বুধবার, ১৬ Jun ২০২১, ১১:০৪ অপরাহ্ন

পিকনিক ট্র্যাজেডিতে নিহত ৯ শিক্ষার্থীর স্মরণে শোক র‌্যালি,স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ অর্পণ, শোক সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম: শনিবার ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ৩১২ বার পঠিত

আরিফুজ্জামান আরিফ : পিকনিক শেষে মুজিবনগর থেকে বাসে করে বাড়ী ফেরার পথে যশোরের চৌগাছায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯ শিক্ষার্থীর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বেনাপোলে শোক র‌্যালি,স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ অর্পণ, শোক সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির প্রধান মোস্তাক হোসেন স্বপনের সভাপতিত্বে  শোক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শার্শার সাংসদ আলহাজ্ব শেখ আফিল উদ্দীন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শার্শার সাংসদ আলহাজ্ব শেখ আফিল উদ্দীন বলেন,শিক্ষার মান উন্নয়নে দীর্ঘ ১১টি বছর ধরে আমি ধূলাবালি আর কাঁদা মাটিকে উপেক্ষা করে নিজ ব্যবসায়ীক সময় বিসর্জন দিয়ে শার্শা উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নের মাঠে ময়দানে বসে মায়েদের নিয়ে মা সমাবেশ করেছি। অনুভব করেছি শিক্ষিত জাতি গঠন ছাড়া এ দেশেরর উন্নয়ন কখনও সম্ভব নয়।শিক্ষার বিপ্লব ঘটাতে প্রতিনিয়ত মায়েদের রান্না খাওয়ার সময়ে তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনায় ভিক্ষা চেয়েছি। বলেছি, প্রত্যেক ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো জ্বেলে আমাকে “এ কটি করে” সু-সন্তান দাও। বিনিময়ে আমার সকল ধরনের সহযোগিতা শার্শাবাসীর পাথেয় হয়ে থাকবে।

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর কথা বলতে গিয়ে বক্তব্যের এক পর্যায়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন এমপি শেখ আফিল উদ্দীন। এসময় তিনি ঢুকরে ঢুকরে কেঁদে উঠেন আর উপস্থিত হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও মা-বাবাদের কাঁদিয়ে ফেললেন।

চশমা খুলে ছোখের কোণা মুছে আধো আধো বোলে তিনি বলেন, ক্ষমা করে দিও মা! আমরা পারিনি তোমার আদরের সোনামণি সুরাইয়া, জেবা, মিথিলা, রুনা আক্তার মীম, শান্ত ও সাব্বির হোসেন আঁখিকে বাঁচাতে। তবে, এখন থেকে শার্শা উপজেলার আর একটি স্কুল কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা দূর-দূরান্তরে পিকনিকে যাবে না।

স্মরণ সভায়  এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও  উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নুরুজ্জামান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রব, যশোর জেলা পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিল ও অহিদুজ্জামান অহিদ, বেনাপোল ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব বজলুর রহমান, শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রহিম সর্দার সহ বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন। এসময় নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য ২০১৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মুজিবনগরে পিকনিক শেষে বাসে করে বাড়ি ফেরার পথে চৌগাছা সড়কে বাস উল্টে বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬ শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে মারা যায়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয় আরো ১৯ শিক্ষার্থী। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ দিন পর মারা যায় আরও তিনজন।সেদিনের সে মৃত্যু কাঁদিয়েছিল বেনাপোলবাসীসহ গোটা দেশের মানুষকে।

প্রতিবছর এ দিনটিতে বেনাপোলে শোক র‌্যালি ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়ে থাকে। স্কুলটির সামনে নিহত ৯ শিক্ষার্থীর স্মরণে দৃষ্টিনন্দন একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করেছে বেনাপোল পৌরসভা।

 

 

 

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন


এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ