শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন

অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে কাজ করছে সরকার -শিল্পমন্ত্রী

ইন্দোবাংলা রিপোর্ট
  • আপডেট টাইম: শনিবার ২ অক্টোবর, ২০২১
  • ৪৩ বার পঠিত
ছবিঃ সংগৃহীত

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেছেন, স্বল্প আয়তনের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশের রয়েছে অমিত সম্ভাবনা। সরকার অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আজ শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস ২০২১ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট খাতের অবদানের উপর নির্ভরশীল নয়। এর জন্য প্রয়োজন জাতীয় অর্থনীতির সকল খাতের সামগ্রিক অগ্রগতি ও অবদান। উৎপাদনশীলতার সুফল শুধুমাত্র উৎপাদনকারী এককভাবে ভোগ করে না। তার সুফল সরকার, মালিক, শ্রমিক ও ভোক্তাসহ সমাজের সবাই সমানভাবে ভোগ করে। তাই এর সুফল ভোগ করতে সকলের স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং অঙ্গীকার একান্ত প্রয়োজন। আর এই সামগ্রিক অঙ্গীকার ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একমাত্র পথ হচ্ছে উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন কর্মসূচিকে জাতীয় আন্দোলনে রূপান্তরিত করা।
উৎপাদনশীলতার ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে থাকা প্রসংগে মন্ত্রী বলেন, এ অবস্থা থেকে দ্রুত উত্তরণ করতে দেশের কৃষি, শিল্প কারখানা, সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসাকেন্দ্র, হাসপাতাল প্রভৃতি জাতীয় অর্থনীতির সকল কর্মকাণ্ডের পদ্ধতিগত ও ধারাবাহিকভাবে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কর্মসূচিকে আরো জোরদার করতে হবে। সবাইকে উৎপাদনশীলতার সুফল সম্পর্কে সচেতন এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির আন্দোলনে শামিল করতে হবে।

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন সম্পর্কে শিল্পমন্ত্রী বলেন, একটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার দৃশ্যমান দিক হচ্ছে অবকাঠামোগত উন্নয়ন। এর মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও জীবনমানের গতি-প্রকৃতি জানা যায়। বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে দেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অল্প দিনের মধ্যেই চালু হবে পদ্মাসেতু। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণের সফলতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে একটি মাইলফলক। এছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ঢাকা মেট্রোরেলসহ দেশে আরো অনেক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এসব অবকাঠামো যথাসময়ে সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আরো এগিয়ে যাবে।
শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার ভার্চুয়ালি বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বলেন, বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতির উন্নয়নে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন নীতির ব্যাপক চর্চা একান্ত প্রয়োজন। এজন্য উৎপাদনশীলতা উন্নয়নে আধুনিক কলা কৌশলের উপর প্রশিক্ষণ, সেমিনার, নতুন নতুন কৌশল, পদ্ধতি উপায়ে উদ্ভাবনী কর্মসূচির উপর গুরুত্ব দিতে হবে। শ্রমিক, মালিক ও সরকারকে একত্রে উৎপাদশীলতা কার্যক্রমের সফলতার জন্য কাজ করতে হবে। উৎপাদশলীতার চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে, যাতে বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে একটি উন্নত জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।
শিল্প প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করেছে, এসব লক্ষমাত্রা অর্জনে সব সেক্টরে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা অপরিহার্য।
শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো: গোলাম ইয়াহিয়া, ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন এর মহাপরিচালক মেজবাহ-উল-আলম অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রশাসন) মোঃ ফয়জুর রহমান ফারুকী স্বাগত বক্তব্য দেন।

ইন্দোবাংলা/এম. ই

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ