বুধবার, ১৬ Jun ২০২১, ১১:৩২ অপরাহ্ন

জয়পুরহাটে মাদ্রাসা ছাত্রকে উদ্ধার করেছে পুলিশ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম: সোমবার ৬ জানুয়ারী, ২০২০
  • ৭১৯ বার পঠিত

জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি:জয়পুরহাট জেলা পুলিশের তৎপরতায় উত্তরা হতে মাদ্রাসা ছাত্র উদ্ধার হলো হাবিবুল্লাহ সে জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার মূলগ্রাম গ্রামের আব্দুল করিম এর ছেলে।

হাবিবুল্লাহ (১৬)’কে অজ্ঞান পার্টির কবল হতে উত্তরা ১০নং সেক্টরের নিকটবর্তী আব্দুল্লাহপুর মধ্যপাড়া এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।

৪ জানুয়ারি শনিবার সন্ধ্যায় এই ঘটনাটি ঘটে।

কালাই থানার অফিসার ইনচার্জ জানান ভিকটিমের পিতা কালাই উপজেলার মূলগ্রাম দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদ এর ইমাম  আব্দুল করিম (৫০) এর ছেলে হাবিবুল্লাহ ঢাকা মিরপুরে অবস্থিত জামিয়া ইসলামীয়া হামিয়ুস সুন্নাহ কওমী মাদ্রাসায় পড়াশুনা করে।

সে তার দাদার বাড়ী পলাশ নরসিংদী হতে সন্ধ্যার দিকে ঘোড়াশাল বাইপাস হতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। সন্ধ্যার পর তার ছেলে হাবিবুল্লাহর সাথে একবার কথা হয়।

সন্ধ্যা ৭ টার দিকে পুনরায় হাবিবুল্লাহর সাথে তার পিতার কথা হলে তিনি লক্ষ্য করেন হাবিবুল্লাহ অস্বাভাবিকভাবে কথা বলছেন। তিনি সন্দেহ করেন হাবিবুল্লাহ হয়তো অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়তে পারে। পরে তিনি বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কালাই থানায় উপস্থিত হয়ে ডিউটি অফিসারের নিকট তার সমস্যাটি অবহিত করেন।

ডিউটি অফিসার  পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল মালেক এর সাথে কথা বলিয়ে দেন। জনাব আব্দুল মালেক নিজেও হাবিবুল্লাহর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলেন।

তার অস্বাভাবিক কথা শুনে তিনিও ধারনা করেন হাবিবুল্লাহ অজ্ঞান পার্টির দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। আব্দুল মালেক তখন কালাই থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল লতিফ খানের সাথে বিষয়টি আলাপ করেন এবং সহকারী পুলিশ সুপার (পাঁচবিবি সার্কেল), জয়পুরহাট ইশতিয়াক আলমকে বিষয়টি জানান।

সহকারী পুলিশ সুপার (পাঁচবিবি সার্কেল) তৎক্ষনাৎ পরিস্থিতি পুলিশ সুপার জয়পুরহাট মোহাম্মদ সালাম কবির, পিপিএম’কে অবহিত করেন।

পুলিশ সুপার মহোদয় ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবণ করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দিক নিদের্শনা প্রদান করেন এবং ভিকটিমের অবস্থান সনাক্তকরণ পূর্বক সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে তাকে দ্রুত উদ্ধারের নির্দেশ দেন।

তার দিক নির্দেশনা মোতাবেক আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় হাবিবুল্লাহর অবস্থান সনাক্ত করা হয়।

দেখা যায় সেই মূহুর্তে হাবিবুল্লাহ উত্তরা ১০নং সেক্টরের নিকটবর্তী আব্দুল্লাহপুর মধ্যপাড়া এলাকায় অবস্থান করছেন। বিষয়টি উত্তরা পশ্চিম থানাকে অবহিত করা হলে তারা সাথে সাথে একটি টহল পার্টি সেখানে প্রেরণ করেন। সেখানে উপস্থিত হয়ে টহল পার্টির ইনচার্জ এসআই ইউসুফ আলী দেখতে পান পলওয়েল মার্কেটের পাশে এনা কাউন্টারের নিকট একটি ছেলে দাড়িয়ে আছে।

তাকে তার নাম জিজ্ঞাসা করা হলে সে প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে অসুস্থতার কারণে তার কথা জড়িয়ে যায় এবং সে তার নাম পরিচয় কিছুই মনে করতে পারছেনা। তাকে পরবর্তীতে টহল পার্টি উদ্ধার করে হাবিবুল্লাহর ফোন হতে তার দুলাভাইকে অবহিত করা হলে তিনি টঙ্গী থেকে এসে রাত ১১ টায় হাবিবুল্লাহকে নিজ হেফাজতে গ্রহণ করে বাসায় নিয়ে যান।

হাবিবুল্লাহর পিতা আব্দুল করিম কালাই থানা পুলিশ ও ডিএমপি উত্তরা পশ্চিম থানার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণে তার ছেলে উদ্ধার হওয়ায় পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন তারা সঠিকভাবে দ্রুত এই পদক্ষেপটি না নিলে হয়তো আমার ছেলের প্রাণ বাঁচানো যেত না। জয়পুরহাট জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সালাম কবির, পিপিএম এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান বাংলাদেশ পুলিশ জনগণের সেবায় বদ্ধ পরিকর।

বর্তমান সরকার কর্তৃক ২০২০ সালকে মুজিববর্ষ ঘোষণা করা হয়েছে এবং এই বর্ষের স্লোগান “মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার”। উক্ত চেতনাকে ধারণ করে পুলিশ জনতার সেবায় সদা প্রস্তুত ও তৎপর। দ্রুততার সাথে পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে ছেলেটি উদ্ধার হওয়ায় আমরাও আনন্দিত।

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ