগৃহীত

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, নারীর ডিজিটাল নিরাপত্তা সুরক্ষা কিংবা নিরাপত্তায় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলা অপরিহার্য। তা না হলে যত বেশি ডিজিটাল হবো সমাজের দুর্বল অংশ বিশেষ করে নারী ও শিশু বিপন্ন থেকে আরো বিপন্নতর হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড-এর দোহাই দিয়ে প্রতিকারে খুব কমই গুরুত্ব দিচ্ছে। পরিস্থিতি উত্তরণে বিশ্বের বহুদেশ সোস্যাল মিডিয়া আইন করেছে।

মন্ত্রী আজ ঢাকায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি সঠিক ও সক্রিয়ভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে নারী ও কন্যা শিশুর ওপর ডিজিটাল সহিংসতা প্রতিরোধে আরও কার্যকর উদ্যোগ বিষয়ক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা এবং মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বক্তৃতা করেন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছে সব বয়সী নারী সমাজ। লক্ষ্য করা যায় মেয়েদের ছবি বিকৃত করে তাদের ছবি ডিজিটাল মাধ্যমে ছেড়ে দিয়ে তা ভাইরাল করা হয়। এই ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে ২০১৮ সালে ডিজিটাল আইন বিল জাতীয় সংসদে উপস্থাপনকারী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ডিজিটাল অপরাধ দমনে আইন প্রণয়ন অপরিহার্য ছিলো। কিন্তু আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো বিশেষ করে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব ও ডিজিটাল ডিভাইস শনাক্ত যন্ত্র থানাগুলোতে না থাকায় ক্ষেত্র বিশেষে আইনটির অপপ্রয়োগ হতেই পারে। এই অবস্থা উত্তরণে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নারীদের সাধারণ ও ডিজিটাল মাধ্যমে নিরাপত্তার বিষয়ে সামাজিক আন্দোলনের বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সাথে নিতে হবে।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, বাংলাদেশের বাইরে থেকে প্রায় দেড় শতাধিক আইডি থেকে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও উস্কানিমূলক এবং বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচার করা হয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে সোস্যাল মিডিয়া এদের প্রশ্রয়ও দিচ্ছে, প্রতিকারের জন্য খুব একটা সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। তবে গত তিন বছরে ফেসবুকসহ অন্যদের সাথে একটা ভাল সম্পর্ক তৈরি করা চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও উন্নতি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, তালেবানসহ জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে ফেসবুকে জায়গা দেওয়া হবে না বলে ফেসবুকের বাংলাদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি তাকে আশ্বস্ত করেছেন বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

এর আগে মন্ত্রী হাইটেক প্রফেশনাল নামক কম্পিউটার কোম্পানির রজতজয়ন্তী উপলক্ষ্যে বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালা ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ইন্দোবাংলা/আর. কে

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ